তারিখ : ২৫ অক্টোবর ২০২০, রবিবার

সংবাদ শিরোনাম


বিস্তারিত বিষয়

নওগাঁয় নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত

নওগাঁয় নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত,প্রতিদিনই নিমজ্জিত হচ্ছে নিন্মাঞ্চলের ফসল
[ভালুকা ডট কম : ২৯ সেপ্টেম্বর]
গত কয়েক দিনের বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানির ফলে আত্রাই নদীর সকল পয়েন্টে পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অপরদিকে নওগাঁ শহরের মধ্যে দিয়ে বয়ে যাওয়া ছোট যমুনা নদীর লিটন ব্রীজ পয়েন্টে বিপদসীমার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। যার কারণে প্রতিদিনই নিমজ্জিত হচ্ছে জেলার রাণীনগর,আত্রাই ও মান্দা উপজেলার নিমাঞ্চলগুলো। বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হচ্ছে সদ্য রোপন করা আমন ধানের ক্ষেত।

জেলার কয়েক লাখ জনগণের মাঝে আবারও বন্যাতঙ্ক দেখা দিয়েছে। টানা দেড় মাসেরও বেশি সময় বন্যার পানির সঙ্গে যুদ্ধের পর জেলার প্রান্তিক কৃষকেরা চাষাবাদের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। পানি বৃদ্ধির ফলে অনেকের ৪র্থ দফায় রোপনকৃত আমন ধান তলিয়ে যেতে শুরু করেছে।

গত জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে জেলার আত্রাই উপজেলার পাঁচটি স্থানে মান্দা-আত্রাই নদীর বেড়ীবাধঁ ভেঙে ৮টি ইউনিয়নের অর্ধ-শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়। ফলে শত শত পুকরের মাছ ভেসে যায়। হাজার হাজার হেক্টর জমির আমন ফসলের ক্ষতি হয়। দ্বিতীয় দফায় আগষ্টের শেষের দিকে আবারো নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বন্যা দেখা দেয়। এই অবস্থায় নদীর পানি কমে গেলে এবং লোকালয় থেকে পানি নেমে যাওয়ার পর কৃষকেরা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করতে থাকে।

আত্রাই ও ছোট যমুনা নদীর পানি কখনও কমছে, ফের কখনও বাড়ছে। পানির এই হ্রাস-বৃদ্ধিতে নদীর অরক্ষিত তীরে ভাঙনের আশঙ্কাও রয়েছে। এ ছাড়া নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের মানুষের মধ্যে বন্যার আতঙ্কও ছড়িয়ে পড়েছে। বন্যায় ফসল হারানো কৃষক দ্বিতীয় দফায় আবার নতুন ফসল লাগানোর প্রস্তুতি নিলেও তারা এখন আতঙ্কে আছে।

বেশ কয়েক দিন ধরে নদীর পানি বাড়ায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ফের বন্যার কোনো সতর্কবার্তা দেয়নি বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। এ কারণে এবারও সেপ্টেম্বরে বন্যার আশঙ্কায় অনেক কৃষক শীতকালীন সবজির আবাদ শুরু করতে দ্বিধায় ভুগছেন। এ ছাড়া সাম্প্রতিক বন্যায় এখনো বিধ্বস্ত বন্যাদুর্গত এলাকাগুলো। ভেঙে যাওয়া ঘরবাড়ি মেরামত করতে পারেননি নিম্ন আয়ের মানুষেরা।

জেলা কৃষি অফিস সূত্র জানা যায়, জেলার রাণীনগর উপজেলায় এ পর্যন্ত ৭৫০হেক্টর, আত্রাই উপজেলায় ১১৪৫হেক্টর ও মান্দা উপজেলায় প্রায় ৪হাজার বিঘা জমির আমন ধান বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়ে গেছে। গত বছর আমন চাষের মৌসুমে রেকর্ড পরিমাণ জমিতে চিনি আতপ ধানের চাষ হয়েছিল। এতে করে কৃষকরা ব্যাপক লাভবানও হয়েছিল। এবারে আগাম বন্যার পানি মাঠে চলে আসায় আমনচাষ ব্যহত হতে পারে।

উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের কৃষক আজাদ প্রামানিক বলেন, আমাদের বোরো ধান কেটে শেষ না করতেই মাঠে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। মাঠ পানিতে ভরে গেছে, জমির পানি একটু কমলেও আবারও বাড়ার কারনে আমন ধানের বীজতলা তৈরি করতেই পারলাম না। কিভাবে আমন চাষ করবো তা নিয়ে হতাশায় রয়েছি।

নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফউজ্জামান খান বলেন, নওগাঁর আত্রাই নদীর সকল পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ৫৫সেন্টিমিটারের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া ছোট যমুনা নদীর পানিও বর্তমানে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আমরা সার্বক্ষনিক ঝুঁকিপূর্ন বেড়িবাধগুলো পরিদর্শন করছি। চেষ্টা করছি যতটুকু মেরামত করা যায়। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী দুই-তিন দিন পানি আরও কিছুটা বৃদ্ধি পাবে বলে জানান তিনি।#



সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

জীবন যাত্রা বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ১২৯৫ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই