তারিখ : ০২ জুন ২০২০, মঙ্গলবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

সিরাজগঞ্জে অবিক্রিত দুধ নিয়ে বিপাকে খামারিরা

সীমিতভাবে দুধ ক্রয় শুরু হলেও রমজান পরবর্তী সময় নিয়ে শঙ্কা,খামারিদের ক্ষতিপুরণ ও রেশনে গো-খাদ্য প্রদানের দাবি
সিরাজগঞ্জে অবিক্রিত দুধ নিয়ে বিপাকে খামারিরা
[ভালুকা ডট কম : ১২ মে]
সিরাজগঞ্জে দুধ প্রক্রিয়াজাতকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সীমিতভাবে আবার দুধ কিনতে শুরু করেছে। গত একমাস ধরে বড় ধরণের লোকসানের পর দুধ বিক্রির সুযোগ পেয়ে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এলেও অবিক্রিত দুধ নিয়ে নতুন করে বিপাকে পড়েছেন দুগ্ধ খামারিরা। সেইসাথে রমজান মাসে স্থানীয় অনেক গ্রাহক দুধ কিনলেও রমজান পরবর্তী কি হবে তাই নিয়ে এক ধরনের শঙ্কা কাজ করছে তাদের মধ্যে। কেননা দুধ প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো আগের মত তাদের ‘ফুল ক্যাপাসিটি’ অনুসারে দুধ কিনছে না।

দুগ্ধ খামারিরা জানান, মিল্কভিটা গত ২৮ এপ্রিল থেকে দুধ কেনা শুরু করেছে। আড়ং, প্রাণ ডেইরি, ফার্ম ফ্রেস, অ্যামোমিল্ক, আফতাব, রংপুর ডেইরি ও ব্র্যাক দুধ কিনছে কিন্তু আগের তুলনায় পরিমাণে অর্ধেক। রমজানের পরে যদি করোনা পরিস্থিতির উন্নতি না হয় এবং আবার যদি সব বন্ধ হয়ে যায় তখন কী হবে?

উল্লাপাড়া উপজেলার নওকৌড় প্রাথমিক দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় সমিতির সভাপতি রেজাউল করিম, শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া সমবায় সমিতির সভাপতি ওয়াজ আলী, পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার বোয়াইলমারী সমিতির সভাপতি বেলায়েত হোসেন, একই জেলার বেড়া উপজেলার হাটুরিয়া জগন্নাথপুর সমিতির সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন বলেন- মিল্কভিটা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো সম্পূর্ণ দুধ না কিনলে তো আমাদের সমস্যা দুর হচ্ছে না। তারা এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য জরুরী ভিত্তিতে ক্ষতিপুরণের পাশাপাশি পুরো দুধ বিক্রির ব্যবস্থাসহ ভূষাল ও দানাদার গো-খাদ্য রেশনের মাধ্যমে প্রদানের দাবি জানান।

খামারিরা বলেন- সরকার ঘোষিত ছুটিকালীন এসব খাতে নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন, পরিবহন ও বিপণন সচল রাখার নির্দেশ দেয়া হলেও গত এক মাসেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। এ বিষয়ে কথা হয় সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের দুগ্ধ খামারি সমিতির পরিচালক আব্দুস সামাদ ফকিরের সঙ্গে। তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাধারণ কৃষকদের ভাগ্য পরিবর্তন এবং মানুষের পুষ্টির অভাব দূর করার জন্য ১৯৭৩ সালে বাঘাবাড়িতে মিল্ক ভিটা স্থাপন করেছিলেন। মিল্ক ভিটা ঠিকমতো দুধ কিনে বাজারজাত করলে দেশের লাখ লাখ খামারি দুধ নিয়ে বিপাকে পড়ত না। কিন্ত খামারিদের লোকসান থেকে রক্ষা করার কোন ব্যবস্থা না করেই হঠাৎ সবকিছু বন্ধ করে দেয়ায় এই মহা বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি ইত্তেফাককে বলেন, গত ২২ মার্চ থেকে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত বিক্রি অভাবে দুগ্ধ খামারিদের প্রতিদিন প্রায় ৮ লাখ লিটার দুধের সিংহভাগ অংশই ফেলে দিতে হয়েছে। এতে প্রতিদিন ক্ষতি হয়েছে প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা। ১ মাস ৭ দিনে মোট ক্ষতি হয়েছে ১০৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এতে খামারিরা গাভীর খাদ্যের জোগান ঠিকমত দিতে পারেনি। ফলে অধিকাংশ গাভী খাদ্য-পুষ্টি অভাবে হাড্ডিসার হয়ে গেছে। অপরদিকে খাদ্য ব্যবসায়ীদের তাগাদায় অতিষ্ট হয়ে কিছু খামারি দেনা শোধ করার জন্য ফেলনা দামে গভী বিক্রি করে দিচ্ছেন। অবিলম্বে ক্ষতিপুরণ দিয়ে খামারিদের রক্ষা করতে না পারলে এলাকার ঐতিহ্যবাহী এই দুধ শিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে। এতে ৪০ লাখ খামারি পরিবারের প্রায় দেড়কোটি মানুষ খাদ্য সংকটে পড়বে। আমরা শতকোটি টাকার ক্ষয়-ক্ষতির বিপরীতে সরকারের নিকট দাবি করেছি মাত্র ২০ কোটি টাকা। যা হলে কোনমতে খামারিরা দাঁড়াতে পারবে। বঙ্গবন্ধুর গড়া এই বিশাল দুগ্ধ শিল্পাঞ্চল। তার সুযোগ্যকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মানবতার জননী শেখ হাসিনা অবশ্যই এই শিল্পাঞ্চল রক্ষা করবেন বলে আমরা বিশ্বস করি।  

মিল্ক ভিটার বাঘাবাড়ী কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক ইদ্রিস আলীর দাবি, তাঁরা নিয়মিত দুধ সংগ্রহ অব্যাহত রেখেছেন।#





সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

কৃষি/শিল্প বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ১২৬২ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই