তারিখ : ১২ আগস্ট ২০২২, শুক্রবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

রাণীনগরের খট্টেশ্বের প্রথম নারী চেয়ারম্যান রূমকি

সমাজের অবহেলিত-নির্যাতিত-পিছিয়ে পড়া নারীদের এগিয়ে আনতে কাজ করতে চান চেয়ারম্যান চন্দনা সারমিন রূমকি
[ভালুকা ডট কম : ২৭ নভেম্বর]
নওগাঁর রাণীনগরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ১নং খট্টেশ্বর রাণীনগর ইউনিয়নে নারী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন মোছা. চন্দনা সারমিন রূমকি। বর্তমান পুরুষ শাসিত সমাজে অবহেলিত ও নির্যাতিত নারীদের পাশে থেকে সাহস আর উৎসাহ দিয়ে সামনে এগিয়ে আনার কাজ করতে চান চেয়ারম্যান চন্দনা। রুমকি বলেন, পুরুষ শাসিত এই সমাজে নারীরা অনেকটায় পিছিয়ে আছে। নানা ভাবে তারা অবহেলিত ও নির্যাতিত হচ্ছে। এসব অবহেলিত, নির্যাতিত ও পিছিয়ে থাকা নারীদের এগিয়ে নিতে এবং স্বামীর রেখে যাওয়া স্বপ্ন পূরনে কাজ করে যাবো।

চেয়ারম্যান চন্দনা সারমিন রূমকি উপজেলা সদরের রাজাপুর গ্রামের যুবলীগ নেতা মরহুম গোলাম মোস্তফার স্ত্রী। দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে রাণীনগর উপজেলায় এই প্রথম ইউনিয়ন পরিষদের নারী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন দুই কন্যা সন্তানের জননী রূমকি।

চেয়ারম্যান রূমকি বলেন, বর্তমান সরকার প্রধান হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা নারীদের ঘরে ঘরে বহুমুখি সেবা পৌছে দেওয়ার লক্ষ্যে ইউনিয়ন পরিষদ কেন্দ্রিক নানা পদক্ষেপ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন করে আসছে। বিধবা ভাতা, গর্ভকালীন ভাতা, অস্বচ্ছল নারীদের জন্য ভিজিডি, ভিজিএফ, দু:স্থ্যমাতাসহ নানা রকমের সুযোগ ও সুবিধা দেওয়ার রেওয়াজ চালু করেছে নারী বান্ধব বর্তমান সরকার। কিন্তু কিছু অসৎ শ্রেণির লোভী মানুষের জন্য অনেকাংশে এসব সুবিধাগুলো সমবন্টন হয় না। আমি এই সব সুযোগ-সুবিধা মানুষদের জন্য বিশেষ করে নারীদের মাঝে সমবন্টনে ও সঠিক ভাবে প্রাপ্তির ক্ষেত্রে সর্বদাই কঠোর ভাবে কাজ করবো। সমাজে পিছিয়ে পড়া নারীদের প্রশিক্ষনের মাধ্যমে দর্জির কাজ, বাড়ীতে হাঁস-মূরগী পালন, গবাদী পশুপালন, মাদুর ও তাঁত শিল্পসহ বিভিন্ন কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে অর্থনৈতিক ভাবে স্বাবলম্বি করতে হবে। তাহলে সমাজে নারীরা আর অবহেলিত থাকবে না।

তিনি আরো বলেন, আমাদের গ্রাম অঞ্চলের নারীরা তেমন সচেতন নয়, মেয়েদের বয়সন্ধিকাল সম্পর্কে স্বাস্থ্য সচেতনতার ব্যবস্থা করতে হবে। শিক্ষার দিক দিয়ে অনেকটায় পিছিয়ে থাকে নারীরা। বিশেষ করে কোন মেয়ে কিশোরী হলেই বাবা-মা তাকে বিয়ে দিতে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। ফলে স্কুলের গুন্ডি পেরুনোর আগেই বিয়ে দিয়ে দেয়। বাল্য বিয়ের কুফল সর্ম্পকে ধারনা না থাকার কারনে শত শত নারীর সংসার গড়ে ওঠার আগেই ভেঙ্গে যায়। এই সমাজে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মেয়েদের বোঝা মনে করা হয়। এতে অনেক সময় মেয়েরা স্বামী পরিত্যাক্তা হয়ে বাবা-মার কাঁধে বোঝা হয়ে দাড়ায়। তাই বাল্য বিয়ে সম্পর্কে নারীদের সচেতন করতে কাজ করে যাবো।

সরকার নারীদের এগিয়ে নিতে যুগপযোগী যে পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করেছে সেই বার্তাগুলো সঠিক ভাবে সমাজের নারীদের কাছে পৌছে দিতে হবে। পুরুষের সাথে তাল মিলিয়ে কিভাবে কাজ করতে হবে সেই বার্তা প্রতিটি ঘরের নারীদের কাছে পৌছে দিতে হবে। বর্তমানে সারা দেশে নারীরা এখন অফিস আদালত, স্কুল কলেজ, বিভিন্ন বাহিনীসহ প্রশাসনের মতো গুরুত্বপূর্ন শাখায় পুরুষের পাশাপাশি নারীরা জায়গা করে নিচ্ছে। শহরে নারীরা নানা কাজ কর্মে যুক্ত থেকে দেশের উন্নয়নে অগ্রনি ভূমিকা পালন করছে। বিশেষ করে তৈরি পোষাক খাতে নারীদের অবদান অনস্বীকার্য। কিন্তু মফস্বল তথা গ্রাম অঞ্চলে এখনো নারীরা সেভাবে এগিয়ে আসতে পারছে না। তাই পুরুষের সাথে তাল মিলিয়ে আমাকেও সমাজে পিছিয়ে পড়া মা-বোনদের এগিয়ে নিতে কাজ করতে হবে। আমি আশাবাদি সকলের সার্বিক সহযোগিতা পেলে আমার এই কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে শতভাগ সফলকাম হবো। নারী জাগরনের অগ্রদূত ও পথিকৃত বেগম রোকেয়ার দেখানো পথে হেটে আমি নারীদের কাছে এক দৃষ্টান্তর হয়ে থাকতে চাই। #



সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

নারী ও শিশু বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ৪৯৬১ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই