তারিখ : ২০ মে ২০২২, শুক্রবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

ভালুকায় পিঠা বিক্রির টাকায় সংসার চলে আলামিনের

ভালুকায় পিঠা বিক্রির টাকায় সংসার চলে আলামিনের
[ভালুকা ডট কম : ১৭ জানুয়ারী]
ঢাকা ময়মনসিংহ মহা সড়কের ভালুকা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ফুটপাতে পিঠা বিক্রি করে সংসার চালায় হত দরিদ্র আলামিন। শীত এলে গ্রামের প্রত্যেক বাড়িতে এক সময় চলতো নানা ধরনের পিঠা তৈরীর উৎসবে আত্মীয় কুটুমদের সৌহার্দের আনাগোনা। কালের বিবর্তনে বিজ্ঞানমুখী যান্ত্রিক জীবন যাত্রার ছোঁয়া লেগে হারিয়ে গেছে ঐতিয্যবাহী গৃহস্থ পরিবারের আবাহমান কালের চিরায়ত অনেক আচার অনুষ্ঠান। একটি মাত্র কাঠের যন্ত্র ঢেকি হারিয়ে যাওয়ায় গৃহস্থের ধান বানা, পিঠার চাল কুটা, ডাল কুটা সব ভুলিয়ে দিয়েছে। এখন আর রাত জেগে বউ-ঝি রা ঢেকিতে চাল কুটে তেলের পিঠা, পুলি পিঠা, চিতই পিঠা তৈরী করেন না। যে কারনে সবাই এখন দোকানীর বানানো পিঠা খেতে অভ্যস্ত হয়ে পরেছেন। দোকানীরা আটা ভাঙ্গার কল থেকে চালের গুড়া করে আনেন পিঠা তৈরীর জন্য।

ভালুকা পৌর শহড়ের বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে পিঠার দোকানে রসনা বিলাসি খাদকদের ভীড় জমে উঠেছে। শীতের পরন্ত বিকাল হতে শুরু হয় পিঠা তৈরীর কাজ চলে রাত ১০ টা পর্যন্ত বেচা কেনা। শুধু ভালুকা পৌর এলাকাতেই নয় বিকাল হলে সারা উপজেলার বিভিন্ন হাট, বাজার ও পাড়া মহল্লায় অস্থায়ী পিঠার দোকান গুলিতে শীতে জরোসরো মানুষের ভীড় লেগে যায়। চাউলের গুড়া পানিতে মিশিয়ে মাটির পাতিলে চুল্লিতে তৈরী হয় চিতই পিঠা। পানি ভর্তি সিলবারের পাতিলে জ্বাল দিয়ে বাস্পের বাঁপে বিশেষ পদ্ধতিতে তৈরী হয় বাঁপা পিঠা। শীত  মৌসুমে বাজারে দু রকম পিঠাই খাদকদের কাছে মুখরোচক। চিতই পিঠার সাথে সরিষা ভর্তা, শুটকি ভর্তা আর খেজুরের রস খাদকদের রসনার যোগান দেয়। রোববার সন্ধ্যায় ভালুকা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ফুটপাতে পিঠা দোকানী আলামিন চিতই পিঠা তৈরী করে খাদকদের হাতে তুলে দিচ্ছিছিলেন। 

এ সময় তিনি জানান পুঁিজ না থাকায় বড় আকারের ব্যবসা করতে পারেন না। তাই সামান্য কিছু টাকা পুঁিজ খাটিয়ে পিঠা বিক্রি করে কোন রকমে বৃদ্ধ মা ও স্ত্রী সন্তানের জন্য দু’মুঠো ভাতের জোগার করে থাকেন। শীতের সময় তিন মাস পিঠা বিক্রি হয়। বাকি নয় মাস অন্যান্য ছোটখাটো ব্যবসা যেমন গরমে রাস্তার পাশে স্যালু কলে আঁখের রস বিক্রি করেন। প্রতি পিচ চিতই পিঠা ১০ টাকা, বাঁপা পিঠা ১০ টাকা করে বিক্রি করেন সাথে সরিষা, শুটকি ভর্তা ও খেজুরের রস দিতে হয়। প্রতি দিন ১৫০ থেকে ২০০ পিঠা বিক্রি হয়। চালের গুড়া, লাকড়ি ও আনুষাঙ্গিক খরচ বাদ দিয়ে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকার মত মুনাফা আসে।

তিনি জানান ভালুকা পৌর সভার বিভিন্ন ওয়াডের্ ৬০/৭০ জনের মত পিঠা বিক্রি করে সংসার চালায়। অনেক সময় দোকানে ভীড় লেগে গেলে দীর্ঘ সময় দাড়িয়ে থেকে অনেকে পিঠা খাওয়ার তৃপ্তি উপভোগ করেন। হাটে বাজারে দোকানে পিঠা খেতে কেন লোকজন ভীড় করে জানতে চাইলে তিনি জানান বর্তমান সময়ে কোন গ্রামেই গৃহস্থ বাড়ীতে ধান বানার ঢেকি নেই। যে কারনে ঢেকিতে চালের গুঁড়া করে গ্রামের বৌ-ঝিরা এখন আর আগের মত পিঠা তৈরী করতে পারেননা। দুর দুরান্তের আটা ভাঙ্গার কল থেকে চালের গুড়া তৈরী করতে হয়। ফলে অনেকে দুধের সাদ ঘোলে মিটানোর মত দোকান থেকে ১০ টাকায় পিঠা খেয়ে মনের খায়েস পুরন করেন আর ছেলে মেয়েদের জন্য বাড়ী নিয়ে যান। লোকজন সখ করে পিঠা কিনে খায় বলেই তিনি তার স্ত্রী সন্তানের মুখে দু’বেলা আহার যোগাতে পারেন।#



সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

ভালুকা বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ২৭৩৩ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই