তারিখ : ১৭ নভেম্বর ২০১৮, শনিবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

ভালুকায় আমন ফলন বিপর্জয়ের আশংকা

ভালুকায় আমন ক্ষেতে পাতাপোড়া ও ছত্রাক আক্রমন ফলন বিপর্জয়ের আশংকা
[ভালুকা ডট কম : ২১ অক্টোবর]
ভালুকা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রাম গুলিতে কৃষকের আমন ক্ষেতে ইঁদুরের আক্রমন, খোলপঁচা ও পাতামোড়ানো রোগের পাশা পাশি পাতাপোড়া ও ছত্রাক রোগ ব্যাপক আকারে দেখা দেয়ায় অনেকে ফসলের আশা ছেরে দিয়েছেন। ক্ষেতে ধান না বেরোতেই পাতা হলদে হয়ে সোনালী রং ধারন করেছে। এ হেন পরিস্থিতিতে চলতি আমন মৌসুমে ফসলের কাংখিত ফলন বিপর্জয়ের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।কৃষকরা বলতে পারেননা কি কারনে একের পর এক আমন ধানে রোগ বালাই দেখা দিচ্ছে। অনেকেই ডিলারদের দোকান হতে কীটনাশক কিনে এনে দিচ্ছেন আক্রান্ত ক্ষেতে। কারও ফল হচ্ছে কারও হচ্ছেনা।

বৃহস্পতিবার সরজমিন হবিরবাড়ী ইউনিয়নের বারশ্রী গ্রামে গিয়ে দেখা যায় বেশীরভাগ আমন ক্ষেতে ধান বের না হতেই গুছার পাতা হলুদ রং ধারন করে পাতার উপরের অংশ মরে শুকনো খরের মত দেখাচ্ছে। এ সময় কৃষক আবুল হোসেনের ছেলে মফিজ উদ্দীন জানান তাদের প্রায় ২ একর জমির থোর ধান হলুদ হয়ে মরে যাচ্ছে, সীডষ্টোর বাজারের জনৈক ডিলারের দোকান থেকে কীটনাশক এনে ক্ষেতে দিয়েছেন কোন ফল হয়নি। একই গ্রামের আফতাব উদ্দীনের ৩ একর, মকবুল হোসেনের ১ একর, নূরুল ইসলামের ১একর, আশ্রব আলীর ৪ একর, আব্দুর রশীদের ১ একর সহ অসংখ্য চাষীর ক্ষেতের সবুজ ধান গাছ হলুদ হয়ে মরে যাচ্ছে। এসব চাষীরা জানান বীজতলা তৈরী হতে শুরু করে ক্ষেত তৈরী, পানি সেচ, ধান রোপন, সার কীটনাশক, ঘাস বাছাই সব মিলিয়ে প্রতি কাঠা জমির জন্য ২৫শ থেকে ৩ হাজার টাকার মত খরচ হয়েছে। মাঠে ধানের যে অবস্থা তাতে ঘরে ফসল তোলার কোন আশাই নেই বলে তারা জানান। তাদের একটাই কথা এসব রোগ বালাই কোনটারই নাম জানেন না।

আবার চোখে পরে কিছু কিছু ছত্রাক আক্রান্ত ক্ষেতে ধান গাছ মরে শুকিয়ে খরে পরিণত হচ্ছে। চোখ না ফেরানোর মতো অবস্থা মল্লিকবাড়ী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে। ওই ইউনিয়নের ধামশুর গ্রামে গিয়ে দেখাযায় আমন ক্ষেতের দুরবস্থা। রাস্তার দুইপাশের ক্ষেতের ছত্রাক আক্রান্ত ধানগাছগুলি রোগ বালাইয়ের সাথে যুদ্ধে হেরে যেন মৃত্যুর কোলে ঢলে পরছে। আবার পাতা পোরা হলুদ ধানক্ষেতগুলি সামান্য দুর থেকে দেখে মনে হয় যেন পাকা ধান ক্ষেতে সোনালী রং ধারণ করেছে, অনেক ক্ষেতের মাঝখানে ধান মরে খালি হয়ে আছে। একুব আলী ফকিরের ছেলে নুর মোহাম্মদের ৬ কাঠা জমির একটি গোছাও হলদে হওয়ার বাকি নেই, অথচ এ সময় সবুজ পাতার বুক চিরে ধানের থোর বের হওয়ার কথা। এ পরিস্থিতিতে তারা ধানের আশা ছেরে দিয়েছেন বাকিটা আল্লাহর ইচ্ছা।

মানিক মিয়া জানান তিনি স্বর্ণলতা ও ব্রী-ধান-৪৯ জাত আমন আবাদ করেছেন, তার ক্ষেতেও এসব রোগ দেখা দিয়েছে। ধামশুর গ্রামের প্রায় সব গুলি আমন ক্ষেতের একই অবস্থা। উপজেলার, কাঠালী, খারুয়ালী, বনগাঁও, হাতিবের, মেদুয়ারী, বনকূয়া, কাতলামারী,নারাঙ্গী,পাঁচগাও, উথুরা,মরচি, চামিয়াদী, পানিভান্ডা, ভান্ডাব, ভয়টাপাড়া, নয়নপুর, তামাট, কাচিনা, পাড়াগাঁও, গৌরিপুর, তালাব, রাজৈ, স্বজনগাঁও, নারাঙ্গী, টাসকাপাড়া সহ বিভিন্ন গ্রামে আমন ক্ষেত ছত্রাক ও পাতাপোড়ায় আক্রান্ত হয়েছে।

উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্য মতে চলতি মৌসুমে ভালুকায় ১৯ হাজার ৫৮৫ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে। ভালুকা পৌর এলাকা সহ উপজেলার ১১ ইউনিয়নে ৩৪ টি কৃষি ব্লক রয়েছে যে সব ব্লকের চাষীদেরকে চাষাবাদ সংক্রান্ত সব রকম বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেয়ার জন্য ৩৪ জন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রয়েছেন যারা স্বশরীরে স্ব-স্ব ব্লকে উপস্থিত হয়ে ফসলের ফলন বৃদ্ধি ও রোগ বালাই প্রতিরোধে কাজ করবেন।

প্রত্যন্ত এলাকাঘুরে চাষীদের সাথে কথা বলে বুঝা যায় আক্রান্ত ক্ষেতগুলি কর্মকর্তাদের নজরে আসেনি। কারন মাঠে আমন ধানের এ জাতীয় রোগ বালাইয়ের কোন তথ্য উপজেলা কৃষি অফিসে নেই। শণিবার উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদের সাথে মোবাইল ফোনে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি জানান কোন কোন এলাকায় ধান সামান্য হলুদ হয়েছে তবে ব্যাপক আকারের কোন খবর তার জানা নেই, তারা খোজ নিবেন।

ভালুকা উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার সব গ্রামের আনাচে কানাচে আমন ধানের আবাদ হয়েছে। চাষীদের  দাবী সময় নিয়ে স্বরজমিন এসে তাদের ক্ষেতের সমস্যা গুলি চিহ্নিত করে স্থায়ী সমাধানের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।#





সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

ভালুকা বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ৫৩৯ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই