তারিখ : ২৪ এপ্রিল ২০১৯, বুধবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

ভালুকায় মৌসুমী ফল ফসলের আবাদ করে লাখোপতি পাহাড়ী

ভালুকায় মৌসুমী ফল ফসলের আবাদ করে লাখোপতি আবুল কাসেম পাহাড়ী
[ভালুকা ডট কম : ০৯ মার্চ]
ভালুকা উপজেলার সাতেঙ্গা গ্রামে প্রাচীর বিহীন বৃক্ষলতার মাঝখানে একটি ছোট্র লোহার ফটকের উপরে লেখা“ বঙ্গবন্ধু পাহাড়ী বাগান বিলাস এন্ড এগ্রোসীড কোম্পানী” দেখে কৌতুহল নিয়ে নখ করতেই  মুজিব কোট পরা ৯/১০ বছরের একটি মেয়ে ফটকের দরজা খুলে দেয়। ভিতরে প্রবেশ করতেই চোখে পরে বাড়ীর চারি পাশে নানা ফল ফসলের সমারোহ। উপস্থিতি টের পেয়ে বেরিয়ে আসেন গৃহকর্তা আবুল কাসেম পাহাড়ী।

পরিচয়ে জানাগেলো ভালুকার সাবেক এমপি ভাষা সৈনিক মরহুম মোস্তফা এম এ মতিনের ভাতিজা তিনি, তারা বহু পূর্ব হতেই আওয়ামীলীগ পরিবারের সদস্য। কোটি কোটি কৃষকের প্রাণের নেতা জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি ধারণ করে তিনি দুই একর জমিতে ১৯৯৩ সনে এই কৃষি বাগানটি করেছেন সম্পুর্ণ নিজস্ব পদ্ধতিতে।

তিনি প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচ করে একটি স্যালু মেশিন স্থাপন করেছেন জমিতে সেচ কার্যক্রম চালানোর জন্য। একপাশে ১৫ ফিট প্রস্থে ৭/৮ ফিট গভীর করে প্রায় দেড় দুইশত ফিট লম্বা একটি খালের মত তৈরী করে তাতে দেশী শিং মাগুর, টাকি,কার্পু, সরপুটি মাছের চাষ করেছেন। প্রথমে তিনি চন্দন কাঠের বাগান করেন। লাভ জনক না হওয়ায় পরবর্তীতে আকাশ মনির বাগান করে প্রায় ৫ লাখ টাকার গাছ বিক্রি করেন। ২০১৭ সালে কলার বাগান করে প্রথমে দেড় লাখ টাকার কলা বিক্রি করেন। পরে ওই বাগান হতে ৮০ হাজার টাকার কলা বিক্রি করেন।

“কৃষকের এক শতাংশ জমিও যেন পতিত না থাকে” মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার এই ভাষনটি শোনার পর তিনি প্রতিজ্ঞা করেন বাড়ীর জমিটুকু বাদ দিয়ে সমস্ত জমিতেই তিনি চাষাবাদ করবেন। এর পর হতে যে জমি সবুজ ঘাসে ভরা সম্পুর্ণ গোচারণ ভূমি ও চলাচলের রাস্তা ছিলো দিন রাত পরিশ্রম করে কোদাল কুপিয়ে সেখানে তিনি ফল ও ফসলের আবাদ শুরু করেন। কিছু জমিতে বছরের খোরাকি হিসেবে ধানের আবাদ করেন। আবার কিছু জমিতে মৌসুমী ফসল মিষ্টি লাউ, শীতলাউ, সীম, শশা, গাজর, টমেটো, ধনিয়া, খীরা ইত্যাদি চাষ শুরু করেন। ফলের মধ্যে বারো মাসি জাতের বিভিন্ন ফল সহ মৌসুমী ফল যেমন কাঠাল, আম,জাম, জামরুল, টক ও মিষ্টিকুল, কদবেল, গোলাপজাম, করমচা, জাম্বুরা, তেতুল, আতাফল, বিভিন্ন জাতের পেপে, দেশী,রঙ্গীন ও কাজু পেয়ারা, সজনা বিভিন্ন জাতের লেবু তিনি আবাদ করেন। এ ছারা বাড়ীতে রয়েছে দেশী হাঁস মুরগী ।  নিজে খেয়ে আত্মীয় সজনদের বিলিয়ে বছরে আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা আয় করে থাকেন।

সংসার খরচ ও উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে বছর শেষে ৪০/৫০ হাজার টাকা উদ্বৃত্ত থাকে। স্ত্রী আছিয়া খাতুন রিনা গৃহস্থালীর পাশাপাশি তাকে কৃষি কাজে সাহায্য করেন। বড়মেয়ে লুৎফুনন্নাহারের বিয়ে হয়েছে, মেঝো মেয়ে তাছমিয়া ফোরকান (১৩) অষ্টম শ্রেণীতে লেখাপড়া করেন। ছোট মেয়ে আফনান হাদিছা (১০) সাতেঙ্গা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী বঙ্গবন্ধুর ভাষন প্রতিযোগিতায় ইউনিয়নে প্রথম স্থান অধিকার করে।

ফল ফসল ছাড়াও বিভিন্ন ফুলের গাছে ভরা তার ছোট কৃষি বাগানটি নজর কারার মত। বাগানটিতে সারা বছর তিনি নিজের পরিশ্রমের দ্বারা ফল ও ফসল উৎপাদন করে সংসারে সচ্ছলতা এনেছেন। তবে মুলধনের অভাবে কৃষি খামারটি ব্যাপক পরিসরে বিস্তার লাভ করতে পারছেননা।

ভালুকা উপজেলার মল্লিকবাড়ী ইউনিয়নের এ গ্রামটি বিল বিলান্তি ও ছোট বড় উঁচু টেক টিলা বেষ্টিত আধা পাহাড়ী  অঞ্চল হিসেবে অপার সৌন্দর্যের দৃষ্টি নন্দন দৃশ্যপটে ভরপুর। আবুল কাসেম পাহাড়ী মনে করেন ইচ্ছে ও বুদ্ধি খাটিয়ে সঠিক পদ্ধতিতে কাজ করতে পারলে অল্প জমিতে কৃষিতে যে কোন লোক অনায়াসে বেকারত্ব দুর করে পরিবারে সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবে। তবে এ জন্য চাষাবাদ সংক্রান্ত উপযুক্ত জ্ঞান, কলা কৌশল ও সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে ফেলে রাখা পতিত জমি গুলি কৃষি আবাদের অন্তর্ভূক্ত করে প্রতিটি পরিবার, প্রতিটি পাড়া, গ্রাম তথা দেশকে খাদ্যে সয়ং সম্পুর্ণ করে অর্থ নৈতিক সমৃদ্ধি অর্জণ সম্ভব। তার মতে এ জন্য সরকারের কৃষি বিভাগের অংশ গ্রহন মুলক তৎপরতা বৃদ্ধি প্রয়োজন যার ছোঁয়া তার খামারটিতে লাগেনি।#





সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

ভালুকা বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ৫৭১ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই