তারিখ : ২৩ জুলাই ২০১৯, মঙ্গলবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

নওগাঁর আমের বাজার ল্যাংড়া ও হিম সাগরের দখলে

নওগাঁর আমের বাজার ল্যাংড়া ও হিম সাগরের দখলে
[ভালুকা ডট কম : ১৪ জুন]
বর্তমানে দেশের ঐতিহাসিক জেলা নওগাঁ আমের দ্বিতীয় রাজ্য বলে পরিচিতি পেয়েছে। এখন নওগাঁর ঠাঁ ঠাঁ বরেন্দ্র অঞ্চলে উৎপাদিত আমের সুনাম দেশ জুড়ে। শুধু দেশেই নয় লাল সবুজের গন্ডি পেরিয়ে এখন বিদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে নওগাঁর আম বিশেষ করে নওগাঁর মাটিতে জন্ম নেওয়া নাকফজলী। এর পাশাপাশি রয়েছে নওগাঁয় উৎপাদিত ল্যাংড়া ও হিম সাগর আমের সুনাম।

নওগাঁর বরেন্দ্র অঞ্চল পোরশা, সাপাহার, নিয়ামতপুর, পত্নীতলা ও ধামইরহাট উপজেলা। এর মধ্যে সাপাহার উপজেলা সদরে রাস্তার দু’পার্শ্বে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকা জুড়ে স্থাপিত কয়েক শ’ আমের আড়ৎ এখন দেশের বরেন্দ্র ভূমিতে উৎপাদিত সুমিষ্ট রসালো ফল হিমসাগর ও ল্যাংড়া আমের দখলে।

মধু মৌসুমের শুরু থেকেই দেশের এ সর্ববৃহত আমের মোকামে গুটি, গোপালভোগ, খিরশাপাতি, (হিমসাগর) ও ল্যাংড়া আম ব্যাপক হারে আমদানী হতে দেখা গেছে। স্থানীয় ভাবে সাপাহার উপজেলাসহ আশে পাশের সকল উপজেলায় আম বাগান তৈরী হওয়ার কারনে এখানে আমের বৃহৎ মোকাম গড়ে উঠেছে। দেশের রাজধানী ঢাকা সহ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শত শত আম ব্যাবসায়ীরা এখানে এসে আমের আড়ৎ খুলে প্রতিদিন হাজার হাজার মন আম কেনা বেচা করছেন। বিশেষ করে সরকারী ভাবে আমের বাজার নিয়ন্ত্রনে চলতি বছরে গাছ থেকে আম পাড়ার তারিখ নির্ধারণ করে দেয়ার কারনে আড়ৎগুলোতে প্রতিদিন প্রচুর পরিমানে অনুমোদিত বিষমুক্ত ও পরিপক্ক আম আমদানী করা হচ্ছে।

বিষাক্ত রাসায়নিক দ্রব্যের ব্যবহার রোধে প্রশাসনের কঠোর ভূমিকা থাকায় স্বাস্থ্য সম্মত ফরমালিন মুক্ত আম এই এলাকায় উৎপাদন অব্যাহত রয়েছে। সাপাহারে উৎপাদিত হিমসাগর ও লেংড়া আমের কারনে দেশের সর্ব স্থরের মানুষের নিকট এ উপজেলা ইতিমধ্যে বিশেষ ভাবে পরিচিত হয়ে উঠেছে। বর্তমানে উত্তরবঙ্গের সর্ব বৃহৎ এ আমের মোকামে প্রতিদিন যে পরিমান আম আমদানী ও কেনা বেচা হচ্ছে তাতে রুপালী ও নাকফজলী আম বাজারে আসলে মোকামের চিত্র অনেকটাই পাল্টে যাবে বলেও আম ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শ্রী কার্তিক শাহা জানিয়েছেন। উপজেলার কৃষকগন এবারে ধানের মূল্য বিভ্রাটে কিছুটা হিমশিম খেলেও আমের বাজার ভাল থাকায় ধানের সে ক্ষতি কিছুটা হলেও আমের উপর উঠে আসবে বলেও আম বাগান মালিকগণ মনে করছেন।

এ বিষয়ে উপজেলার সদরের বাগান মালিক শাহজাহান আলী, জামিল হোসেন, শিতল ডাঙ্গা গ্রামের কামরুল ইসলাম,কাশিতারার এনামুল হক, হাসান আলীসহ বেশ কয়েকজন বাগান মালিকের সাথে কথা হলে তারা জানান যে, ধান চাষ করে ন্যায্য দাম না পাওয়ার কারণে অনেকেই অর্থনৈতিক ভাবে ক্ষতি গ্রস্থ্য হয়েছেন। তাদের আমবাগান থাকায় ধানের সে ক্ষতি আম থেকে উঠে আসছে। বর্তমানে আবহাওয়া আমচাষীদের অনুকুলে থাকায় আমের বাজার দর মোটামুটি ভালো আছে। এখন প্রতিমন লেংড়া আম বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১২শ টাকা, খিরশা, গোপালভোগ ও হিমসাগর আম বিক্রি হচ্ছে ১৬শ থেকে ২ হাজার টাকা মণ। তবে আম্রপালী আম ব্যাপক উৎপাদন হওয়ায় এবার শেষ দিন পর্যন্ত দাম সহনীয় পর্যায় থাকবে বলেও আড়ৎদার ও বাগান মালিক গন জানান।

সাপাহার উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ি উপজেলায় প্রায় ৫হাজার হেক্টর জমিতে বিভিন্ন প্রকার উন্নত জাতের আম চাষ করা হয়েছে। কৃষি বিভাগের হিসেব মতে প্রতি হেক্টর জমিতে ১৭মে:টন আম উৎপাদন হয়। সাপাহার উপজেলায় এবারে ৮০ থেকে ৯০ হাজার মে:টন আম উৎপাদন হবে। যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ৩০কোটি টাকা। প্রতি বছর আমের মৌসুমে আম ব্যবসা ও বাজারজাত করনে এলাকার হাজার হাজার শ্রমজীবী মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। বৃহত্তর এই আমের মোকাম ও উৎপাদিত আমের কারনে উপজেলার সর্বস্তরের মানুষ অর্থনৈতিক ভাবে উপকৃত হচ্ছেন।

অপরদিকে সর্ব বৃহৎ এ আমের মোকামের আড়ৎদার, আম ব্যবসায়ী, আম চাষি ও বাগান মালিকদের সকল প্রকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করনে প্রতিদিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে সদরে বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এ উপজেলার সর্বত্র আম কেন্দ্রীক উৎসব ও আমেজ বিরাজ করছে।#





সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

কৃষি/শিল্প বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ৫৮৪ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই