তারিখ : ১২ আগস্ট ২০২২, শুক্রবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

রাণীনগরে আশ্রয়নের ঘর পেয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে অনেকেই

রাণীনগরে আশ্রয়নের ঘর পেয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে অনেকেই, বদলে ফেলছেন নিজেদের জীবনের গল্প
[ভালুকা ডট কম : ২৪ ফেব্রুয়ারী]
নওগাঁর রাণীনগরে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘরে বসবাস করে অনেকেই ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। এই ঘর অনেকেরই জীবনের গল্প পাল্টে দিয়েছে। মাথার গোঁজার নিজস্ব ঠিকানায় অনেকে অনেক কিছু করে আর্থিক ভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি বদলে ফেলছেন জীবনের পরিবর্তনের গল্প।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা গেছে, বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার নিজস্ব তহবিল থেকে আর্থিক সহযোগিতা দিয়ে দেশের গৃহহীন ও ভূমিহীন লাখ লাখ মানুষের জন্য ২শতাংশ সরকারি জমির উপর সেমিপাঁকা ঘর নির্মাণ করে উপহার দিচ্ছেন। তারই ধারাবাহিকতায় গত ২০২০সালে মুজিববর্ষে এই প্রকল্পের কাজ শুরু করা হয়। প্রথম ও দ্বিতীয় ফেজে উপজেলার কালিগ্রাম ইউনিয়নের সিলমাদার এলাকায় ১১টি ঘর, একডালা ইউনিয়নের ডাকাহারে ৫৫টি, মালীপুকুরে ২৪টি ও চৌধুরী পুকুরে ২০টি এবং কাশিমপুর ইউনিয়নের কাশিমপুর মোড়ে ১৩টি ঘর নির্মাণ করে গৃহহীন ও ভূমিহীনদের মাঝে হস্তান্তর করা হয়েছে। স্বপ্নের মতো পাওয়া সেই সব ঘরে বসবাস করে অনেকেই তাদের জীবন পরিবর্তনের গল্প আবার নতুন করে শুরু করেছেন। আর ৩য় ফেজে নতুন করে বরাদ্দ পাওয়া ৪১টি ঘর নির্মাণের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে।

কাশিমপুর আশ্রয়ন প্রকল্পের ১৩নং ঘরের বাসিন্দা চায়না রানী। দিনমজুর স্বামী সুখিলের মাথা গোঁজার মতো একখন্ড জায়গা না থাকায় ৩মেয়েকে নিয়ে চায়না সরকারি জায়গায় অস্থায়ী ভাবে ছনের বেড়া দিয়ে বসবাস করতো। এরপর ভ’মিহীন তালিকায় সুখিলের নাম থাকায় গত বছর সে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে সেমিপাঁকা ঘর ও ২শতাংশ জমি পেয়েছেন। সেই ঘরে সুখিলের স্ত্রী চায়না তার দুই মেয়ে মাধবী ও সিমলাকে নিয়ে সুখে স্বচ্ছন্দে জীবন-যাপন করছেন। মাথা গোঁজার একটি স্থায়ী ঠাঁই পেয়ে চায়না রানী  কাগজের প্যাকেট তৈরি করে দোকানে দোকানে সরবরাহ করছেন। মাধবীও তার মাকে এই কাজে সহযোগিতা করে আসছে। স্বামীর আয়ের সঙ্গে চায়নার বাড়তি আয় তাদের সংসারের অভাবকে দূরে ঠেলে দিয়েছে। কাগজের প্যাকেট তৈরির সকল খরচ বাদে প্রতি মাসে চায়না ১ থেকে দেড় হাজার টাকা আয় করছেন। এই আয় দিয়ে চায়না তার বড় মেয়ে মাধবী ও ছোট মেয়ে সিমলার পড়ালেখার খরচ হিসেবে যোগান দিয়ে আসছেন। বর্তমানে মাধবী পাশের আত্রাই উপজেলার আত্রাই পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৯ম শ্রেণিতে ও সিমলা স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫ম শ্রেণিতে পড়া লেখা করছে। চায়না ও সুখিল স্বপ্নেও কল্পনা করেননি যে জীবনে তারা পাকা ঘরে পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করবেন।

একডালা ইউনিয়নের মালীপুকুর আশ্রয়ন প্রকল্পের আরেক বাসিন্দা ফরিদ আলী শেখ। ফরিদের বাড়ি টাঙ্গাইল জেলায়। বাবা বীরমুক্তিযোদ্ধা ফরহাদ আলী শেখের নেই বলে মাথা গোঁজার মতো একটু জায়গাও ছিলো না। তাই ছোট বেলায় ফরিদ জীবিকার তাগিদে চলে আসেন এই এলাকায়। তিনি পেশায় ঘরে টিন লাগানোর কাজ করেন। এরপর ফরিদ মালিপুকুর এলাকায় বিয়ে করে সরকারি পুকুরের পাড়ে টিনের তৈরি ঘরে বসবাস করে আসছিলেন। তাদের ঘরে ১ছেলে ও ১মেয়ে রয়েছে। ছেলে বিয়ে করে পৃথক বসবাস করে আর  মেয়েকেও বিয়ে দিয়েছেন ফরিদ। বছরের সিংহ ভাগ সময়ই ফরিদকে বেকার থাকতে হতো। তখন ফরিদের স্ত্রী মানুষের বাড়িতে কাজ করে। এভাবেই অভাব আর অনটনের মধ্যদিয়ে চলে আসছে তাদের জীবন সংসার। তবে গত বছর প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে সেমিপাঁকা ঘর ও ২শতাংশ জমি পেয়েছেন ফরিদ। যে ইটের পাকা ঘরের কথা জীবনেও কল্পনা করেনি ফরিদ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই কাঙ্খিত চাওয়া পূরন করেছেন ফরিদের। ফরিদ প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার উপহার ঘরটি সাজিয়েছেন সাধ্যমতো। বর্তমানে ফরিদ ও ওই প্রকল্পের ভ’মিহীন ও গৃহহীনরা সরকারের দেওয়া পুকুরে মাছ চাষ করে সবাই আর্থিক ভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মাধ্যমে ৩২জন গৃহহীনরা তাদের জীবনে পরিবর্তন আনতে শুরু করেছেন। সবাই অভাব আর অনটনকে বিদায় জানিয়ে সুখি-সমৃদ্ধ জীবন গড়ার নতুন প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দাদের ঘুড়ে দাঁড়ানোর লক্ষে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে বিভিন্ন উচ্চ ফলনশীল সবজির বীজ ও চারাসহ বিভিন্ন সময়ে নানা ধরনের সহায়তা প্রদান অব্যাহত রয়েছে। আমি আশাবাদি এই মানুষগুলো নিজেদের স্থায়ী বাসস্থানে বসবাসের পাশাপাশি সৃজনশীল কর্মের মাধ্যমে নিজেদের জীবনের ফেলে আসা দু:খ্যময় গল্পকে পরিবর্তন করে নতুন জীবনের গল্প লেখা শুরু করতে পারবেন। অনেকেই বিভিন্ন সৃজনশীল কাজের মাধ্যমে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর পাশাপাশি আর্থিক ভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুশান্ত কুমার মাহাতো বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহারই এই সব মানুষের জীবনের বড় অনুপ্রেরনা। নিজেদের স্থায়ী বাসস্থান পেয়ে অনেকেই বিভিন্ন সৃজনশীল কর্মের মাধ্যমে তাদের জীবনের গল্প পাল্টাতে শুরু করেছেন। এছাড়াও সরকারের পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব সময় আর্থিক ভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য আগ্রহী বাসিন্দাদের বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ প্রদান করার পাশাপাশি নতুন করে জীবনে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা হয়েছে আগামীতেও এই ধারা অব্যাহত রাখা হবে।#





সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ৪৯৬১ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই