তারিখ : ০৮ ডিসেম্বর ২০২১, বুধবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

ইউপি নির্বাচনে সংঘাত আ.লীগের দলীয় বিশৃঙ্খলা

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সংঘাত: আওয়ামী লীগের দলীয় বিশৃঙ্খলাকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা
[ভালুকা ডট কম : ১৯ নভেম্বর]
স্থানীয় সরকারের সর্বনিম্ন স্তর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রধান বিরোধীদল বিএনপিসহ বেশীরভাগ রাজনৈতিক দল অংশ না নিলেও এক রকম খোলা মাঠে খেলতে গিয়ে সহিংসতা, প্রাণহানি, হামলা ও ভাংচুরের কমতি হচ্ছেনা।বেশিরভাগ জায়গায় আওয়ামী লীগের মুখোমুখি আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীরা। তাই ভোটে জয়ী হতে বিদ্রোহীদের প্রভাব বিস্তারের কারণে সহিংসতাও বেড়েছে। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করার কারণে দল থেকে বহিষ্কার করেও সংঘাত ঠেকানো যাচ্ছে না।

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সহিংসতার প্রশ্নের জবাবে গত বুধবার সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এই নির্বাচনে আমরা শুধু চেয়ারম্যান পদে প্রতীক দিচ্ছি, কিন্তু মেম্বার পদে কোনো প্রতীক নেই। তাদের কোনো প্রতীক থাকে না। আপনারা যদি ঘটনাগুলো দেখেন, মেম্বারদের মধ্যেও গোলমাল। শুধু যে চেয়ারম্যান প্রতীক দিচ্ছি দেখেই মারামারি তা কিন্তু না।

প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছেন,বাংলাদেশের ইতিহাসে নির্বাচনী সহিংসতা অনেক কমিয়ে আনা হয়েছে, তবে এটা ঠিক, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সহিংসতা আগেও হয়েছে। এখনও হোক সেটা চাই না। একটা হানাহানি, ভোট দিতে গিয়ে মানুষের প্রাণ যাবে এটা কখনও গ্রহণযোগ্য নয়।

নির্বাচন কমিশনের হিসেব মতে এখন পর্যন্ত ইউপি নির্বাচনে প্রায় ৫০জনের প্রাণহানি ঘটেছে। বেশিরভাগ সদস্য প্রার্থীদের কারণেই। সদস্য প্রার্থীদের সঙ্গে আছেন বিদ্রোহীরাও। সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে দ্বিতীয়ধাপের ভোটে। মূলত ভোটে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপি বর্জন করায় ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীরা বিনাভোটে নির্বাচিত হওয়ার প্রতিযোগিতার কারণেই সহিংসতা হচ্ছে।

সহিংসতার কারণ হিসাবে খোদ নির্বাচন কমিশন মনে করছে, রাজনৈতিক ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে এসব ঘটনার জন্ম দিচ্ছে। তবে এই সহিংসতার জন্য প্রার্থী এবং রাজনৈতিক দলের কর্মীদের অসহনশীল মানসিকতা অনেকাংশেই দায়ী বলে মনে করছেন তারা।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. শাহদাত হোসেন চৌধুরী গনমাধ্যমকে  বলেন, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতিবাচক পরিবর্তনের কারণে সহিংসতা হচ্ছে। নির্বাচনে রাজনৈতিক দলের কর্মী এবং প্রার্থীর সমর্থকদের সহনশীল হতে হবে। রাজনৈতিক দলের কর্মীরা সংযত হলে সহিংসতা কমে আসবে। সহিংসতা কমানোর ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের বড় ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

এদিকে, আজকেও যশোরের শার্শা উপজেলার গোগা ইউনিয়নে নির্বাচনী সহিংসতায় দুইজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরও একজন। শুক্রবার সকালে পাচভুলট দাখিল মাদ্রাসার খেলার মাঠে এ ঘটনা ঘটে।

ওদিকে, নওগাঁর মান্দায় গনেশপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় আহত রানা (৩৮) মারা গেছেন। আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

নেত্রকোনার দুর্গাপুরের চণ্ডীগড় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী এমদাদুল হক আলম সরকারের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এমদাদুল হকের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আলতাবুর রহমানের সমর্থকেরা তাঁদের ওপর হামলা করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চণ্ডীগড় বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার পুটাইল ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান আবদুল জলিলের নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুর ও তাঁর এক কর্মীকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে ঘোস্তা জাহাঙ্গীরনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

কক্সবাজারের চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় দলের ১০ নেতাকে দল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ ও দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ায় পাঁচ নেতা-কর্মীকে বহিষ্কার করেছে জেলা আওয়ামী লীগ। এর মধ্যে চারজন নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। গতকাল বুধবার রাতে ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জহিরুল হক ও সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হয়ে দলের সিদ্ধান্ত অমান্য ও শৃঙ্খলা ভঙ্গ করায় সাধারণ সদস্য পদ থেকে তাঁদের বহিষ্কার করা হলো।এ ছাড়া হরিরামপুর ইউপিতে নৌকা প্রতীকের বিপক্ষে প্রচারণায় অংশ নেওয়ায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি রফিকুল ইসলামকে বহিষ্কার করা হলো।

এ পর্যন্ত দুইধাপে ১১৯৭টি ইউপির ভোট সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ৭৫৬টি ইউপিতে জয়লাভ করেছে। এর মধ্যে ভোট ছাড়াই রয়েছেন ২৫৪জন। সরাসরি ভোটে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন ৫০২টি ইউপিতে। অন্যদিকে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়লাভ করেছে ৪১৬টি ইউপিতে। যাদের অধিকাংশই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীরা। স্বতন্ত্রদের মধ্যে প্রায় শতাধিক ইউপিতে জয়ী আবার বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। এছাড়াও জাতীয় পার্টি-জাপা ১৩টি, জাতীয় পার্টি-জেপি-৫টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ৪টি, অন্যান্য দলের ৩জন বিজয়ী হয়েছেন। #



সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

অন্যান্য বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ১৩২৬ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই