তারিখ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, সোমবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

নওগাঁয় রুপালি আমে ফ্রুট ব্যাগিং করে লাভবান হচ্ছে কৃষক

নওগাঁয় রুপালি আমে ফ্রুট ব্যাগিং করে লাভবান হচ্ছে কৃষক,যাচ্ছে দেশের বাহিরে
[ভালুকা ডট কম : ১০ জুলাই]
নওগাঁর সাপাহার উপজেলার সফল ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতির আম চাষি আব্দুর রাজ্জাক। তিনি গত বছর প্রথম ২০বিঘা জমিতে জেলার সবচেয়ে সুপরিচিত সুমিষ্ট আম রুপালিতে ফ্রুট ব্যাগিং করে বেশ লাভবান হওয়ায় এবারও একই জাতের ৪০বিঘা জমির আমেতে ফ্রুট ব্যাগিং করেছেন।তার মতে কিটনাশক, পোকামাকড়, বিরুপ আবহাওয়ার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে আমকে বাঁচাতে মূলত এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। তবে সরকারি ভাবে যদি এই ফ্রুট ব্যাগিং করার জন্য আম চাষীদের সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা হতো তাহলে বিষমুক্ত সুস্বাদু আম দেশের জনগন খেতে পারতো এবং বিদেশেও রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা যেতো বলে আশা এই আম চাষী রাজ্জাকের।

আমের ২য় রাজ্য হিসাবে খ্যাত নওগাঁর ঠাঁ ঠাঁ বরেন্দ্র অঞ্চল হিসাবে পরিচিত পোরশা,সাপাহার,পত্নীতলা ও ধামইরহাট উপজেলা। এই কটি উপজেলায় উৎপাদিত আম রাজশাহী ও চাপাইকেও ছাড়িয়েছে। কিন্তু রাজশাহী ও চাপাই জেলা আম চাষে অনেক পুরাতন হওয়ায় দেশের প্রচার-প্রচারনায় আম চাষে নওগাঁর নাম এখনো তেমন ভাবে সাড়া জাগাতে পারেনি। তবে বর্তমানে কৌশলী আম ব্যবসায়ীরা নওগাঁর আমকে রাজশাহী ও চাপাইয়ের বলে বেশি দামে বিক্রয় করছে। চলতি মৌসুমে নওগাঁর আমের প্রচার-প্রচারনার কাজ শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট উপজেলার কৃষি অফিসগুলো।

নওগাঁয় আম চাষে গত বছর থেকে শুরু হয়েছে ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতি। আর এতে করে লাভবান হচ্ছেন শত শত কৃষক। তবে কৃষকরা ফ্রুট ব্যাগিং করে থাকে এ জেলার সবচেয়ে সুপরিচিত সুমিষ্ট রসালো আম আম রুপালিতে। গত বছর ফ্রুট ব্যাগিং এর আম কানাডাসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে গিয়েছিল এবারও যাবে বলে আশা করছেন কৃষকরা। এ আমের চাহিদাও রয়েছে বেশ; কারন কিটনাশক ও রোগমুক্ত হয় এই আম। আর কৃষি বিভাগ বলছে, এটি আধুনিক ও পরিবেশসম্মত পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে উৎপাদিত আমে বিদেশে পাঠানোর জন্য যে সকল গুনাগুন প্রয়োজন তার সকল গুনাগুন বজায় থাকে। বিদেশে প্রচর পরিমানে আম রপ্তানিতে শুধু মাত্র সরকারের শক্তিশালী উদ্যোগই যথেষ্ট।

এটি নওগাঁর সাপাহারের ফ্রুট ব্যাগিং আম বাগানের দৃশ্য। গাছে গাছে ঝুলছে ব্যাগ; আর তার মধ্যেই সুরক্ষিত পুষ্ট আকর্ষনীয় আম রুপালি জাতের আম। এই পদ্ধতিকে বলা হয় ফ্রুট ব্যাগিং। বাহিরের ক্ষতিকারক পোকা-মাকড়, বিরুপ আবহাওয়া কিংবা কোন ক্ষতিকারক প্রভাবই এই ব্যাগের মধ্যে প্রবেশ করে আমের কোন প্রকার ক্ষতি করতে পারে না।

উপজেলার ইসলামপুর গ্রামের আব্দুর রহিম বলেন শুধু রাজ্জাক নয়; আগামীতে তার দেখে এ অঞ্চলের অনেকেই শুরু করবেন এই পদ্ধতিতে আম চাষ। ফ্রুট ব্যাগিং করার ফলে আম সকল পোকামাকড় ও দুষন থেকে রক্ষা পায় অথ্যাৎ বিষমুক্ত আম উৎপাদিত হয়। তবে এই পদ্ধতি একটু ব্যয়বহুল হলেও আম বিক্রয়ের লাভ তা পুষিয়ে দেয়। কারণ এই পদ্ধতিতে উৎপাদিত নির্ভেজাল আমের কদর ক্রেতাদের কাছে অনেক। ক্রেতারা একটু বেশি দামে হলেও এই বিষমুক্ত আম কিনেন। তাই অনেক আম চাষীরা উদ্বুদ্ধু হচ্ছেন এই পদ্ধতির দিকে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মনোজিত কুমার মল্লিক বলেন, এটি আধুনিক ও পরিবেশসম্মত পদ্ধতি। কৃষকদের এ বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করার জন্য সভা সেমিনার করা হচ্ছে। ফ্রুট ব্যাগিং আম বিষমুক্ত আম হওয়ায় তারা বাজারমুল্য ভালো পাবে। তবে এই পদ্ধতির উপকরনগুলোর মূল্য কম ও সহজলভ্য হলে এই পদ্ধতি দিন দিন বৃদ্ধি পাবে। কারণ বর্তমান ভেজালের যুগে নির্ভেজাল পন্য খুজে পাওয়া খুব কঠিন। যেহেতু এই পদ্ধতিতে উৎপাদিত আম বিষমুক্ত তাই বর্তমান সময় ও আগামীতেও এর কদর অটুট থাকবে বলে তিনি মনে করেন। তিনি আরো বলেন চলতি বছর নওগাঁ জেলায় প্রায় ৬০ হেক্টর জমিতে ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতিতে আম চাষ করা হয়েছে যা গত বছরের চেয়ে ৬গুন বেশি।#





সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

কৃষি/শিল্প বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ৫৩২ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই