তারিখ : ২২ অক্টোবর ২০১৮, সোমবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

ভালুকায় মিটার প্রতি ১০হাজার টাকা দিয়েও মিলছে না বিদ্যুৎ

দালালদের দাবি আরো ছয় হাজার করে
ভালুকায় মিটার প্রতি ১০হাজার টাকা দিয়েও মিলছে না বিদ্যুৎ
[ভালুকা ডট কম : ২০ সেপ্টেম্বর]
‘তিন মাসের মাঝে বাড়িতে পল্লী বিদ্যুৎ দেয়ার কথা বলে দেড় বছর আগে কানের দোল,ছাগল বিক্রি ও উচ্চ সুদে নিয়ে টাকা প্রতি মিটার থেকে দশ হাজার টাকা করে নিয়েছে স্থানীয় দালালরা। কিন্তু আমরা এখনো বিদ্যুৎ পাচ্ছি না। দিবে, দিচ্ছে বলে দেড় বছর পার করে দিল। দালালরা এখনো আর ছয় হাজার টাকা করে চাচ্ছে।’ কথা গুলো সমস্বরে বলে ছিলেন, ভালুকা উপজেলার কাদিগড় নয়াপাড়ার বেশ কয়েকজন নারী-পুরুষ।

জানাযায়, কাদিগড় নয়াপাড়ার রফিকুল ইসলাম,পাশের পাড়াগাঁও শিরিরচালার মো. আবুল হোসেন ও মল্লিকবাড়ি ইউনিয়নের মামারিশপুর গ্রামের আবদুল কাদির নয়াপাড়ায় তিন মাসের মধ্যে পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ দেয়ার মৌখিক চুক্তিতে প্রতি মিটার মালিকের কাছ থেকে ১৬হাজার টাকা করে দাবি করেন। ওই টাকার মধ্যে ১০হাজার টাকা অগ্রিম এবং ঘরে সংযোগ পাওয়ার পর বাকি ৬হাজার টাকা দিতে হবে। ফলে, বিদ্যুৎ পাওয়ার আশায় নয়াপাড়ার লোকজন প্রায় ১৮মাস আগে ২৪ঘন্টার মাঝে ১০হাজার টাকা করে দালাল চক্রের সদস্য রফিকুল ইসলাম,আব্দুল কাদির, আবুল হোসেনে হাতে তুলে দেয়। এদিকে টাকা দেওয়ার পর ১৮মাস অতিবাহিত হলেও অদ্যবাধি বিদ্যুৎ সংযোগ পাননি। এখন মিটার প্রতি আরো ৬হাজার টাকা করে দাবি করছে ওই দালাল চক্র। অথচ একই মাস্টার প্লানের আওতায় পাশের গ্রামটি বিদ্যুতায়িত হয়েছে অনেক আগেই। গ্রামবাসী ওই ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ একাধিক স্থানে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

সরেজমিনে গেলে, নয়াপাড়ার নূরুল ইসলামের স্ত্রী তাছলিমা আক্তার জানান, চব্বিশ ঘন্টার মাঝে  টাকা না দিলে বিদু্যুৎ পাওয়া যাবে না, হাতে টাকা নেই। বিদ্যুতের আশায় বিশ হাজার টাকা দামের দুটি ছাগল দশ হাজার টাকায় বিক্রি করে তাদেরকে দিয়েছি।লেহেম উদ্দিন বলেন, সুদে ঋণ করে বিদ্যুতের জন্য দশ হাজার টাকা দিয়েছি। সুরাইয়া জানান, আমার কানের একজোড়া ঝুমকা বিক্রি করে টাকা দিয়েছি।

ওই গ্রামের লাইন নির্মাণের কাজটি পেয়েছেন রাসেল এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যার মলিক এমারত হোসেন। মোবাইলে কথা হলে মো.রফিকুল ইসলাম জানান, আমি টাকা তুলিনি আবুল হোসেন টাকা উঠিয়ে আমাকে দিয়েছে। আবুল হোসেন জানান, তার কাছে দেওয়া টাকা তিনি রফিক ও কাদিরের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন।

আবদুল কাদির অকপটে বলেন,টাকা ছাড়া কিছুই হয় না, একটা নতুন লাইন করতে হলে অনেক টাকা লাগেই। যে টাকা গ্রাহকদের কাছে থেকে তুলা হয়েছে সেই টাকা থেকে বিদ্যুতের লাইন অনুমোদন থেকে শুরু করে স্ট্যাকিং, ডিজাইন ও স্টোর হতে মালামাল বের করার জন্যে এক ঠিকাদার এমারত হোসেনের মাধ্যমে অফিসে ৫০হাজার এবং লাইন নির্মাণ করে সংযোগ দেওয়ার জন্য ঠিকাদারকে ৫০হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।ঠিকাদার এমারত হোসেন বলেন,নয়াপাড়া লাইনের কথা বলে কারো কাছ থেকে কোনো টাকা পয়সা নেইনি,এমন কি রফিক নামে আমি কাউকে চিনি না।

ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর জি,এম জহিরুল ইসলাম বলেন,নয়াপাড়ার কোন অভিযোগ আমার কাছে আসেনি। তবে, অনিয়মের সাথে অফিসের কেউ বা সংশ্লিষ্ট কাজের ঠিকাদার জড়িত থাকার অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুদ কামাল বলেন, নয়াপাড়ার বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।#





সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

ভালুকা বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ৫৩৪ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই