তারিখ : ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, বৃহস্পতিবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

গৌরীপুরে নিরাপরাধ যুবককে ফাঁসিয়ে দিলো পুলিশ

গৌরীপুরে নিরাপরাধ যুবককে ডাকাত সাজিয়ে ফাঁসিয়ে দিলো পুলিশ
[ভালুকা ডট কম : ১০ জুলাই]
ময়মনসিংহের গৌরীপুরে আল মামুন (৩৫) নামে স্থানীয় এক নিরাপরাধ যুবককে আটকের পর ডাকাত সাজিয়ে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানীর অভিযোগ ওঠেছে গৌরীপুর থানার পুলিশের বিরুদ্ধে। বাসায় যাওয়ার পথে বিনা কারনে জনসম্মুখে ওই যুবককে আটক করা হলেও মামলায় দেখানো হয়েছে প্রায় ৫ কিঃ মিঃ দূরে অন্য এক স্থান থেকে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে তাকে আটক করা হয়। পুলিশের এ মামলায় যাদেরকে স্বাক্ষী করা হয়েছে তারা জানে না ঘটনার কোন কিছু।

পূর্বে কোন ডাকাতির ঘটনার সাথে জড়িত থাকার রেকর্ড নেই অথচ থানার ওসির ফেসবুক আইডিতে চিহ্নিত ডাকাত হিসেবে আখ্যা দিয়ে স্ট্যাটাসের মাধ্যমে এ যুবকের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুন্ন করা হয়েছে।
পুলিশের বিতর্কিত এ কর্মকান্ডের প্রতিকার চেয়ে শুক্রবার (১০ জুলাই) গৌরীপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন আল মামুনের স্ত্রী সাখী আক্তার (২৮)। সংবাদ সম্মেলনে সাখী আক্তার জানান, তার স্বামী আল মামুন গৌরীপুর উপজেলার মইলাকান্দা ইউনিয়নের নওপাই গ্রামের মৃত আব্দুল হেলিম মাস্টারের ছেলে। তারা বর্তমানে এ উপজেলার শ্যামগঞ্জ রেল স্টেশন সংলগ্ন মইলাকান্দা এলাকায় বসবাস করেন। সোমবার (৬ জুলাই) রাত সাড়ে ৮ টার দিকে বাসায় যাওয়ার পথে শ্যামগঞ্জ রেলস্টেশন থেকে বিনা কারনে জনসম্মুখে আল মামুনকে আটক করে থানায় নিয়ে যান গৌরীপুর থানার পুলিশ। পরে ডাকাতির ঘটনার নাটক সাজিয়ে অপরিচিত আটককৃত জনৈক দুই ব্যক্তির সঙ্গে মামুনকেও আসামী করে মিথ্যা মামলা দায়ের করেন গৌরীপুর থানার এস আই মাইনুল রেজা। (গৌরীপুর থানার মামলা নং-০৯ তাং-০৭/০৭/২০২০ ইং) এ মামলায় পরদিন তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়।

সাখী আক্তার অভিযোগ করে বলেন, তার স্বামী মামুনকে ৬ জুলাই রাত সাড়ে ৮ টার দিকে শ্যামগঞ্জ রেলস্টেশন এলাকা থেকে জনসম্মুখে বিনা কারনে আটক করে থানায় নিয়ে যান পুলিশ। অথচ পুলিশের দায়েরকৃত মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে শ্যামগঞ্জ রেলস্টেশন থেকে ৫ কিঃ মিঃ দূরে ময়মনসিংহ-নেত্রকোণা মহাসড়কে এ উপজেলার বেলতলি এলাকা থেকে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে এদিন রাত সাড়ে ১১ টায় তাকে আটক করা হয়।

মইলাকান্দা ইউনিয়নের স্থানীয় ইউপি সদস্য ফারুক আহমেদ (৩৮) জানান, ৬ জুলাই রাত সাড়ে ৮ টার দিকে শ্যামগঞ্জ রেলস্টেশন এলাকা থেকে মামুনকে আটক করেন পুলিশ। এসময় তিনি ঘটনাস্থলের পাশে অবস্থান করছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় ছিদ্দিক মিয়া (৬০), ইউসূফ আলী (৬২), নয়ন মিয়া (৪২), আমিনুল (২৩), সুলতান আহমেদ (৩৬) জানান, ৬ জুলাই রাত সাড়ে ৮ টার দিকে শ্যামগঞ্জ রেলস্টেশন এলাকা থেকে মামুনকে আটক করে নিয়ে যান পুলিশ। তারা আরো বলেন, মামুনের বিরুদ্ধে ডাকাতির সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ এর আগে কোনদিন শুনেনি।

মামুনের ভাই উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীনুর ইসলাম (৪০) জানান, রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে তাদের পরিবারের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র করে আসছে। এ কারনে ইতিপূর্বে মামুনকে ষড়যন্ত্রমূলক বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়। এখন ডাকাত সাজিয়ে তাকে মিথ্যা মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, মামুনের বিরুদ্ধে ডাকাতি ঘটনায় জড়িত থাকার কোন অভিযোগ নেই অথচ গৌরীপুর থানার ওসির ফেসবুক আইডিতে তাকে একজন চিহ্নিত ডাকাত আখ্যা দিয়ে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। এতে তাদের পরিবারের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুন্ন হয়েছে।

এদিকে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ডাকাতির প্রস্তুতিকালে উল্লেখিত ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাক্ষী এ উপজেলার সিধলা ইউনিয়নের মনাটি গ্রামের মোঃ রদ্দিনের ছেলে রুহুল আমিন (২৩) ও একই ইউনিয়নের চারআনী গ্রামের মৃত আব্দুল বারেকের ছেলে আল আমিনের (২৫) মোকাবেলায় মামুনসহ বেলতলি গ্রামের হাবিবুর রহমান (৩৫) ও খাইরুল ইসলাম (৩৭) কে আটক করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার প্রথম সাক্ষী রুহুল আমিন (২৩) জানান, তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। তাই ডাকাতির প্রস্তুতিকালের ঘটনা বিষয়ে তিনি কোন কিছু জানেন না। ৭ জুলাই তিনি তার এক বন্ধুর সাথে গৌরীপুর থানায় এসেছিলেন একটি কাজে। এসময় থানার একজন পুলিশের অনুরোধে একটি কাগজে স্বাক্ষর করেন বলে জানান তিনি।

মামলার দ্বিতীয় সাক্ষী আল আমিন জানান, তিনি ডাকাতির প্রস্তুতি ঘটনার বিষয়ে কোন কিছু জানেন না। তার নিজ গ্রাম থেকে ঘটনাস্থলের দুরত্ব প্রায় ৫ কিঃ মিঃ। রাতে সাধারণত নিজ এলাকা ছেড়ে বাইরে কোন এলাকায় অবস্থান করেন না তিনি। রাত সাড়ে ১১ টার দিকে উল্লেখিত এলাকায় তার অবস্থান করার প্রশ্নই উঠে না বলে জানান তিনি।

তবে এক্ষেত্রে মামলার বাদী এস আই মাইনুল রেজার দাবি উল্লেখিত দুই সাক্ষীর মোকাবেলায় মামুনসহ অপর দুইজনকে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দেশীয় অস্ত্রসহ আটক করা হয়েছে। গৌরীপুর থানার ওসি মোঃ বোরহান উদ্দিন জানান, মামুনের পরিবার ও স্থানীয় লোকজনের দাবি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। ডাকাতির প্রস্তুতিকালে উল্লেখিত বেলতলি এলাকা থেকেই মামুনসহ অপর দুইজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এসময় সাংবাদিকের এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মামুনের নামে গৌরীপুর থানায় ডাকাতির অভিযোগে কোন মামলা নেই। তবে অন্যান্য অভিযোগে ৩টি মামলা রয়েছে। #



সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

ভালুকার বাইরে বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ১২৯৮ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই