তারিখ : ২৮ নভেম্বর ২০২২, সোমবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

ভালুকায় আগুনে পুড়া লোহা পিটিয়ে চলে আপন

ভালুকায় আগুনে পুড়া লোহা পিটিয়ে জীবন চলে আপন সরকারের
[ভালুকা ডট কম : ২১ নভেম্বর]
একখন্ড লোহা কয়লার আগুনে পুড়ে রেলের লোহার উপর ফেলে টুংটাং শব্দে হাঁতুরি পিটিয়ে তৈরী করেন গৃহস্থের চাহিদার সামগ্রী দা,কাস্তে,শাবল,নিরাণি আরও কতকি। বিনিময়ে প্রাপ্ত দাম ও মজুরীর টাকায় চলে কামার আপন সরকারের ছোট্র সংসার। এক সময় ভালুকার প্রায় গ্রামেই জেলেপাড়া,কামারপাড়া, কুমার পাড়া, তাঁতিপাড়ায় নানা প্রয়োজনে গ্রামের মানুষ ভীড় জমাতো।

দু,এক ঘর কামার ছিলো যারা গ্রামের মানুষের ঘর বাড়ী ও গৃহস্থালিতে ব্যবহার্য নিত্য প্রয়োজনীয় দা, বটি, কাস্তে, খন্তি, শাবল ইত্যাদি তৈরীর কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। রোববার ভালুকার মল্লিকবাড়ী বাজারের কাচিনা রোডে দা তৈরীর কাজ করছিলেন কামার আপন সরকার। তিনি জানান বর্তমানে কয়লা সংকটের কারনে তাদের কাজ টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পরেছে। আমদানী কমে যাওয়ায় এক বস্তা ভারতীয় পাথর কয়লা ২০০০ টাকায় কিনে তারা কাজ করছেন। তাও সব সময় পাওয়া যায়না। কয়লা না থাকলে কাজ কাম বন্ধ করে বাড়ীতে বসে থাকতে হয়। মৌসুমি আমন ধান কাটা শুরু হওয়ায় কৃষকরা ধান কাটার কাস্তে (কাচি) বানাতে ভীড় জমাতেন। এখন ধান কাটায় হারভেষ্টার মেশিনের প্রচলন শুরু হওয়ায় কাস্তের চাহিদা একবারেই কমে যাওয়ায় কদাচিৎ দু’চারজন কাস্তে বানাতে আসে। আগাছা নিরানি গ্রাম্য ভাষায় যাকে বলে ছেনি, বিভিন্ন সাইজের দা, বটি, শাবল খন্তি তৈরী সহ ভাঙ্গা জিনিষ জোড়াতালি দিয়ে কোন রকমে সংসার চালাচ্ছেন তিনি। ভাল লোহায় আড়াইশ গ্রাম ওজনের একটি পাতলা দা লোহা ও মজুরী নহ ৩ থেকে ৪শ টাকা, পাঁচশ গ্রাম ওজনের মাঝারি দা লোহা ও মজুরী সহ ৫০০ টাকা বিক্রি হয়। টুকিটাকি কাজ করে দিন শেষে ৫/৬ শ টাকার মত রোজগার হয়। কোন কোন দিন ২/৩শ টাকার বেশী কাজ হয়না। তাদের কোন ফসলি জমিনাই। স্থানীয় এক ব্যক্তির জমি এক হাজার টাকা মাস ভাড়া নিয়ে নিজেরা ছাপড়া ঘর তুলে তার নীচে কাজ করেন সারাদিন।

প্রায় ১৬/১৭ বছর যাবৎ তিনি ও তার বড় ভাই শ্যামল সরকার কয়লার আগুনে পোড়া লোহা পিটিয়ে অন্ন বস্ত্রের সংস্থান সহ পরিবারের নানা চাহিদা পুরন করে চলেছেন। আপন সরকারে এক মেয়ে কণিকা (১২) পঞ্চম শ্রেণীতে লেখাপড়া করে। স্ত্রী-কন্যা ও বৃদ্ধ পিতাকে নিয়ে কোন রকমে চলে যাচ্ছে তাদের দিন। তবে প্রতি বছর কোরবানির ঈদের সময় কাজ অনেক বেড়ে যায়। ঈদের এক মাস আগে থেকেই দা’বটি, ছুরি চাকুর অর্ডার পাওয়া যায় প্রচুর। সময়মত সরবরাহ করা সম্ভব হয়না বলে অনেক কাজ ফেরৎ দিয়ে দেন। বর্তমানে বড় বড় ফ্যাক্টরীর তৈরী এসব জিনিষ বাজারজাত হওয়ায় মানুষের হাতের কাছে পাওয়া যায়। যে কারনে তাদের কাজ আরও কমে গেছে। তার পরও জমিজমা না থাকায় কিংবা এ বয়সে অন্য কাজে যাওয়া সম্ভব নয় বলেই এই পেশাকে আকড়ে ধরে বেঁচে থাকতে চান আপন সরকার।#



সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

ভালুকা বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ৫৫৩১ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই