তারিখ : ১৩ নভেম্বর ২০১৯, বুধবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

লোক-লজ্জার ভয়ে গলায় ওরনা পেচিয়ে ধর্ষিতার আত্মহত্যা

লোক-লজ্জার ভয়ে গলায় ওরনা পেচিয়ে ধর্ষিতার আত্মহত্যা
[ভালুকা ডট কম : ০৯ নভেম্বর]
বেনাপোল বড়আঁচড়া গ্রামে সোনামনি ওরফে টুনু (২২) নামে এক তরুনী গলায় ওড়ান পেচিয়ে আত্মহত্যা করেছে। ধর্ষনের পর লোক-লজ্জার ভয়ে গলায় ওড়ান পেচিয়ে আত্মহত্যা করেছে। ধর্ষক রাকিব হাসানের মা রুপালি বেগম মেয়েটিকে গালিগালাজ করার পর লোক-লজ্জার ভয়ে গলায় ওড়ান পেচিয়ে সে আত্মহত্যা করেছে বলে স্থানীরা অভিযোগ করেন।

শুক্রবার রাত ৮ টার সময় বেনাপোলের বড়আঁচড়া গ্রামের লিটন এর বাড়িতে আত্মহত্যার ঘটনাটি ঘটে। ধর্ষনের শিকার আত্মহত্যাকারি তরুনী যশোর জেলার মনিরামপুর থানার ময়নুদ্দিনের মেয়ে। সে ওই গ্রামে লিটনের বাড়িতে ভাড়া থাকত তার বোনের সাথে। বেনাপোল পোর্ট থানার বড়আঁচড়া গ্রামের শহিদের ছেলে ভরসা ও তার চাচাতো ভাই রফিকুল ইসলামের ছেলে রাকিব হোসেন এবং একই থানার গাতিপাড়া গ্রামের সাগর হোসেনের ছেলে সাব্বির হোসেন ধষর্ককারী বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয়রা বলেন, শুক্রবার বেলা ৪ টার সময় জুথি নামে একটি মেয়েকে সংঙ্গে নিয়ে সোনামনি ওরফে টুনু রাকিবের ডাকে তার চাচাতো ভাই ভরসাদের বাড়িতে যায়। এসময় ওই বাড়িতে ভরসার বাবা মা কেউ ছিল না। টুনু ভরসাদের ঘরে উঠার কিছু সময় পর জুথি ওই বাড়ি থেকে চলে আসে। এরপর টুনুর বড় বোন মর্জিনা বাড়িতে এসে তার বোনকে না পেয়ে পাগলের মত প্রায় ৪০ মিনিট খোজাখুজির পর মেয়েটি বাড়ি আসে। সে কোথায় ছিল তা তার বোন জানতে চাইলে সে বার বার মিথ্যা কথা বলতে থাকে। এক পর্যায় রাকিবের মা রুপালী বেগম এসে মেয়েটিকে মারতে যায় এবং বলে সে তার ছেলে ও ভাসুরের ছেলে ভরসার সাথে তার ভাসুর শহিদের বাড়িতে সময় কাটিয়েছে। এতে করে গ্রামের লোক কানা ঘুষা করতে থাকে। মেয়েটি লোকলজ্জার ভয়ে রাত ৮ টার দিকে গলায় ওরনা পেচিয়ে আত্মহত্যা করে।

মেয়েটির বোন মর্জিনা বলেন, তার বোনকে ওরা ফুসলিয়ে নিয়ে জোর করে ধর্ষন করেছে। ঘটনাটি জানাজানি হলে সে তার বোনকে বকাঝকা করলে সে সুযোগ বুঝে গলায় ওড়না পেচিয়ে আত্মহত্যা করে।

বাড়ির পাশের আসমা খাতুন বলেন, টুনুর বড় বোন মর্জিনার শিশু সন্তানকে টুনু রাখত এবং মর্জিনা একটি হোটেলে রান্নার কাজ করত। ওই বাচ্চার কান্নার চিৎকারে দৌঁড়ে এসে জানালা দিয়ে দেখা যায় টুনু গলায় দড়ি দেওয়া অবস্থায় ঝুলছে। তখন জানালা দরজা ভেঙ্গে ঘরের ভিতর প্রবেশ করে টুনুকে উদ্ধার করে বেনাপোল রজনী ক্লিনিকে এরপর নাভারন বুরুজ বাগান হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ডাক্তাররা তাকে মৃত্যু বলে ঘোষনা করেন।

রাকিবের মা রুপালী বেগমের নিকট বিষয়টি জানতে চাইলে সে তাকে গালাগালি করেনি বলে জানায়। তবে টুনু ও তার ছেলে সহ আরো দুইজন তার ভাসুরের ঘরে ছিল বলে স্বীকার করেন।

এ ব্যাপারে ভরসার পিতা শহিদ হোসেন ও মা বিউটি খাতুন বলেন, আমার ছেলে এ রকম কাজ করতে পারে না। সে গ্রামে একজন ভালো ছেলে হিসাবে পরিচিত। মেডিকেল রিপোর্ট আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে তার ছেলে দোষি কিনা। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ভরসা, রাকিব ও সাব্বির পলাতক রয়েছে বলে এলাকাবাসি জানান।

বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি মামুন খান বলেন, মেয়েটি ধর্ষন হয়েছিল কিনা বলতে পারব না। তবে সে গলায় ওড়না জড়িয়ে আত্মহত্যা করেছে। তার শারীরীক ও পোষ্ট মর্টেম পরীক্ষার জন্য যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ডাক্তারী পরীক্ষার রিপোর্টে সব জানা যাবে। তবে এ ঘটনায় বেনাপোল পোর্ট থানার একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের হয়েছে। #





সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

জীবন যাত্রা বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ১২২০ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই