তারিখ : ২৭ মে ২০২০, বুধবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

পত্রিকা বিক্রী করে যাদের ডাল-ভাত ছাড়া জুটেনা অন্যকিছু

পত্রিকা বিক্রী করে যাদের সংসার চলে,ডাল-ভাত ছাড়া জুটেনা অন্যকিছু
[ভালুকা ডট কম : ১৩ মার্চ]
পত্রিকার হকাররা হচ্ছে পত্রিকার প্রাণ। সংবাদপত্রের ভালোবাসার টানে পত্রিকা বিক্রী করে কোনরকম ডাল-ভাত খেয়ে জীবন পার করে দিচ্ছে হকারগণ। মনে অনেক ধরনের আশা-আকাঙ্খা থাকলেও দৈনিক অল্প আয়ের লোক হওয়ায় তাদের স্বপ্নগুলো ফুটে উঠতে পারে না। আর তাদের জীবন-জীবিকা নিয়ে কেউ ভাবার সময়ও রাখে না। এমনকি পত্রিকা অফিস থেকে শুরু করে পত্রিকার এজেন্সীগুলোর তেমন ভাবার সময় নেই। ঠিক তেমনি ভাবে জীবন কাটাচ্ছে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার পত্রিকার হকারগণ।

জানাযায়, নান্দাইল সেতু নিউজ এজেন্সীর পরিচালক মো. লুৎফর রহমানের হাত ধরে অনেক হকার পত্রিকা বিক্রী করে সংসার চালাচ্ছে। আবার কেউ কেউ পত্রিকা বিক্রীর ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছে। তবে সংবাদপত্রের ভালোবাসার টানে আজ পর্যন্ত প্রায় ১ ডজন হকার রয়েছে। একসময় ঢাকা থেকে ট্রেনে করে পত্রিকা আসতো নান্দাইলে। এখন ভোর হবার আগে বাস যোগে দ্রুত পত্রিকার বান্ডেল চলে আসে এজেন্সীতে। প্রতিদিনই কাক ডাকা ভোর হলেই ছুটে আসে এজেন্ট অফিসের নিকট। সেখান থেকে পত্রিকা সংগ্রহ করে উপজেলা সদর সহ বিভিন্ন হাট-বাজার, ব্যবসা, সরকার-বেসরকারী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সারাদিন ঘুরে ঘুরে পত্রিকা বিক্রী করে। তারই মধ্যে সবচেয়ে বয়স্ক ও প্রবীণ পত্রিকা হকার কাবিল যাকে সকলেই কাবিলা ভাই নামে ডাকে। তিনি ছোটবেলা থেকে প্রায় ৩ যুগ ধরে পত্রিকা বিক্রী করে আসছেন।

তিনি জানান,একসময় বিভিন্ন পত্রিকার হেড অফিস থেকে আমাদের জন্য ছাতা, কলম, ব্যাগ সহ বিভিন্ন উপকরণ দিতো। এখন আর কিছুই দেয়না। তবু কোন সহায় সম্বল না থাকায় অন্য কোন পেশার চিন্তাই করা যায়না। অপরদিকে আরেক প্রবীণ হকার আবুল হাসেম বলেন, ভাই আমাদের নিয়ে কেউ ভাবে না। আমরা কোন ধরনের সুযোগ সুবিধাও পাই না। পেলে ভালো হতো। পুত্র-সন্তানদের নিয়ে একটু ভালো খেয়ে-পড়ে জীবনটা পার করতে পারতাম। এছাড়া হকার সাইফুল ইসলাম ওরফে লিটন ভাই জানান,২৮ বছর ধরে পত্রিকা বিক্রি করছি। একমাত্র পত্রিকার এজেন্ট লুৎফর রহমান ভাই ছাড়া কেউ আমাদের খবরা-খবর নেয় না। ২৭ বৎসর ধরে এ পেশায় দায়িত্বে হকার নয়ন মিয়া জানান,ডিজিটাল যুগ আসায় এখন পত্রিকা বিক্রি আগের মতো চলে না। সকলেই স্মার্ট ফোনেই সবার আগে খবর পেয়ে যায়। কিছু সংবাদপত্র প্রেমীদের কারনেই পত্রিকা বিক্রী করতে পেরে নিজেদেরকে কোনমতে বাচিঁয়ে রেখেছি। এছাড়া এমদাদুল হক মিলন, আব্দুল মজিদ, ফরিদ মিয়া, রশিদ উদ্দিন, ঝান্টু মিয়া সহ আরও অনেকেই জানান,প্রতিদিন তারা পত্রিকা বিক্রিী করে সর্বনিন্ম ২০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৩৫০ টাকা পর্যন্ত আয় করা যায়। আর এজন্য সারাদিন দৌড়তে হয় পাঠকদের কাছে। এদের মধ্যে আব্দুল মজিদ তার এক ছেলেকে কলেজে পড়াচ্ছেন। বাবার একটু কৃষি জমি থাকায় তাতে চাষাবাদ ও পত্রিকা বিক্রী করে সন্তানকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করার স্বপ্ন দেখছেন।

এ বিষয়ে ৪৫ বৎসর ধরে নান্দাইল সেতু নিউজ এজেন্সীর পরিচালক লুৎফর রহমান বলেন,দিন দিন পত্রিকার পাঠক কমে যাচ্ছে বলে হকাররা সহ আমরাও বেকায়দা। নেই তেমন কোন ধরনের সুযোগ-সুবিধা। তথাপি আমার হকারদেরকে নিজের পক্ষ থেকে যতটুকু করতে পারি তার চেষ্টা করি। এছাড়া হকারদের যদি অন্য কোন ধরনের সুযোগ-সুবিধা সরকারী বা বেসরকারীভাবে দেওয়া হতো তবে আরো ভালো হতো।

নান্দাইলের সিনিয়র সাংবাদিক এনামুল হক বাবুল জানান,পত্রিকার হকারা হচ্ছে পত্রিকার প্রাণ। তারাই মানুষের দুয়ারে দুয়ারে ছাপানো পত্রিকাগুলো পৌছে দেয়। অতিদরিদ্রদের জন্য সরকারের মহৎ প্রকল্প ঘর নির্মাণ প্রকল্পে প্রতিটি উপজেলায় প্রকৃত পত্রিকা হকারদের একটি করে পাকাবাড়ি দেবার দাবী জানাচ্ছি।#





সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

মিডিয়া বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ১২৫০ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই