তারিখ : ২১ অক্টোবর ২০২০, বুধবার

সংবাদ শিরোনাম


বিস্তারিত বিষয়

ভালুকার কুমির প্রজনন কেন্দ্র থেকে বাৎসরিক আয় কোটি টাকা

ভালুকার কুমির প্রজনন কেন্দ্র থেকে বাৎসরিক আয় কোটি টাকা
[ভালুকা ডট কম : ১৭ সেপ্টেম্বর]
ভালুকা উপজেলা থেকে ১৭ কিলোমিটার দূরে উথুয়া ইউনিয়নের হাতিবেড় গ্রামে এই কুমির খামারটির অবস্থান। দেশে প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে কুমির চাষের যাত্রা শুরু হয় এই গ্রাম থেকে।বিদেশে কুমিরের চামড়া ও এর চাহিদা থাকায় ময়মনসিংহের ভালুকায় বেসরকারী প্রতিষ্ঠান রেপটাইলস ফার্ম লিমিটেড ২০০৪ সালে কুমিরের খামারটি প্রতিষ্ঠা করে। বাংলাদেশ পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় ২০০৪ সালের ৫ মে এ খামার প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দেয়। খামারের জন্য ২০০৪ সালের ২২ ডিসেম্বর মালয়েশিয়া থেকে সোয়া কোটি টাকা ব্যয়ে আনা হয় ৭৫টি কুমির। এখানে কুমির প্রজনন ও লালন-পালন কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে। বর্তমানে এই খামারে কুমিরের সংখ্যা প্রায় দুই হাজার।

সবুজ শ্যামল গাছগাছালিতে ঘেরা এই গ্রামটি। এটি শহরের ব্যস্ত কোলাহল মুক্ত পাখিদের কলকাকলিতে মুখরিত হাতিবেড় গ্রাম। এই গ্রামটিতেই রয়েছে কুমির খামার। এই কুমির খামারে গেলে মনে হবে একটি প্রাকৃতিক কুমির একুরিয়ামে এসে উপস্থিত হয়েছেন। কুমির নিয়ে আপনার যত হিংস্র ভাবনা তা নিমিষেই শেষ হয়ে যাবে। এখানে আসলে আপনি দেখতে পাবেন কুমিরের সৌন্দর্য ও পানির ভিতর তাদের মনোরম চলাচল। শুরুতে এই খামারটিতে ১৩ একর জমির মধ্যে চার একর জমির মাটি কেটে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ৩২ পুকুর তৈরি করা হয়েছে। বর্তমানে ২১ একর জায়গার উপর মোট ৪০টি পুকুর রয়েছে। রপ্তানিযোগ্য কুমিরের জন্য বিশেষ ব্যস্থায় তৈরি করা হয়েছে ৬০০টি আলাদা পুকুর। পুকুরগুলোর তলদেশ পাকা। তিন ফুট ইটের ওপর তিন ফুট কাঁটাতারের বেষ্টনী।

এ খামারকে ঘিরে প্রায় অর্ধশতাধিক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। প্রাকৃতিক পরিবেশে কুমির পালন ও বেড়ে ওঠা নিশ্চিত করার জন্য চারপাশে ৪০ প্রজাতির ছয় হাজার ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছ লাগানো হয়েছে। লাগানো হয়েছে কৃত্রিম ঘাসও। কুমিরের খাবার হিসেবে দেয়া হচ্ছে মাছ ও মাংস।

কুমিরের কোনো কিছুই ফেলনা নয়। রেপটাইলস ফার্ম লিমিটেড আগে শুধু কুমির রপ্তানিতে নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখলেও এখন কুমিরের চামড়াও যাচ্ছে বিদেশে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যাপক চাহিদা থাকায় ভবিষ্যতে রপ্তানির অপেক্ষায় রয়েছে মাংস, দাঁত ও হাড়। জাপান, চীন, তাইওয়ান, থাইল্যান্ডসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এসব চড়া দামে বিক্রি হয়। এই খামার থেকেই ২০১০ সালে জার্মানির একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার জন্য ৬৭টি কুমির রপ্তানি করা হয়। এর মাধ্যমে প্রথম রপ্তানিকারক দেশের তালিকায় নাম ওঠায় বাংলাদেশ। তাই এই খামার বাংলাদেশের একটি সম্ভাবনাময় খাত হিসাবে গড়ে উঠছে। এ খামার থেকে বর্তমানে প্রতি বছর কুমির রপ্তানি করে কয়েক কোটি টাকা আয় হচ্ছে।#


 



সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

ভালুকা বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ১২৯৫ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই