তারিখ : ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯, রবিবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

মান্দায় জ্ঞাতিভোজ অনুষ্ঠান বন্ধ করলেন এসিল্যান্ড

মান্দায় সনাতন সম্প্রদায়ের জ্ঞাতিভোজ অনুষ্ঠান বন্ধ করলেন এসিল্যান্ড
[ভালুকা ডট কম : ১৫ জুলাই]
নওগাঁর মান্দায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জ্ঞাতিভোজ অনুষ্ঠান আয়োজন বন্ধ করলেন মান্দার সহকারী কমিশনার (ভূমি) হাসিবুল হাসান । সোমবার মান্দা উপজেলার সতীহাট বাজারের গনেশপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস সামনে সরকারি ফাঁকা জায়গায় এ ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে। এ ঘটনায় হিন্দু সম্প্রদায়সহ স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামের কালীপদ দাস প্রায় ১৫ দিন আগে মারা যান। কালীপদ দাস মারা যাওয়ার তার পরিবারের লোকজন জ্ঞাতিভোজের জন্য হিন্দু মুসলিমসহ প্রায় ৫শ’ জন লোকের জন্য খাবার আয়োজন করা হয়। জ্ঞাতিভোজের জন্য স্থানীয় গণেশপুর ভূমি অফিসের তহসিলদার রফিকুল ইসলামকে অবগত করে অফিসের সামনের সরকারি ফাঁকা জায়গা ব্যবহারের জন্য অনুমতিও নেন। বৃষ্টির হাত থেকে জ্ঞাতিভোজ সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন করার জন্যে ছামিয়ানা টাঙ্গিয়ে চেয়ার-টেবিলের ব্যবস্থা করেন।

কালীপদ দাসের ছোট ছেলে শ্রী লক্ষ্মণ জানান, বৃষ্টিতে যেন জ্ঞাতিভোজ বিঘ্ন না হয় সে জন্যেই কয়েক ঘন্টার জন্যেই ছামিয়ানা টাঙ্গানো হয়েছিল। কিন্তু দুপুরে খাবার পরিবেশনের আগ মূহুর্তে মান্দা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হাসিবুল হাসান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে কোন কথা না শুনে আমাদের দুই ভাইকে দিয়েই টাঙ্গানো ছামিয়ানা, চেয়ার, টেবিলসহ সবকিছু দ্রুত সরিয়ে নিতে বলায় আমরা সবকিছু সরিয়ে নিতে বাধ্য হই। এখন দাওয়াতের লোকজন চলে এসেছে তাদের বসতে এবং খাবার দিতে না পারায় তারা চলে গেছেন অনেকে।

কালিপদ দাসের বড় ছেলে শ্রী রঘুনাথ জানান, আমরা গরীব মানুষ অনেক কষ্ট করে লোকজনের কাছ থেকে ধার দেনা করে ধর্মীয় অনুয়াযী বাবার আত্মার শান্তির জন্য জ্ঞাতিভোজের আয়োজন করেছিলাম। খাবার দিতে না পারায় এখন লোকজন এসে চলে যাচ্ছে এটাযে কি কষ্টের তা বুঝাতে পারবো না।

বাজারের জয়া মেডিকেল ষ্টোরের স্বতাধিকারী এবং আমন্ত্রিত অতিথি উজ্জ্বল কুমার বলেন, সহকারী কমিশনার ভূমি মহোদয়ের উপস্থিতির সময় আমি সেখানে ছিলাম। আমার সামনেই তিনি কোন কথা না শুনে কালিপদের দুই ছেলেকে দিয়ে বাঁশ খাম, ছামিয়ানা, চেয়ার, টেবিল সরিয়ে নিতে বাধ্য করেন। আমরা উপস্থিত সকলে এসিল্যান্ড স্যারকে অনুরোধ করছি কিন্তু তিনি তা শোনেননি। আমরাও না খেয়ে ফিরে এসেছি।শহর এলাকার অধিকাংশ অনুষ্ঠানই সরকারি সম্পত্তিতে করা হয়ে থাকে। কিন্তু এখানে এ ঘটনা ঘটানোতে হিন্দু সম্প্রদায়সহ স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

গণেশপুর ভূমি অফিসের তহসিলদার রফিকুল ইসলাম জানান, তাদের অনুষ্ঠান করার জন্যে আমি অফিসের সামনে ফাঁকা জায়গায় অনুমতি দিয়েছিলাম। কিন্তু উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষ এসে কেন ছামিয়ানা, চেয়ার, টেবিল সরিয়ে নিতে বলেছেন তা জানা নেই।

মান্দা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হাসিবুল হাসান জানান, অফিস চলাকালিন কেউ অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে পারেন না। এ জন্যেই ছামিয়ানা, চেয়ার, টেবিল সরিয়ে নিতে বলা হয়। পরে ছামিয়ানা ভেঙ্গে খাবারের অনুমতি দেয়া হয়েছে।

নওগাঁর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাহাবুবুর রহমান জানান, ধর্মীয় অনুষ্ঠান (জ্ঞাতিভোজ) চলাকালে এগুলো সরিয়ে নিতে বলার বিষয়টি অমানবিক কাজ। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।#





সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

ভালুকার বাইরে বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ১২২৭ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই