তারিখ : ১৩ এপ্রিল ২০২১, মঙ্গলবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

ভালুকার কুমির চাষ,রপ্তানির অপেক্ষায় ৫০০ কুমির

ভালুকায় বাণিজ্যিক ভাবে কুমির চাষ,রপ্তানির অপেক্ষায় ৫০০ কুমির
[ভালুকা ডট কম : ০১ মার্চ]
ভালুকা উপজেলার উথুরা ইউনিয়নের হাতিবেড় গ্রামে বাণিজ্যিকভাবে গড়ে ওঠা কুমির চাষ প্রকল্প র‌্যাপটাইলস ফার্ম লিমিটেড থেকে কোটি কোটি টাকার কুমিরের চামড়া জাপানে রপ্তানি করা হচ্ছে। বর্তমানে আরও ৫০০ টি কুমির রপ্তানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে বলে ফার্ম কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।

১ মার্চ সোমবার উথুরার হাতিবের গ্রামে চারিদিকে নিরাপত্তা প্রাচীরের উপরে কাটা তারে আচ্ছাদিত র‌্যাপটাইলস ফার্র্মে গেলে ম্যানেজার প্রাণী চিকিৎসক ডাঃ আবু সাইম মোহাম্মদ আরিফ সংবাদ প্রতিনিধিকে কুমিরের আবাসস্থল ঘুরে ঘুরে দেখান।তিনি জানান করোনা ও বাজার মূল্যে কিছুটা ধস নামায় এক বছর যাবৎ রপ্তানীর জন্য ৫০০ কুমির অপেক্ষমান রয়েছে। এ ফার্ম থেকে সর্বশেষ ২০১৯ সালের ২২ ডিসেম্বর জাপানের হরিউঁচি ট্রডিং কোম্পানি নামে একটি টেনারিতে ৪৩০টি কুমিরের চামড়া বাণিজ্যিক ভাবে রপ্তানি করা হয়েছে। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা। কুমিরের মাংস,দাত ও হাড় সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে। রপ্তানির জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে। কুমিরের মাংস গুলি শুকিয়ে প্রক্রিয়াজাত করে রপ্তানি করা হবে। এ ফার্ম হতে ২০১০ সালে জার্মানির হাইডেল বার্গ ইউনিভার্সিটিতে গবেষনার জন্য ছোট বড় মিলিয়ে ৬৭ টি কুমির এক কোটি টাকায় বিক্রি করা হয়। ২০১৪ হতে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ৫ বারে ছোট বড় সাইজের ১৫০৭ টি কুমিরের চামড়া রপ্তানী করা হয়েছে।

এছাড়াও ২০১৩ সালের আগস্ট মাসে গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে উপহার হিসাবে ৫টি কুমির দেয়া হয়। জাপানের হরিউঁচি ট্্েরডিং কোম্পানির লোকজন বেশ কয়েকবার ফার্মটি পরিদর্শণ করেছেন। ভালুকা উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৭ কিলোমিটার দুরে অবস্থিত হাতিবেড় গ্রামে র‌্যাপটাইলস ফার্ম লিঃ নামে প্রায় ১৪ একর জমি ক্রয় করে ২০০৪ সালের ২২ ডিসেম্বর ৭৪ টি কুমির দিয়ে খামারটি শুরু করা হয়। মালয়েশিয়ার সারওয়াত থেকে সোয়া কোটি টাকা ব্যয়ে ১৫ টি পুরুষ কুমির সহ মোট ৭৫ টি কুমির আনা হয়। এর মধ্যে পর্যায় ক্রমে ৮টি কুমির মারা যায়। পরে কুমির গুলো প্রকল্পের পুকুরে ছাড়া হয়। এসব কুমিরের বয়স ১০ থেকে ১৪ বছর ছিল। বর্তমানে খামারে ৪০টি পুকুর রয়েছে। ২০১৩ সালে মালয়েশিয়ার সারওয়াত কুমির ফার্ম থেকে দেড় কোটি টাকা দিয়ে আরও ৪০টি ব্রিডার কুমির ক্রয় করে আনা হয়েছে। সব মিলে বর্তমানে এ খামারে ১০০টি ব্রিডার কুমির রয়েছে। বর্তমানে ওই ফার্মে ১ থেকে ৩০ বছর বয়সের প্রায় ৩ হাজার কুমির রয়েছে। যাদের আবাস স্থল হিসেবে ৪০ টি পুকুর রয়েছে। পুকুরের চারপাশে নেপিয়ার ঘাস রোপন করা হয়েছে যা দিয়ে প্রজননের সময় কুমির গুলি বাসা বানিয়ে সেখানে ডিম দেয়। বন্য অবস্থায় ১০/১২ বছর বয়সে এবং ফার্মে ৬/৭ বছর বয়সের একটি স্ত্রী কুমির বছরে একবার (জুন, জুলাই ও আগষ্ট)মাসে গড়ে ৫০ টি করে ডিম দিয়ে থাকে। এ খামারে একটি কুমির সর্বোচ্চ ৭২ টি ডিম দিয়েছে। প্রথম দিকে আনা কুমির গুলি এ পর্যন্ত ৮ থেকে ১০ বার ডিম দিয়েছে। ইনকিভেটরে ডিম ফুটাতে সময় লাগে ৭০ থেকে ৮০ দিন। ৭০% হতে ৮০% ডিম হতে বাচ্চা পাওয়া যায়। ছোট বাচ্চা রাখার জন্য ১০ টি হ্যাচারী রয়েছে। রপ্তানী প্রক্রিয়ার জন্য ৫ ফুট প্রস্থ ৭ ফুট দৈর্ঘের ৫৬০ টি একক পন্ড রয়েছে। ডিম ফুটানোর জন্য দুটি ইনকিভেটর মেশিন, চামড়া মজুদ রাখার জন্য দুটি কক্ষ আছে। বিভিন্ন বয়সের কুমিরের খাবার বাবদ মাসে প্রায় ৪ লাখ টাকা ও ষ্টাফদের মাসে বেতন বাবদ ৪ লাখ টাকা মোট ৮ লাখ টাকার মত প্রতি মাসে এ ফার্মে খরচ হয়ে থাকে ।

কুমিরের খাবারের জন্য নিজস্ব পুকুরের মাছ ও ব্রয়লার মুরগীর পোল্ট্রি খামার রয়েছে। যা থেকে কুমিরের খাবার সরবরাহ করা হয়। ১ দিন হতে হতে ১ বছর পর্যন্ত বাচ্চা কুমিরকে প্রতিদিন মুরগীর মাংস দিয়ে কিমা রান্না করে খাওয়াতে হয়। নভেম্বর হতে ফেব্রুয়ারী ৪ মাস সাধারণত কুমির খাবার গ্রহন করেনা। কুমিরের আয়ুষ্কাল ৮০ থেকে ১০০ বছর পর্যন্ত হয়ে থাকে।  প্রতি মাসে এদের বয়স অনুসারে ওজনের ১৫% খাবার দেয়া হয়। এখানে কৃত্রিম উপায়ে ডিম ফুটানোর ব্যবস্থা রয়েছে।

এ ছাড়াও এ খামারের নিজস্ব উৎপাদিত ছোট বড় মিলে ১২/১৩ শতাধিক কুমির রয়েছে যে গুলোর দৈর্ঘ্য ৫ ফুট থেকে সাড়ে ৮ ফুট পর্যন্ত। বাণিজ্যিকভাবে রপ্তানির লক্ষ্যে লালন পালন করার জন্য তৈরি করা হয়েছে ‘কুমিরবেড়’। ফার্ম পরিচালনার দায়িত্বে কর্মকর্তা সহ ৩২ জন লোক কর্মরত রয়েছেন। এদের মধ্যে ৮ বছর যাবৎ কুমির দেখাশোনা করছেন মজনু মিয়া নামে একজন শ্রমিক। নিরাপত্তা কর্মী হিসাবে ৫ বছর যাবৎ কর্মরত আছেন রুফুল আমীন সহ অনেকে। তারা জানান এ ফার্মে কাজ করে তাদের স্ত্রী সন্তানের বরন পোষন করছেন। ফার্মের উন্নতি তাদের জীবিকার প্রেরনা।#



সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

ভালুকা বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ১৩০৯ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই