তারিখ : ২০ মে ২০২২, শুক্রবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

রায়গঞ্জে গোখাদ্যের দাম বৃদ্ধিতে বিপাকে খামারিরা

রায়গঞ্জে গোখাদ্যের দাম বৃদ্ধিতে চরম বিপাকে খামারিরা,দানাদার খাদ্যে ভর্তুকি দাবি
[ভালুকা ডট কম : ১১ মে]
রায়গঞ্জে ব্যাপকহারে বেড়েছে সব ধরণের দানাদার গোখাদ্যের দাম। অন্যান্য উপকরণের দামও চড়া। ফলে গবাদি প্রাণি প্রতিপালনে চরম বিপাকে পড়েছেন এলাকার খামারিরা। অনেকেই নিরুপায় হয়ে লোকসান থেকে রক্ষা পেতে গরু-ছাগল বিক্রি করে দিচ্ছেন বলে সরেজমিন তথ্য অনুসন্ধানে জানাগেছে।

উপজেলা প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী রায়গঞ্জে ছোটবড় মিলিয়ে মোট গো-খামারের সংখ্যা ২ হাজার ২১৩ টি। এরমধ্যে দুগ্ধ খামার ১ হাজার ৪১০ টি এবং গরু মোটাতাজাকরণ খামার ৮০৩ টি। মোট গরুর সংখ্যা ১ লাখ ৪ হাজার ৭৩৫। ছাগলের সংখ্যা ৩৫ হাজার ২৪৩ টি ভেড়া ২ হাজার ৮৫ টি।

উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়নের সিমলা মধ্যপাড়া গ্রামের মা ডেইরি ফার্মের খামারি রবিউল ইসলাম জানান, দেড় মাসের ব্যবধানে গরুর দানাদার খাবারের বেপরোয়া মূল্য বাড়ায় গরু পালন করতে গিয়ে তিনিসহ অনেকেই হিমশিম খাচ্ছেন। খরচ কুলাতে না পেরে এর মধ্যে ফেলনা দামে ৩টি গরু তিনি বিক্রি করেও দিয়েছেন। চারমাস আগে কেনা গরু মোটা তাজা করে বিক্রি করতে গিয়ে লাভ তো দুরের কথা  লোকসান গুণতে হয়েছে তার গরু প্রতি  ১৫-২০ হাজার টাকা। অপরদিকে দুধের দামও নিম্নমুখি বলে তিনি জানান।

বাজারে খোঁজ নিয়ে জানাগেছে ২০ টাকা কেজির ভূট্টা এখন ৩৩ টাকা। ২৬ টাকা কেজির গম ৩৪ টাকা। ৪৮ টাকা কেজির সয়াবিন ৭০ টাকা। ৩১ টাকা কেজি গমের ভূষি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৮ টাকা। ২৫ টাকা কেজির খুদ ৩২ টাকা। ৪১ টাকা কেজির ক্যাটল ফিড ৫০ টাকা। ১০ টাকা কেজির ধানের কূড়া  ১৬ টাকা। এছাড়াও খড় ও ঘাসের দাম প্রায় দ্বিগুণে দাঁড়িয়েছে।

ধামাইনগর ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামের ২২ টি গরু বিশিষ্ট নাহিদ ডেইরি ফার্মের মালিক আলতাফ হোসেন, চান্দাইকোনা ইউনিয়নের সিমলা গ্রামের ১০টি গরুর খামার প্রগতি ফার্মের মালিক রনজু আহমেদ, ধানগড়া ইউনিয়নের ধানগড়া গ্রামের ৩৫ টি গাভী বিশিষ্ট মাহি ডেইরি ফার্মের মালিক মুক্তার হোসেন, চান্দাইকোনা ইউনিয়নের ৯টি উন্নতজাতের গাভীর খামার উজ্জ্বল ডেইরি ফার্মের মালিক দেবশীস সরকার সকলে একই ধরণের কথা বলেন। তারা জানান দানাদার খাদ্যের সাথে খড় ও ঘাসের দামও বেড়ে গেছে প্রায় দ্বিগুণ। গরু প্রতি প্রতিদিন ২০০ টাকা ও ছাগল প্রতি ৪০টাকা বেশি খরচ হচ্ছে। গরু ছাগল পালন করে আর লাভ নেই। সবাই গরু বিক্রি করায় হাটে গরুর আমদানি বেড়ে গেছে। এতে গরুর দামও পড়ে গেছে। গরু প্রতি আগের চেয়ে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা দাম কমে গেছে।  বেশি বেশি খরচ করে এগুলো পালন করে লোকসান গুনতে হচ্ছে। তারা এখাত রক্ষায় সরকারি সহযোগিতা প্রদানের জোর দাবি জানিয়েছেন।

উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আমিনুল ইসলাম জানান, দানাদার সব ধরণের গোখাদ্যের দাম বাড়াতে খামারিরা বিপাকে পড়েছেন। খরচ বেড়ে যাওয়ায় অনেকে গরু ছাগলের সংখ্যা কমিয়ে দিচ্ছেন। অনেকে খামার ধরে রাখতে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সদাশয় সরকার কৃষি ক্ষেত্রে বিভিন্ন খাতে ভতুর্কি দিচ্ছে। ফলে এখাতে যথেষ্ট উন্নয়ন হয়েছে। যদি প্রাণি সম্পদ খাতে উন্নয়নের জন্য দানাদার খাদ্যের শুল্ক প্রত্যাহার করে এখাতে প্রয়োজনীয় ভতুর্কি দেয়া হয় তবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আজকের সমৃদ্ধ কৃষির পাশাপাশি প্রাণি সম্পদ সেক্টরেও ব্যাপক উন্নয়ন অর্জন করা সম্ভব হবে।  #




সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

কৃষি/শিল্প বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ২৭৩৩ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই