তারিখ : ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮, বুধবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

নওগাঁ-০৪ আসন,প্রধান দুই দলেই প্রার্থীর হিড়িক

নওগাঁ-০৪ আসন,প্রধান দুই দলেই প্রার্থীর হিড়িক,দলীয় কোন্দলের সাগরে ভাসছে আ’লীগ  
[ভালুকা ডট কম : ১২ সেপ্টেম্বর]
জেলার সবচেয়ে বড় উপজেলা ও সংসদীয় আসন মান্দা। এটি নওগাঁ-৪ এবং জাতীয় সংসদের ৪৯ নম্বর নির্বাচনী এলাকা। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা এলাকায় সক্রীয়। নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে এ উপজেলায় নির্বাচনী আমেজ তত জোরে বইতে শুরু করেছে। নিজেকে নানান ভাবে তুলে ধরার চেষ্টায় ব্যস্ত মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। দিয়ে যাচ্ছেন নানা রকমের রঙ্গিন আশা আর ভরসা। তারা নানা অছিলায় যাচ্ছেন ভোটারদের কাছে। নিজেদের ছবি সংবলিত শুভেচ্ছা স্বরুপ ব্যানার ও পোস্টার সাটিয়েছেন প্রার্থীরা। সয়লাব হয়ে গেছে বিলবোর্ডেও।

বড় দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ছড়াছড়ি। দু’দলে অন্তত দু’ডজন মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রার্থী রয়েছেন। তবে উভয় দলের মধ্যে দলীয় কোন্দল এখানে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিএনপির দলীয় কোন্দল অনেক পুরাতন হলেও নতুন করে বড় ধরনের কোন্দলের সাগরে ভাসছে আ’লীগ। তাই আগামীতে কে মনোনয়ন পাবে তা নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারছেন না। তবে যে যার মতো উপরে লবিং করে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। আর জেলার মধ্যে স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছে মান্দা ভিআইপি আসন হিসেবে পরিচিত।

জেলা সার্ভার স্টেশন সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলা ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এই উপজেলার মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৮৯ হাজার ৬৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৪২ হাজার ২৭৩ ও মহিলা ভোটার ১ লাখ ৪৬ হাজার ৭৯৫ জন।

১৯৯১ সালে এ আসনে বর্তমান এমপি বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী মুহাম্মদ ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মাওলানা নাসির উদ্দিন জিহাদীর কাছে পরাজিত হন। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত পরপর তিনবার নিবার্চিত হন বিএনপির সামসুল আলম প্রামানিক। ২০০৮ সালের আওয়ামীলীগ থেকে মনোনয়ন পান উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শেখ মো: আব্দুল লতিফ। স্বতন্ত্র থেকে মনোনয়ন নেন মুহাম্মদ ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক। সে সময় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে প্রায় ২০ হাজার ভোটের ব্যবধানে ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী বিএনপির মনোনীত সামসুল আলম ও আওয়ামীলীগ মনোনীত আব্দুল লতিফ শেখকে পরাজিত করে বিজয়ী হন মুহাম্মদ ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক। ওই নির্বাচনে আব্দুল লতিফ শেখ প্রায় ৩৬ হাজার ভোট পান। এরপর ২০১৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসাবে আবার মুহাম্মদ ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক নির্বাচিত হন। এর কিছু পর তিনি বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী পদে ভূষিত হন।

জেলার মধ্যে সবচেয়ে অবহেলিত উপজেলা মান্দা। মুহাম্মদ ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক এমপি হওয়ার পর থেকে এ উপজেলার তেমন কোন উন্নয়ন লক্ষ্য করা যায়নি। দৃশ্যমান উন্নয়ন বলতে মান্দা শহীদ কামরুজ্জামান টেক্সটাইল ইন্সটিটিউট, মান্দা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স, ঠাকুর মান্দা শীব নদীর উপর ব্রীজ। জেলার অন্যান্য উপজেলা থেকে উন্নয়নের দিক দিয়ে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। রাস্তাঘাটের অবস্থাও বেহাল। কাঙ্খীত উন্নয়ন না হওয়ায় মান্দাবাসীদের বিস্তুর অভিযোগ। এছাড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের গত এক যুগের অধিক সময় থেকে কোন সম্মেলন হয়নি। এছাড়া সভাপতি পদে জামায়াত নেতাকে বসানো হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এনিয়ে দলী নেতাকর্মীদের মধ্যে চাপাক্ষোভ বিরাজ করছে। তৃনমূল নেতাকর্মীদের সাথে তেমন যোগাযোগ করে না পদে থাকা আ’লীগ নেতারা। অনেকটাই নিস্ক্রিয় অবস্থা উপজেলা আওয়ামীলীগের কার্যক্রম। নামে মন্ত্রী হলেও সকল কার্যক্রম করেন উপজেলা আ’লীগের সভাপতি এমাদাদুল হক মোল্লা। এমন অভিযোগ কিছু দলীয় নেতাকর্মীদের। তবে বয়সের ভারে মন্ত্রী অনেকটাই ন্যুব্জ ও অসুস্থ। মাঠে দলীয় কার্যক্রম অনেকটাই নিস্ক্রিয়। আর এ সুযোগে কিছু নতুন মুখের আবির্ভাব ঘটেছে। তাই অনেকের ধারনা নতুন করে কোন্দলের সাগরে ভাসছে আ’লীগ। আগামী নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ন এ আসনটিতে নৌকার মাঝি হওয়ার জন্য অনেক মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রার্থীরা জোর তৎপর চালাচ্ছেন।

দলীয় মনোনয়ন পেতে যে যার মতো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। নিজেদের প্রচার প্রচারনা করতে এলাকায় বিভিন্ন শুভেচ্ছা স্বরুপ ব্যানার ও পোস্টার সাটিয়েছেন। এমনকি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেইসবুকে নিজেদের গণসংযোগের ছবি ছড়িয়ে দিয়ে প্রচারনা চালাচ্ছেন। নিজের অবস্থান জানান দিতে প্রচার প্রচারনা করছেন। তৃনমূল নেতাকর্মীদের খোঁজখবর ও নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ ব্যক্ত করে দোয়া চাচ্ছেন। বিভিন্ন জনসভা, সামাজিক সংগঠনের অনুষ্ঠান, তাফসির, জলসায়, মন্দীরে যাচ্ছেন।

আওয়ামী লীগে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে এগিয়ে রয়েছেন জেলা আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল বাকী, মান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান ও সহ-সভাপতি ব্রহানী সুলতান মামুদ গামা।

এছাড়া মান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা সরদার জসিম উদ্দিন, সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ শেখ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম, আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মির্জা মাহবুব বাচ্চু, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের আজীবন সদস্য ডা. আব্দুর রহমান মনোনয়ন পাওয়ার লক্ষ্যে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী মুহাম্মদ ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন কি না তা এখনো জানা যায়নি। তবে একাধিক বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে বয়সের কারণে মন্ত্রী আর নির্বাচনে অংশগ্রহণ নাও করতে পারেন।

জানতে চাইলে অ্যাডভোকেট মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান বলেন, এলাকাবাসী মন্ত্রী পেলেও সেই তুলনায় কাঙ্খিত কোনো উন্নয়ন পায়নি। উন্নয়ন হয়েছে মন্ত্রী ও মন্ত্রীর পোষা নেতাদের পকেটের। পকেট কমিটি থাকার কারণে স্থানীয় আওয়ামী লীগের শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে। দীর্ঘদিনেও কোন সম্মেলন হয়নি। এমদাদুল হক মোল্লা কখনোই আওয়ামী লীগ করেনি। অথচ উপজেলা আ’লীগ সভাপতি পদ দেয়া হয়েছে। তার ছেলেদের দিয়ে দুর্নীতি, লুটপাট, টেন্ডারবাজী, বালু মহল দখল, চাকরি, নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে সিন্ডিকেট করে কোটি কোটি টাকা আয় করেছেন। আমি ব্রক্তি উদ্যোগে গত বন্যায় এলাকার বন্যার্ত ও শীতার্তদের মাঝে সহযোগীতা করেছি। মাঠ গুছিয়ে নিয়েছি। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়ন ও এলাকার উন্নয়ন সাধনের বাহক হিসাবে তৃনমূলের জনপ্রিয়তা আর বিচারের প্রেক্ষিতে দল আমাকেই মনোনয়ন দেবে বলে আমি শতভাগ আশাবাদী।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে পড়াকালীন ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত ছিলেন জেলা আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল বাকী। তার বাবা সাহাবুদ্দিন আহমেদ ছিলেন আওয়ামী লীগের নিবেদিত প্রাণ এবং মান্দা উপজেলার কসব ইউনিয়নে পরপর তিনবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান। শুধু নির্বাচন নয় বাবার রেখে যাওয়া মানকে ধরে রাখার জন্য বাকী এই উপজেলার গরীব-অসহায় মানুষের পাশে থেকে দীর্ঘদিন যাবত তাদের সেবা করে আসছেন নিজের সাধ্য মতো। তিনি গত বছর ভয়াবহ বন্যায় বন্যাদুর্গত মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণসহ বিভিন্ন সামাজিক ও জনসেবামূলক কাজ অব্যাহত রেখেছেন।

অ্যাডভোকেট আব্দুল বাকী বলেন, স্বল্প সময়ে মাঠে নেমে যে ভালবাসা পেয়েছি তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। এ উপজেলার রাজনৈতিক অবস্থা এলোমেলো। মন্ত্রীর এলাকা হয়েও মান্দাবাসীর স্বপ্ন ও প্রত্যাশা এখনও পূরণ হয়নি। নির্বাচন উপলক্ষে উপজেলার প্রতিটি ওয়ার্ড, গ্রাম, ও ইউনিয়ন ঘুরে জনগনের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া আমি লক্ষ্য করেছি। উপজেলাবাসী বর্তমানে নতুন মুখ চায়। তৃনমূলের জরিপের ভিত্তিতে আমাকে উন্নয়নের প্রতীক নৌকা মার্কার মনোনয়ন দেওয়া হলে শেখ হাসিনার হাতকে আরও শক্তিশালী করতে শাসক হিসেবে নয়, সেবক হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করবো। উপজেলায় দলীয় কোন্দলকে কবর দিয়ে নতুন করে আ’লীগকে সুসজ্জিত ও সুসংগঠিত করতে সক্ষম হবো বলে আমি শতভাগ আশাবাদী। প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে সুযোগ দিলে আমি নতুন করে এলাকাবাসীর সেবা করতে চাই।

গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের তৃণমূলের ভোটে নির্বাচিত দলীয় প্রার্থী ছিলেন সহ-সভাপতি ব্রহানী সুলতান মামুদ গামা। কিন্তু দলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে একই পদে নির্বাচন করেন মান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সরদার জসিম উদ্দীন। এ দুইয়ের দ্বন্দ্বে শেষ পর্যন্ত ৬৩৭ ভোটে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী আব্দুর রশিদের কাছে পরাজিত হন গামা।

জানতে চাইলে গামা বলেন, সার্বক্ষণিক আমি এলাকার মানুষের পাশে আছি। নির্বাচনী মাঠ গুছিয়ে নিয়েছি। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিককে আমি শ্রদ্ধা করি। বয়সের ভারে তার শারীরিক অবস্থা অনেকটাই খারাপ। আসনটি ধরে রাখতে নতুন মুখের প্রয়োজন। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন পেলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস আমি বিজয়ী হব।

নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দল থেকে মনোনয়ন পেলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিকের কাছে নৌকা প্রতীক নিয়ে পরাজিত হন আব্দুুল লতিফ শেখ। তিনি আবার মনোনয়নের আশায় নির্বাচনী মাঠে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি আশাবাদী এবার তাকে নৌকা প্রতীক দেওয়া হলে অবশ্যই তিনি বিজয়ী হবেন।তিনি বলেন, গত বন্যায় এলাকার বর্নাত্যদের এবং বিভিন্ন সামাজিক কাজে সহযোগীতা করে থাকি। মান্দার দক্ষিণ এলাকায় আওয়ামী লীগের সমর্থন কোনো দিন ভালো ছিল না। কিন্তু আমার বাড়ি ওই এলাকায় হওয়ায় এখন চিত্র অনেকটাই পাল্টে গেছে। আমাকে মনোনয়ন দেওয়া হলে এই এলাকার ভোটাররা নৌকাতেই ভোট দিবেন।

বিএনপির সাবেক এমপি ও বর্তমান উপজেলা বিএনপির সভাপতি সামসুল আলম প্রামাণিক দুর্ঘটনাজনিত অসুস্থতায় তিনি রাজনীতির জগতে অনেকটাই নিস্ক্রীয়। আর এসুযোগে নতুন মুখের আগমণ ঘটেছে। নিজেদের প্রার্থীতা জানান দিতে প্রচারনা প্রচার করছেন। নেতাকর্মীদের সাথে কুশল বিনিময় ও খোঁজখবর নিচ্ছেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সাবেক এমপি সামসুল আলম প্রামাণিক, নওগাঁ জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা: ইকরামুল বারী টিপু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সদস্য উদিয়মান মেধাবী মুখ আব্দুল মতিন, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মাহাবুব আলম চৌধুরী, কেন্দ্রীয কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আলহাজ্ব আক্কাস আলী মোল্লা, মান্দা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মকলেছুর রহমান মকে, সহ-সভাপতি মনোজিৎ কুমার সরকার ও ইসাহাক আলী সেন্টু। এদের মধ্যে ডা: ইকরামুল বারী টিপু ও আব্দুল মতিনের অবস্থান সুবিধাজনক।

বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য সামসুল আলম প্রামাণিক বলেন, দুর্ঘটনার কারণে তাকে দেশ-বিদেশে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। এখন অনেকটা সুস্থ। তবে আমার অনুপস্থিতিতে আমার কমিটির সদস্যরা কাজ করছেন। সাংগঠনিক, সামাজিক কাজ সুষ্ঠুভাবেই চলেছে। মাঠের জনগন আমায় চায়। আমি মনোনয়ন পাব নিশ্চিত এবং বিজয়ী হব।

নওগাঁ জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা: ইকরামুল বারী টিপু। যিনি বিগত দিনে মান্দা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ছিলেন। রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজে ছাত্র থাকা অবস্থায় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সক্রিয় একজন কর্মী হিসেবে তিনি স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে অংশ গ্রহণ করেন। পরে তার নেতৃত্বেই মান্দা উপজেলায় আধুনিক বিএনপি সুপ্রতিষ্ঠিত হয়। রাজনৈতিক কারণেই তিনি একসময় সরকারী চাকরি ইস্তফা দিয়ে অদ্যাবধি দলের একজন নিবেদিত কর্মী হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গণসংযোগ, উঠান বৈঠক, ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পসহ নানাবিধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

ডা: ইকরামুল বারী টিপু বলেন, ২০০৯ সালে মান্দা উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলাম। ক্ষমতায় থাকাকালীন সীমিত সুযোগের মধ্যেই এলাকার অনেক উন্নয়ন্নমূূলক কাজ করেছি। সার্বক্ষনিক এলাকার মানুষে পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। আমার নির্বাচনী মাঠের অবস্থান ভাল। নেতাকর্মীদের উপর হামলা, মামলা, জেল-জুলুম থেকে রক্ষায় সার্বক্ষণিক পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। সর্বোপরি দলের একজন নিবেদিত কর্মী হিসেবে আগামী নির্বাচনে দল আমাকে মূল্যায়ন করে মনোনয়ন দিবে বলেই বিশ্বাস করি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক, বিএনপির কে›ন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সদস্য উদিয়মান নতুন মেধাবী মুখ আব্দুল মতিন। তিনি বলেন, বন্যার সময় ত্রাণসামগ্রী বিতরণসহ অনেক জনসেবামূলক কাজের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছি অনেক আগে থেকেই। নির্বাচন করার জন্য জোরালো ভাবেই মাঠে নেমেছি। এ উপজেলায় যারা বিএনপি করেন তাদের তুলনায় আমি সিনিয়র। স্বাভাবিক ভাবে আমার প্রত্যাশাটা বেশি। আর একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী থাকাটাই স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে দল থেকে আমাকে মনোনয়ন দিলে শতভাগ আশাবাদী যে আমি বিজয়ী হবো। কারণ উপজেলাবাসী আগামী নির্বাচনে আর পুরাতন মুখ দেখতে চায় না। তারা চায় পরিবর্তন। আর আমি আশাবাদী তৃনমূলের ভিত্তিতে যদি দল আমাকে মনোনয়ন দেয় তাহলে আমি অবশ্যই নতুন রের্কড করে বিজয়ী হবো।

বিভিন্ন শুভেচ্ছা বানী দিয়ে ব্যানার ও পোষ্টার সাটিয়েছে তরুন নেতা  নওগাঁ জেলা জাতীয় পার্টির সহ-সভাপতি ও উপজেলা সভাপতি আলতাফ হোসেন। এলাকায় জাতীয় পার্টিকে উজ্জ্বিত করতে নিয়মিত সভা, সেমিনার ও দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ রাখেন। আগামী একাদশ জাতীয় সাংসদ নির্বাচন নিয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, মহাজোট থেকে মনোনয়ন দেয়া হলে নির্বাচনে অংশ নিবো।

জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী ড. এনামুল হক বলেন, বর্তমানে এই উপজেলায় আওয়ামীলীগ ও বিএনপির দলীয় কোন্দল চলছে। এ অবস্থায় জাতীয় পার্টি চেষ্টা করছে মহাজোট থেকে তাদের দলীয় প্রার্থিতা নিশ্চিত করতে। জাতীয় পার্টির সংগঠনের শক্তিশালী অবস্থানের কারণে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমি মনোনয়ন পাব বলে আশাবাদী।

এছাড়া বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ডা. ফজলুর রহমান ও জেলা জামায়াতের আমির খন্দকার আব্দুর রাকিব নির্বাচনী প্রচার প্রচারনা পোস্টার ও ব্যানার সাটিয়েছেন। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারা প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবেন বলে জানা গেছে।#



সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

রাজনীতি বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ৫৪৫ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই