তারিখ : ০১ এপ্রিল ২০২০, বুধবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

নান্দাইলে স্বাধীনতার ৪৯ বছরে পরেও অরক্ষিত বধ্যভূমি

নান্দাইলে স্বাধীনতার ৪৯ বছরে পরেও অরক্ষিত বধ্যভূমি,নেই কোন স্মৃতিচি‎হ্ন,মুজিববর্ষে স্মৃতিস্তম্ব নির্মাণের দাবী  
[ভালুকা ডট কম : ২২ মার্চ]
ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার মুশুল্লী ইউনিয়নের কালীগঞ্জ ব্রীজ ও চন্ডীপাশা ইউনিয়নের বারুইগ্রাম মাদ্রাসা সংলগ্ন দুটি স্থানের বধ্যভূমি আজও চি‎িহ্নত করা হয়নি। স্বাধীনতার ৪৯ বছর পার হলেও এখন পর্যন্ত অরক্ষিত রয়েছে গেছে উক্ত দুটি বধ্যভূমি। সেখানে নির্মাণ করা হয়নি কোন ধরনের স্মৃতিস্তম্ব।

ফলে ’৭১-এ পাক-বাহিনীর হাতে নৃশংসভাবে বহু বাঙালীর শহীদ হওয়ার ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে অজানায় রয়ে যাচ্ছে।মুজিব শতবর্ষকে উপলক্ষ্যে করে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত এই বধ্যভূমিগুলো চি‎িহ্নতকরন সহ স্মৃতি স্তম্ব নির্মাণের জন্য স্থানীয় বাসিন্দা, সুশীল সমাজ, নান্দাইলের মুক্তিযোদ্ধা ও তার পরিবারের লোকজন বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নিকট জোর দাবী জানান।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, একাত্তরের স্বাধীনতা সংগ্রাম চলাকালীন সময়ে উক্ত দুটি স্থানে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও রাজাকার আলবদররা শত শত বাঙ্গালিকে নৃশংসভাবে হত্যা করে ফেলে রেখেছে। নান্দাইল উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহমান নরসুন্দা নদীটি মশুল্লী ইউনিয়নের শুভখিলা গ্রাম ভেদ করে ময়মনসিংহ-ভৈরব রেললাইনের নীচ দিয়ে চলে গেছে। আর তার পাশেই কালীগঞ্জ বাজার রয়েছে। সেই বাজারের নাম অনুযায়ী উক্ত রেলওয়ে সেতুটির নাম করা হয়েছে কালীগঞ্জ রেলসেতু (ব্রীজ)। এই ব্রীজে সংগ্রাম চলাকালীন বহু মুক্তিকামী বাঙ্গালি নারী-পুরুষ ও শিশুদের নির্যাতন সহ গুলি করে হত্যা করে নদীতে ফেলে দিতো পাকিস্তানি বাহিনী। ওই সমস্ত মানুষের আর্ত চিৎকার ও গুলির শব্দে মানুষ আতংকে থাকতো সবসময়। আশপাশের বাড়ি ঘরে আগুন জ্বালিয়েছে পাকিস্তানিরা। এসময় মানুষের পাশাপাশি প্রকৃতি যেন কান্নায় ভেঙ্গে পড়তো। ১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসের শেষের দিক থেকে আশপাশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলার নিরীহ মানুষকে এনে হত্যাযজ্ঞ চালানো হয় এবং তা স্বাধীনতা সংগ্রামের পুরো সময় ধরে চলতে থাকে। শুধু তাই নয় উপজেলার চন্ডীপাশা ইউনিয়নের বারইগ্রাম মাদ্রাসার কাছের ইটভাটায় বাংলার মুক্তিকামী মানুষকে হত্যা করে লাশের উপর লাশ ফেলে রাখা হতো। এ দুটি বধ্যভূমিতে কতজনকে হত্যা করা হয়েছে তার সঠিক পরিসংখ্যান নেই। তবে এলাকাবাসী ও মুক্তিযোদ্ধাদের ধারণা কয়েক হাজার লোককে হত্যা করা হয়েছে।

নান্দাইল উপজেলার সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মাজহারুল হক ফকির বলেন, বধ্যভূমির কাহিনী খুবই হৃদয়বিদারক। আগামী প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরতে উক্ত দুটি বধ্যভূমিতে স্মৃতিস্তম্ব স্থাপনের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে নান্দাইল আসনের সংসদ সদস্য মো. আনোয়ারুল আবেদীন খান তুহিন বলেন, বধ্যভূমিতে স্মৃতিস্তম্ব স্থাপনের পক্রিয়া চলছে। আশা করছি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার মাধ্যমে মুজিব শত বর্ষ উপলক্ষ্যে শীঘ্রই বধ্যভূমিতে স্মৃতিস্তম্ব স্থাপন করা হবে।#





সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ১২৩৭ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই