তারিখ : ০২ জুলাই ২০২২, শনিবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

ভালুকায় ড্রাগন চাষে বিল্লাল হোসেনের সাফল্য

ভালুকায় বানিজ্যিক ভাবে ড্রাগন চাষে বিল্লাল হোসেনের সাফল্য
[ভালুকা ডট কম : ০৭ মে]
দেশীয় ফল আম, কাঠাল, কলা, লিচু, লটকন, মালটা, কমলার পাশাপাশি ভালুকায় বানিজ্যিক ভাবে শুরু হয়েছে সম্পুর্ণ নতুন আঙ্গিকে বিদেশী ফল ড্রগনের চাষ। প্রথম দিকে অনেকে সখের বসে বাড়ীর ছাদে, আঙ্গিনায় ড্রাগন চাষ শুরু করলেও বর্তমানে অনেকেই বানিজ্যিক ভাবে পুষ্টিমানে সমৃদ্ধ ফল ড্রাগন চাষ করে ব্যাপক লাভবান হচ্ছেন।

আমেরিকায় উদ্ভাবিত এ ফল ভিয়েতনাম সহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বানিজ্যিক ভাবে চাষ হচ্ছে। বিশেষ বৈশিষ্ট সম্পন্ন পাতা বিহিন ফনিমনসা সদৃশ সারা গায়ে কাটাওয়ালা ছড়ানো ডাল গুলো মাচায় ভর করে দাড়িয়ে থাকে। গাছের বয়স পুর্ণ হলে কান্ডের কিনার হতে কলি বের হয়ে তিন চার দিনের মধ্যে সন্ধ্যারাতে বড় আকাড়ের সাদা পাপড়ি ছড়িয়ে ফুল ফুটে দেখতে হুবুহু নাইট কুইন ফুলের মত। ওই ফুলে ফল পাওয়ার জন্য কৃত্রিম প্রজনন ঘটাতে হয়। নাইট কুইন ফুলের মত সকাল হওয়ার সাথে সাথে পাপড়ি গুলি নেতিয়ে যায়। ফুলটি ঝড়ে গিয়ে দিনে দিনে ফলের পুর্ণতা লাভ করে।

উথুরা, চামিয়াদী, পাঁচগাও, তালাব, পাড়াগাঁও সহ ভালুকার বিভিন্ন গ্রামে অনেকে ড্রাগনের আবাদ শুরু করেছেন। ব্রুনাই ফেরৎ যুবক ভালুকার উথুরা ইউনিয়নের চামিয়াদী গ্রামের বিল্লাল হোসেন জানান তার বন্ধু আনিছুর রহমানকে সাথে নিয়ে ২০১৭ সালে ১০ বিঘা জমিতে ২ হাজার ৫ শত ড্রাগনের চারা রোপনের মাধ্যমে চাষ শুরু করেন। বর্তমানে তার বাগানে ৩ হাজারের উপরে ড্রাগন গাছ রয়েছে। জমি তৈরী, চারা ক্রয়, মাচা তৈরী, শ্রমিক ও আনুষাঙ্গিক খরচ বাবদ এ পর্যন্ত প্রায় ১০ লাখ টাকার মত ব্যায় হয়েছে। স্থানীয় বাজার, গাজীপুর ও বিভিন্ন এলাকায় এ পর্যন্ত তিনবার ফল বিক্রি করে প্রায় ১০ লাখ টাকার মত আয় করায় আসল টাকা উঠে এসেছে। সামনে ফল বিক্রি হলে ভাল লাভবান হওয়ার আশাবাদী তিনি। অন্যান্য ফল ফসলের চেয়ে ড্রাগন চাষে সার, সেচ ও কীটনাশক খরচ অনেক কম।

তিনি জানান জৈব সার প্রয়োগ ও সঠিক পরিচর্যা করে ভাল ফলন পেয়েছেন। গাছ পুর্ণ বয়স হলে এপ্রিল থেকে জুন মাসের মধ্যে ফুল আসতে শুরু করে। ফুল আসার ৩০ থেকে ৪০ দিনের মধ্যে ফল সংগ্রহ করা যায়। নভেম্বর মাস পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে ফল পাওয়া যায়। একটি ড্রাগন ফল ২৫০ গ্রাম হতে ১ কেজি পর্যন্ত ওজন হয়ে থাকে। একটি পুর্নাঙ্গ গাছে ১০০ থেকে ১৩০ টি ড্রাগন ফল ধরে। এর বিশেষ আরও একটি গুন হল সঠিক পরিচর্যা হলে এ গাছ ৪০ বছর পর্যন্ত ফল দিয়ে থাকে।

বিল্লাল হোনের ড্রাগন বাগান এলাকার মানুষের নজর কেড়েছে। পুষ্টিগুন সমৃদ্ধ চড়া দামের ড্রাগন ফল চাষে এলাকার অনেক যুবক আগ্রহী হচ্ছেন। কৃষকরা মনে করেন এ দেশের মাটি ও আবহাওয়া ড্রাগন চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় এর বিস্তার ঘটানো সম্ভব। সরকারের কৃষি বিভাগ তৎপর হলে বানিজ্যিক ভাবে ড্রাগন চাষ কৃষিতে অর্থনৈতিক বিপ্লব আনতে পারে।#



সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

ভালুকা বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ৩৪৩০ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই