তারিখ : ২৩ জানুয়ারী ২০২১, শনিবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

তাজরিন গার্মেন্টসে অগ্নিকান্ডের আট বছর

তাজরিন গার্মেন্টসে অগ্নিকান্ডের আট বছর,ক্ষতিপূরণ এবং দায়ী কারখানা মালিকের কঠোর শাস্তির দাবি
[ভালুকা ডট কম : ২৪ নভেম্বর]
রাজধানীর অদূরে আশুলিয়ার তাজরিন গার্মেন্টস কারখানায় অগ্নিকান্ডে শতাধিক শ্রমিক দগ্ধ হয়ে মারা যাবার আট বছর পূর্তি হচ্ছে আজ ২৪ নভেম্বর। এ উপলক্ষে সকালে নিহত শ্রমিকদের স্মরণে তাদের স্বজন ও আহত শ্রমিক ও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা কারখানাটির প্রধান ফটকের সামনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।

এ সময় মানববন্ধন থেকে শ্রমিক সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা তাজরিন ফ্যাশনে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত সব শ্রমিককে  ক্ষতিপূরণ প্রদান ও মালিক দেলোয়ার হোসেনের কঠোর শাস্তি দাবি করেন। এ সময়  যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে তাজরীন গার্মেন্টসের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ওদিকে, প্রাপ্য অর্থ পরিশোধের দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ করছেন তাজরিন ফ্যাশনস ট্র্যাজেডিতে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকরা। মঙ্গলবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা। বিক্ষোভ  মিছিলটি প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের দিকে যাওয়ার কথা থাকলেও হাইকোর্ট মোড়ে পুলিশি বাধার মুখে পড়ে শ্রমিকরা আবারো জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ফিরে এসে সেখানেই অবস্থান নেন। এ সময় আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত, আর্থিক ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন ব্যবস্থার দাবি জানান ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকরা।

তাছাড়া, তাজরীনের আহত বেশ কয়েকজন শ্রমিক তাদের  ন্যায্য ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন ও সুচিকিৎসার দাবিতে ৬৭ দিন ধরে প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। শ্রমিকদের এই কর্মসূচি পালন কালে  শ্রম মন্ত্রণালয় থেকে কোনো আশ্বাস মেলেনি এমন কী   মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএও তাদের কোনো খোঁজ নেয়নি।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর তাজরিন গার্মেন্টসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত ১১১ জনের মধ্যে লাশ শনাক্ত হওয়ায় ৫৮ জনকে তাদের আত্মীয় স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বাকি ৫৩ জনের লাশ শনাক্ত করা সম্ভব হয় নি। তাদের অজ্ঞাতনামা হিসেবে রাজধানীর  জুরাইন কবরস্থানে দাফন করা হয়।এছাড়া এই আগুনের ঘটনায় আহত হন আরও ১০৪ জন শ্রমিক।  যাদের অনেকেই বিনা চিকিৎসায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অনেকেই এখনো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি।পঙ্গু সদস্যদের নিয়ে নিদারুণ কষ্টে রয়েছে তাদের পরিবার। কারাখানা দুর্ঘটনার ইতিহাসে এত বিশাল সংখ্যক শ্রমিক পুড়ে মারা যাবার কারণে এটি বিশ্বব্যাপী  আলোড়ন  সৃষ্টি করে।

তাজরিন অগ্নিকান্ডের মামলায় প্রতিষ্ঠানটির মালিক দেলোয়ার হোসেন ও তার স্ত্রী প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মাহমুদা আক্তারসহ ১৩ জন আসামি করে মামলা রুজু করা হয়। মামলাটি তদন্তের পর ২০১৩ সালের ১৯ ডিসেম্বর ১৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন সিআইডির পুলিশের পরিদর্শক একেএম মহসীনুজ্জামন। এরপর ২০১৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। চার্জশিটে, ভবনটির নকশায় ত্রুটি ও জরুরি নির্গমনের পথ না থাকায় এবং আগুন লাগার পর শ্রমিকরা বাইরে বের হতে চাইলে নিরাপত্তা কর্মীরা আগ্নিকাণ্ডকে অগ্নিনির্বাপন মহড়া বলে শ্রমিকদের কাজে ফেরত পাঠিয়ে কলাপসিবল গেট লাগিয়ে দেওয়ার কারণে বিপুল  সংখ্যক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে উল্লেখ করা হয়।

ওদিকে, এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ সাক্ষী হাজির করতে না পারায় বিচার থমকে আছে। ১০৪ জন সাক্ষীর এ মামলায় গত ৫ বছরে মাত্র আটজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করতে পেরেছেন আদালত। ফলে এ মামলার নিষ্পত্তি কবে হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন ভুক্তভোগীদের পরিবার।২০১৫ সালে মামলাটির বিচার শুরুর পর প্রথম ২ বছরের মধ্যে সাতজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত। ২০১৮ ও ২০২০ সালে কোনো সাক্ষী হাজির করতে পারেনি রাষ্ট্রপক্ষ। তবে  ২০১৯ সালের ৭ মার্চ একজন সাক্ষীকে আদালতে উপস্থাপন করে রাষ্ট্রপক্ষ।

ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত জেলা জজ আদালতে চলমান এ মামলায় সাক্ষীদের পাওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। এ সম্পর্কে ওই আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর রেহানা আক্তার বলেন, চার্জশিটে সাক্ষীদের যে ঠিকানা দেওয়া আছে, সেখানে সমন ও ওয়ারেন্ট পাঠানো হলেও পুলিশ তাদের পাচ্ছে না। তাই সাক্ষী হাজির করা যাচ্ছে না।অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহমেদ বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ সাক্ষী না আনতে পারায় আসামিরাও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। আমরাও চাই এ মামলার বিচার দ্রুত  সম্পন্ন হোক।

বিচারের দীর্ঘ সূত্রিতা প্রসংগে সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি নাজমা আক্তার বলেছেন, তৈরি পোশাকশিল্পে নব্বইয়ের দশক থেকে মালিকদের গাফিলতিতে অগ্নিকাণ্ড ও ভবনের ধসের ঘটনায় অনেক শ্রমিক মারা গেছেন। তবে একটি ঘটনারও বিচার সম্পন্ন হয়নি। এ অবস্থায় ন্যায্য দাবিতে শ্রমিকেরা আন্দোলন করলেই কালো তালিকাভুক্ত, চাকরিচ্যুত, মামলা, হামলার শিকার হতে হচ্ছে। মালিকপক্ষ প্রভাবশালী হওয়ার কারণেই তাজরীন ফ্যাশনসের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার এখনো বিচার পাওয়া যায় নি।#



সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

অন্যান্য বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ১৩০০ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই