তারিখ : ২০ অক্টোবর ২০২০, মঙ্গলবার

সংবাদ শিরোনাম


বিস্তারিত বিষয়

গৌরীপুরে সরকারি বিদ্যালয়ের টাকা আত্মাসাৎ

গৌরীপুরে সরকারি বিদ্যালয়ের টাকা আত্মাসাৎ করে বদলি হয়ে চলে গেলেন প্রধান শিক্ষক
[ভালুকা ডট কম : ২৩ আগস্ট]
একই নামের ভিন্ন বিদ্যালয়ের নামে বরাদ্দকৃত টাকা নিজ বিদ্যালয়ের একাউন্ট থেকে উত্তোলন করে আত্মাসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পত্র দেয়ার পরও ওই বিদ্যালয়ের টাকা ফেরত না দিয়েই এ প্রধান শিক্ষক বদলি হয়ে চলে গেছেন ঢাকায়। আর এ ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায়। এছাড়াও সার্ভিস বুক হারানো নেপথ্যে অনুসন্ধানে বেড়িয়ে এসেছে ফাঁকিবাজির আসল রহস্য।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) এসব তথ্যের সত্যতা স্বীকার করেছেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার মনিকা পারভীন। তিনি বলেন, টাকা ফেরতের জন্য পত্র দেয়া হয়েছে এবং মৌখিক তাগিদ দেয়া হলেও টাকা ফেরত দেননি ওই প্রধান শিক্ষক।  

প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের গোপন তদন্ত ও পত্রাদেশ সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার বোকাইনগর ইউনিয়নের ৪৫নং পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন দিলরুবা ইয়াসমিন। এ বিদ্যালয়ে ছিলেন ২০১৯সালের ১১ অক্টোবর পর্যন্ত। ২০১৮-১৯অর্থবছরে রামগোপালপুর ইউনিয়নের ১৩৯নং পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রুটিন মেইনটেন্স খাতের ৪০হাজার টাকা ভুলক্রমে ৪৫নং পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একাউন্টে চলে আসে। বিধিবহিভূতভাবে প্রধান শিক্ষক এ টাকা উত্তোলনও করেন। এরপর বদলি হন ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। ২০২০সালের ১৪ জানুয়ারি বদলি হন ঢাকা মিরপুরের তাফালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। টাকা ফেরতের জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার একাধিকবার মৌখিক তাগিদ দেন। এতেও টাকা ফেরত না দেয়ায় গত ৫ আগস্ট পত্রাদেশ জারি করেন ৩ কর্মদিবসের মধ্যে সরকারি কোষাগারে টাকা ফেরত দেয়ার। এই পত্রাদেশও মানলেন না এ প্রধান শিক্ষক। এ প্রসঙ্গে প্রধান শিক্ষক দিলরুবা ইয়াসমিন জানান, আমি আমার বিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দকৃত রুটিন মেইনটেন্স খাতের ৪০হাজার টাকা উত্তোলন করে যথাসময়ে কাজও সম্পূর্ণ করেছি। অন্য বিদ্যালয়ের কোন টাকা আমার স্কুলের একাউন্টে আসেও নাই, উত্তোলনও করিনি।  

অপরদিকে ‘সার্ভিস বুক হারানো’ গল্পে বেড়িয়ে এসেছে গোপনরহস্য! প্রধান শিক্ষক হিসাবে যোগ দেন ২০১৩সালের ২০জুন। সার্ভিস বুক হারানো সংক্রান্ত জিডি করেন গৌরীপুর থানায় ২০১৭সালের ৯জুলাই, জিডি নং ৩০২। ২০১৮সালের ৩১জানুয়ারি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের আদেশে তৎকালিন উপজেলা শিক্ষা অফিসার মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম খান ওই বছরের ৩০জুন নতুন সার্ভিস বুক খোলে দেন। সার্ভিস বুক হারানো গল্পে বেড়িয়ে আসে গোপন রহস্য।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ওই সার্ভিস বুকে ২০১৩সালের ২৯ডিসেম্বর থেকে ২০১৪সালের ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৪২দিনের চিকিৎসা ছুটি, ২০১৫সালের ১- ১০জানুয়ারি পর্যন্ত বিনাবেতন ছুটি, একই বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ৪ মে পর্যন্ত ৭২দিন ছুটি, ১১আগস্ট থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৪০দিনের ছুটি ফাঁকি দেয়া হয়েছে এ সার্ভিস বুকে। শুধু এক বছরের ৩৬৫দিনের মধ্যে সরকারি ও অফিসিয়াল ছুটি ব্যতিত ১২২দিন ছিলেন ছুটিতে তিনি। এ প্রসঙ্গে প্রধান শিক্ষক দিলরুবা ইয়াসমিন বলেন, আমার সার্ভিস বুক অফিস থেকে হারিয়েছে, আমি ডিজি করেছি, অফিসের লোকজন সার্ভিস বুক লিখেছে, সুতরাং এ দায়ও শিক্ষা অফিসের।

এদিকে সার্ভিস বুক হারানো সংক্রান্ত এমন শিক্ষকের সংখ্যাও একেবারে কম নয়। উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, ২০১৮সালে প্রায় ৩শ জন শিক্ষকের সার্ভিস বুক ছিলো না। অধিকাংশ শিক্ষকদের ফাাঁকিবাজি গায়েব করতেই নিখোঁজ হয়ে যায় এ সার্ভিস বুক! ফাঁকিবাজ শিক্ষকদের সঙ্গে সাধারণ শিক্ষকরাও ভোগান্তির শিকার হন এ দপ্তরে। এ প্রসঙ্গে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মনিকা পারভীন বলেন, ইতোমধ্যে প্রায় ৫০জনের নতুন সার্ভিস বুক খোলা হয়েছে, অন্যগুলোও প্রক্রিয়াধীন।#



সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

শিক্ষাঙ্গন বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ১২৯৫ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই