তারিখ : ৩০ জুলাই ২০২১, শুক্রবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

শ্রীপুরে কর্মরত স্টেশনেই কিনেছেন কোটি টাকার জমি

শ্রীপুরে কর্মরত স্টেশনেই কিনেছেন কোটি টাকার জমি প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা
[ভালুকা ডট কম : ১২ জুলাই]
শ্রীপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুল হাসান বিগত ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭সালে শ্রীপুরে যোগদান করেন। এর পূর্বে তিনি গাজীপুর সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। উপজেলার প্রতিটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নোট ও গাইড বই কিনতে বাধ্য করায় তার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে বিগত ২০১৮সালে রীট পিটিশন দায়ের করেন এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক। উচ্চ আদালত সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উর্দ্ধতন কর্মকর্তা সহ এই শিক্ষাকর্তার বিরুদ্ধে রুল জারী করলে ওই বছরই প্রশিক্ষনের নামে দেশ ত্যাগ করেন। এক বছর পর ২০১৯ সালে দেশে ফিরে ফের তিনি পূর্বের কর্মস্থলে যোগদান করেন। তার অনিয়ম দুর্নীতি গাজীপুরে এখন ওপেন সিক্রেট।

কর্মরত স্টেশনেই প্রায় ২ কোটি টাকার সম্পদ প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুলের দীর্ঘদিন গাজীপুর জেলায় কর্মরত থেকে তিনি কোটি টাকার সম্পদ গড়েছেন। শ্রীপুরেই তার সম্পদের পরিমাণ ছাড়িয়ে যাবে দুই কোটি টাকার উপর। একজন সরকারী কর্মকর্তার এতো সম্পদ গড়ে তোলায় স্থানীয়রাও এখন বিস্মিত। শ্রীপুরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে তার এ সম্পদের খোঁজ মিলেছে।

অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য মতে, তিনি নিজ নামে শ্রীপুর পৌর এলাকার কেওয়া পশ্চিম খন্ড গ্রামে (দারগারচালা) শ্রীপুর উপজেলা সাব রেজিষ্ট্রি অফিসে ১৫০৯১/১৬, ৮২৩৬/১৩, ১১৫৫৬/১৩, ৪১৩৩/১৫, ৮১৮৭/১৭, সহ আরো ভিন্ন ভিন্ন দলিলের মাধ্যমে প্রায় ৭০শতাংশ জমি কিনেছেন। উক্ত জমি শ্রীপুর উপজেলা ভূমি অফিসে  নিজ নামে নামজারীও করেছেন। এর জোত নং যথাক্রমে ২২৪৩০, ১৯৩২২, ১৯১৩৯, ২৩৩৬৭, ২৩৫৫২। দলিলে থাকা তথ্য অনুযায়ী তার নাম কামরুল হাসান, পিতার নাম হাসান আলী, ঠিকানা উত্তর কাফরুল ঢাকা। সড়ক সংলগ্ন স্থানে কয়েকটি প্লটে কেওয়া মৌজায় তিনি স্থানীয় মহর আলী ও মাকাদুল ইসলামের কাছ থেকে ৩২শতাংশ, জালাল উদ্দিন গংদের কাছ থেকে ১২ শতাংশ, শাহজাহান গংদের কাছ থেকে ১৭.৫০ শতাংশ, জয়নাল গংদের কাছ থেকে ১৭.৫০ শতাংশ জমি কিনেছেন। এছাড়াও উপজেলার বারতোপা এলাকায়ও বেশ কিছু জমি রয়েছে তার।  ক্রয় করা এসব জমিতে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করে ফটক লাগিয়ে রেখেছেন। সম্প্রতি তার এসব জমির বিষয়ে খোঁজ হওয়ায় অর্ধকোটি টাকায় একটি প্লট বিক্রি করেছেন, বাকীগুলোও বিক্রি করার প্রস্ততি নিয়েছেন। একজন সরকারী কর্মকর্তার কর্মরত স্টেশনে এতো সম্পদের উৎস্য নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা চলছে সর্বত্রই।

নিজের বিরুদ্ধে উঠা বিভিন্ন অভিযোগ অস্বীকার করে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুল হাসান বলেন,আমি বেশ কয়েকবছর পূর্বে এসব জমি কিনেছিলাম। যদিও এখন তা বিক্রি করে দিচ্ছি। জমি কেনার অর্থের বিষয়ে তিনি জানান আমার স্ত্রী বেসরকারি বিশ্বদ্যিালয়ে চাকুরী করে,আমার বোন আমেরিকায় বসবাস করে এবং আমি জিপি ফান্ড ও ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে জমি ক্রয় করেছি।

গাজীপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোফাজ্জল হোসেন বলেন, তার কাছে এখনো এমন কোন অভিযোগ আসেনি। তবে তিনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলে জানান। আর সম্পদের বিষয়টি একান্তই তার নিজস্ব।#





 



সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ১৩১৩ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই