তারিখ : ২৩ অক্টোবর ২০১৯, বুধবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

নওগাঁর মাদকসেবীরা যাচ্ছে পত্নীতলায়

নওগাঁর মাদকসেবীরা যাচ্ছে পত্নীতলায়
[ভালুকা ডট কম : ০১ অক্টোবর]
নওগাঁর মহাদেবপুরে মাদকের ব্যাপারে পুলিশ জিরো টলারেন্স ভূমিকা পালন করায় মাদকসেবীদের আনাগোনা বেড়েছে নির্ভেজাল মাদক স্পট সীমান্তবর্তী পত্নীতলা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে। সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় জেলার অন্যান্য উপজেলার তুলনায় পত্নীতলায় মাদক অনেক সহজলভ্য। এ কারনে মহাদেবপুর, নওগাঁ সদর ও মান্দা উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে মাদকসেবীরা মাদক ক্রয় ও সেবনের জন্য পত্নীতলায় আসছে। হাত বাড়ালেই পাওয়া যাচ্ছে ফেনসিডিল, ইয়াবা, মদ-গাঁজা, বিয়ারসহ নানা প্রকারের মাদকদ্রব্য।

অর্ধশতাধিক মাদকের আখড়ায় এসব মাদক কখনও প্রকাশ্যে আবার কখনও গোপনে বেচাকেনা হয়। পরিস্থিতি অনুযায়ী নানা কৌশল পাল্টিয়ে খুচরা ও পাইকারি মাদক ব্যবসায়ীরা অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। মাদকবিরোধী সাঁড়াশি অভিযান চালানো হলেও খুচরা মাদক বিক্রি ও সেবনকারীদের দৌরাত্ম থেমে নেই। ফেনসিডিল-ইয়াবা সহজলভ্য হওয়ায় চাহিদা কমছে না, আবার চাহিদা না কমায় সরবরাহও অব্যাহত আছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর, র‌্যাব-পুলিশ-বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে মাদক বিক্রেতারা আটক হলেও বিক্রি থেমে থাকছে না। সংঘবদ্ধ মাদক পাচারকারী চক্র নতুন ভাবে কৌশল পরিবর্তন করে অবাধে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। বেড়েই চলছে মাদকের বিস্তার।

পত্নীতলা উপজেলার প্রায় প্রত্যেকটি অলি-গলিতে ফেনসিডিল ও ‘বাবা’র (ইয়াবা) একক আধিপত্য। ছোট থেকে বড়, তরুণ ও বৃদ্ধ সকলের কাছেই ‘বাবা’ নামটি বিশেষভাবে পরিচিত। এ অঞ্চলের মাদকসেবীদের কাছে তাদের জন্মদাতা ‘বাবা’র চেয়ে এই বিশেষ ‘বাবা’র প্রতিই যেন ভক্তি শ্রদ্ধা বেশি লক্ষ্য করা গেছে। দিনে একবার হলেও তাদের অবশ্যই বাবার সান্নিধ্য চাই-ই-চাই। আর তা না হলে নাকি মাদক সেবীদের দিন শুরু কিংবা রাত শেষ হয় না। এ ভয়ঙ্কর ‘বাবার’ আসল নাম ইয়াবা। অন্য যেকোন মাদকদ্রব্যের তুলনায় ইয়াবার জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণীর লোকজন এ নেশায় আসক্ত হয়ে পড়েছে। কখনও ম্যানেজ করে আবার কখনও নানা কৌশলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের চোখকে ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন স্থানে এক প্রকার প্রকাশ্যেই চলছে ফেনসিডিল ও ইয়াবার রমরমা বাণিজ্য।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, মাদক ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন ব্যবসা এবং পেশার আড়ালে দেদারসে ফেনসিডিল ও ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। ইয়াবা ট্যাবলেট পকেটে করে নির্বিঘ্নে বহন করা যায় বিধায় ভ্রাম্যমাণ মাদক বিক্রেতার সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। এতে বিভিন্ন আবাসিক এলাকার অলিগলি ইয়াবা ট্যাবলেটে সয়লাব হয়ে গেছে। নেশাগ্রস্ত যুবকরা ছিনতাই, রাহাজানি, চুরিসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পরছে। ফেনসিডিল ও ইয়াবা ক্রয়ের টাকা জোগার করতে গিয়ে অনেক উঠতি বয়সের তরুণ-যুবকরা বেছে নিয়েছে অপরাধের পথ। আর এ কারণেই পরিবারে নেমে এসেছে চরম অশাস্তি। পড়াশোনা বাদ দিয়ে তরুণরা ফেনসিডিল ও ইয়াবাসক্ত হয়ে পড়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পরেছে অভিভাবক মহল।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, পত্নীতলা উপজেলার ঠুকনিপাড়া, কাশিপুর, ছালিগগ্রামঘ্ন্নেীতলা আবাসন, গুপিনগর, সোনাডাঙ্গা, ডাঙ্গাপাড়া হাট খোলা, ডাঙ্গাপাড়া নদীর ঘাট, বাঁকরইল, দিবর, নির্মাইল, বড়বিদিরপুর এলাকাসহ বিভিন্ন পয়েন্টে অবাধে চলছে ফেনসিডিল ও ইয়াবা বাণিজ্য। এসব এলাকায় সব সময় মাদক বিকিকিনি দৃশ্যমান না হলেও ওলি-গলিতে ফেনসিডিলের খালি বোতল পড়ে থাকতে দেখা যায়। শীতল সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে ধুকছে ফেনসিডিলের চালান। পরে তা পত্নীতলা উপজেলার বিভিন্ন খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে চলে আসে। মাদক চোরাচালানে প্রতিনিয়তই ব্যবহার করা হচ্ছে অভিনব কৌশল। ভৌগলিকভাবেই সীমান্তবর্তী উপজেলা হওয়ায় মাদক ব্যবসায়ী ও চোরাকারবারিদের তৎপরতা বেশি। মাদকের সহজলভ্যতা ও সীমিত দামের কারণে বেশ কয়েক বছর ধরে পত্নীতলা উপজেলায় মহাদেবপুরসহ বিভিন্ন এলাকার মাদকসেবীদের আনাগোনা বেড়েছে।

পত্নীতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পরিমল চক্রবর্তী বলেন, পত্নীতলায় মাদকের বিস্তার ৭০ থেকে ৮০ ভাগ কমেছে। নিয়মিত অভিযান চালিয়ে মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। তবে পূর্বের তুলনায় পার্শবর্তী উপজেলাগুলো থেকে মাদকসেবীদের আনা গোনা কমেছে।#





সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ৯২৯ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই