তারিখ : ০২ জুন ২০২০, মঙ্গলবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

তজুমদ্দিনে মৌচাষ করে স্বাবলম্বী জিহাদ

তজুমদ্দিনে মৌচাষ করে স্বাবলম্বী জিহাদ
[ভালুকা ডট কম : ২৩ মার্চ]
ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলা চাঁদপুর ইউনিয়নের বেকার যুবক মোঃ জিহাদ নিজের সখ এবং আয়ের উৎস্য হিসেবে ছোট ছোট বাক্সের মধ্যে বাণিজ্যিকভাবে শুরু করছেন মৌচাষ । বছরে মধু থেকে আয় হয় প্রায় ২ লক্ষ টাকা। অসচ্ছল সংসারে থেকে সে এখন স্বাবলম্বী যুবক। চাঁদপুর ইউনিয়নে ৯ ওয়ার্ডের কেয়ামূল্যাহ গ্রামের নুরুন্নবীর ৩ সন্তানের মধ্যে জিহাদ একমাত্র ছেলে। পরিবারের অভাব অনটনের কারণে তেমনটা পড়া লেখা করতে পারেনি জিহাদ। তাই ছোট বেলা থেকেই বিভিন্ন কাজ করতে হয় তার।

জিহাদ বলেন, বেকার বসে না থেকে একদিকে সখ অন্যদিকে আয়ের উৎস্য হিসেবে গত দুই বছর পূর্বে আমি অন্যের গাছের মুধু সংগ্রহের পাশাপাশি নিজেই মৌচাষ শুরু করি। প্রথমেই ফরিদপুর থেকে ছোট ১০ টি মৌমাছি থাকার বাক্সে ৭০টি মৌচাক ক্রয় করে মৌচাষ শুরু করি। আমার কোন কারিগরি দক্ষতা কিংবা কোন প্রশিক্ষন নেই। প্রথম দিকে সফলতার মুখ না দেখলে গত এক বছর ধরে বেশ ভালোই লাভবান হচ্ছি। বর্তমানে তার ১শ টি বাক্সের মধ্যে প্রায় ১ হাজার মৌচাক রয়েছে। প্রতিটি বাক্সে রয়েছে ৬ থেকে ৭ টি মৌচাক। আর প্রতিটি মৌচাকে রয়েছে প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার মৌমাছি। তিনি এখন পুরো মৌমাছি পালনকারী ও মধু জিহাদ হিসেবে এ অঞ্চলে পরিচিতি লাভ করেছেন। মাসিক ১৫ হাজার টাকা বেতনে বর্তমানে ৪ জন লোক কাজও করছেন তার। বিশেষ করে সরিষা ও ফাগুন মাসে আম ও লেচুর মুকুল থেকে বেশি মধু সংগ্রহ হয়। সেজন্য তিনি যেসব এলাকায় ফুলের ফসল বেশি আছে সেসকল জায়গায় বাক্সগুলো নিয়ে বিশেষ পদ্ধতিতে স্থাপন করেন। এসময় মুধুর পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়। সাধারণ সরিষার ফুল, সূর্যমূখী ফুলসহ রবি মৌসুমে প্রতিটি মৌচাক থেকে মাসে দুই বার মধু সংগ্রহ করা যায়। এতে করে একদিকে যেমন ফসলের পরাগায়ন ভালো হয় অন্যদিকে কৃষকদের ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। এছাড়া ১৫ দিন পর পর এরা বাচ্ছা দেয় যেকারণে মৌচাকের সংখ্যাও বাড়তে থাকে। গ্রামে গ্রামে গিয়ে অন্যের গাছের মধু সংগ্রহের পাশাপাশি নিজের চাষ থেকে মধু সংগ্রহ করা হয়। প্রতি কেজি মধু বিক্রি করা হয় ৮শ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত।  প্রতি বছর সংগৃহীত মধু ও মৌমাছিসহ মৌচাক বিক্রি করে প্রায় ২ লক্ষ টাকার উপরে আয় করি। মৌচাষ করে বর্তমানে বাবা, মা, ২ বোনসহ ৫ জনের সংসার খুব ভালো চলছে।

জিহাদ আক্ষেপ করে আরো বলেন, ব্যবসা আমার কাছে খুবই ভালো লাগে। এটি একটি হালাল ব্যবসা। আমি গরিব মানুষ। সরকারিভাবে সহযোগিতা পেলে বড় করে চৌচাষের খামার করলে ভালো লাভবান হতাম পাশাপাশি কিছু লোকের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হতো।

সরেজমিন জিহাদের মৌমাছির বাক্সের কাছে গিয়ে দেখা যায়, সরিষার ফুলসহ বিভিন্ন রবিশষ্যর ফুলের মৌসুম শেষ হওয়ায় বর্তমানে তিনি মৌমাছির বাক্সগুলো পুকুর পাড়ে এবং বাগানে স্থাপন করেছেন। সাজানো এসব ছোট ছোট বাক্সের মধ্যে থেকে মৌমাছি বের হয়ে বিভিন্ন ফুল থেকে মুধু নিয়ে ফিরে এসে মৌচাকে মধু রাখে । এভাবে গত দুই বছর ধরে বিভিন্ন এলাকা থেকে মধু সংগ্রহ করছেন জিহাদ।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোঃ কবির সোহেল বলেন, মধু একটি আদর্শ খাবার। ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী মধু হলো সব রোগের ঔষুধ। ভিটামিন, প্রোটিন, মিনারেল সবকিছুই এর মধ্যে রয়েছে। এটি দেহের রোগ প্রতিরোগ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

তজুমদ্দিন উপজেলায় এই প্রথম বাণিজ্যেক ভিক্তিতে মৌচাষা উল্লেখ করে উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ শওকত হোসেন বলেন, ইতোমধ্যে আমাদের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা তার মধু চাষের তথ্য সংগ্রহ করেছে। আমরা তার চাষ বৃদ্ধির জন্য কারিগরি সহায়তার ব্যবস্থা করবো।

এছাড়া ডাল, তৈল ও মসল্লা ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি ও বীজ বিপনন শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে ৫টি ক্ষুদ্র উদোক্তা দল গঠন করা হয়েছে। তারা মৌচাষ করার জন্য এই প্রকল্প থেকে আর্থিক সহায়তা পাবে এবং প্রতিবছর ১ একর জমিতে তৈল ফসলের উৎপাদক করবো যাতে ঐ মাঠেই চৌচাষের বাক্স স্থাপন করা যায়।#





সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

লাইফস্টাইল বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ১২৬২ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই