তারিখ : ৩১ জুলাই ২০২১, শনিবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

নান্দাইলে কৃষক কন্যা তাসলিমার স্বপ্ন পুরন

নান্দাইলে কৃষক কন্যা তাসলিমার মেডিকেল কলেজে ভর্তির স্বপ্ন পুরন
[ভালুকা ডট কম : ০৯ এপ্রিল]
ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার বীরবেতাগৈর ইউনিয়নের পলাশিয়া গ্রামের কৃষক দম্পতির কন্য তাসলিমা আক্তার মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়ার স্বপ্ন পূরন হয়েছে। ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস কোর্সের প্রথম বর্ষে ভর্তি পরীক্ষায় মেধাক্রমে ২৩১২ তম হয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। তাঁর এই খবর শুনে পিতা মাইজ উদ্দিন ও মাতা হেলেনা আক্তারের প্রাণ যেন জুড়িয়ে গেলো। এমন শুভ সংবাদের পর এলাকার চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লে তাসলিমা আক্তারের পরিবার ও আত্মীয়-স্বজন সহ পলাশিয়া গ্রামজুড়ে বয়ে বেড়াচ্ছে আনন্দের বন্যা।

জানাগেছে, মেধাবী তাসলিমা আক্তার উক্ত কৃষক দম্পতির তিন সন্তানের মধ্যে সে সবার ছোট। ছোটবেলা থেকে তাঁর পিতা-মাতার পাশাপাশি সে নিজেও ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন মনে লালন করতো। তবে বাবা-মায়ের এই অদম্য ইচ্ছাশক্তিই সফলতার পথ দেখিয়েছে তাসলিমা আক্তারকে। শিক্ষাজীবন জুড়েই আর্থিক দুশ্চিন্তা ছিল তাসলিমার নিত্যসঙ্গী। বি.এ পাশ পিতা মাইজ উদ্দিন বর্তমানে কৃষি কাজের পাশাপাশি স্থানীয় একটি বাজারে কাপড়ের ব্যাবসা করেন। তবে মেধার জোরে সব বাধা জয় করে আজ মেডিকেলে পড়ার সুযোগ পেয়েছে তার মেয়ে তাসলিমা আক্তার। তাসলিমা প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা, জেএসসি, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন এ প্লাস পেয়ে সাফল্যের সাথে উর্ত্তীণ হয়েছে। মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পাওয়ায় গর্বিত তাঁর বিদ্যাপীঠ, শিক্ষক ও এলাকার লোকজন। নান্দাইলের বীরকামট খালী জে.বি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় তাসলিমা আক্তার।

জে.বি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল হাকিম বলেন, তাসলিমা ছোটবেলা থেকেই মেধাবী। সে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা, জেএসসি, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় বৃত্তিসহ গোল্ডেন এ প্লাস পেয়ে সাফল্যের সাথে উর্ত্তীণ হয়েছে। তিন ভাইবোনের মধ্যে তাসলিমার বড় ভাই ফয়সাল আহমেদ বিএসসি ইইঞ্জিনিয়ারিং অধ্যয়নরত, বড়বোন মাহমুদা আক্তার মিতু এমএসসি পাশ করে বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

পিতা মাইজ উদ্দিন বলেন, কষ্টে উপার্জিত অর্থে কোনরকম চলে তার সংসার। বহু কষ্ট করে ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা করিয়েছেন তিনি। তবে পিতা মাইজ উদ্দিন ও মাতা হেলেনা আক্তার উভয়ই বি.এ পাশ। তারা জানান, আল্লাহর অশেষ রহমত ও শিক্ষকদের সহযোগীতায় আমাদের সন্তান ভাল ফল করতে পেরেছে। এ জন্যে মহান আল্লাহর কাছে শোকরিয়া আদায় করছি। আমার মেয়ে মানবিক চিকিৎসক হোক, এটিই আমার চাওয়া।

তাসলিমা আক্তার বলেন, এই সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান আমার মায়ের। ডাক্তার হয়ে দেশের মানুষের সেবা করতে চাই। আমি সকলের দোয়াপ্রার্থী।#



সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

পাঠক মতামত বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ১৩১৩ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই