তারিখ : ২৮ মে ২০২৪, মঙ্গলবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

তজুমদ্দিনে চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ

তজুমদ্দিনে মানবিক সহায়তার চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ
[ভালুকা ডট কম : ২২ আগষ্ট]
ভোলার তজুমদ্দিনে সরকারী-বেসরকারী এতিমখানা, লিল্লাহ বোডিং এবং সামাজিক কল্যাণে নিয়োজিত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে মানবিক সহায়তার সরকারী বরাদ্দে চাল প্রকল্প বাস্তবায়ণ কর্মকর্তার নেতৃত্বে হরিলুটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সভাপতির নাম পরিবর্তন করে অজ্ঞাত ব্যক্তিকে সিপিসি দেখিয়ে চাল উত্তোলন করে প্রতিষ্ঠানে বরাদ্দের অর্ধেকের চেয়েও কম দেয়ায় ক্ষোভ দেখা দিয়েছে তাদের মাঝে। বরাদ্দের চাল না পেয়ে একটি প্রতিষ্ঠানের সভাপতি উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তার বরাবরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।

সুত্রে জানা যায়, ২০২২-২০২৩ অর্থ বছরে তজুমদ্দিন থেকে মানবিক সহায়তার জন্য ভোলা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আবেদন করেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ১৮ জুন ভোলা জেলা প্রশাসক ১৫টি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ৩টন করে মোট ৪৫টন মানবিক সহায়তার চাল বরাদ্দ দেন। বরাদ্দের কাগজ হাতে পাওয়ার পর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ণ কর্মকর্তা সেলিম মিয়া অজ্ঞাত লোকদের সিপিসি দেখিয়ে পুরো চাল উত্তোলন করলেও বরাদ্দ পাওয়া প্রতিষ্ঠানের সভাপতিরা জানেই না বরাদ্দের বিষয়ে। কিছু প্রতিষ্ঠানকে নাম মাত্র নগদ অর্থ প্রদান করেন প্রকল্প কর্মকর্তা সেলিম মিয়া নিজেই।  

দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মানবিক সহায়তা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে আগত মুসল্লী, ভক্তবৃন্দ ও অধ্যয়নরত ছাত্রদের আহার্য্য বিতরণের লক্ষে এ বরাদ্দ দেয়া হয়। যা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে প্রেরিত চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ্য রয়েছে। তা থেকে প্রমাণিত বরাদ্দ পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলিতে টাকা নয় চালই দিতে হবে। কিন্তু উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ণ কর্মকর্তা সেলিম মিয়া সেই নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে চাল বিক্রি করে নাম মাত্র টাকা বিতরণ করে তালিকায় থাকা নাম সর্বস্ব প্রতিষ্ঠানকে পাশ কাটিয়ে মসজিদ কমিটির নিকট।  

বরাদ্দের তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো মধ্যে দুই/একটি খুঁজে পাওয়া গেলেও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি তজুমদ্দিনে। যেখানে বরাদ্দ হচ্ছে মাদ্রাসার এতিমখানা ও লিল্লাহ বোডিংয়ের নামে সেখানে প্রতিষ্ঠানগুলির অস্তিত্ব না থাকায় অজ্ঞাতলোকদের সিপিসি করে চাল উত্তোলন করান।  

প্রতিষ্ঠান প্রতি বরাদ্দকৃত চালের বর্তমান বাজার মূল্য ১লক্ষ ৫ হাজার টাকা হলেও দেয়া হয়েছে ১৫ থেকে ৪০ হাজার টাকার মধ্যে। বরাদ্দের বাকি টাকা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ণ কর্মকর্তা সেলিম মিয়ার পকেটে। সাজী পুকুর জামে মসজিদ সংলগ্ন নুরানী মাদ্রাসা এতিমখানা ও লিল্লাহ বোডিংয়ের নামে ৩টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু মসজিদের সভাপতি/সম্পাদকে না জানিয়ে শামীম নামে অজ্ঞাত ব্যক্তিকে সিপিসি দেখিয়ে চাল উত্তোলন করে তাদেরকে ১৫ হাজার টাকা দিলে তারা টাকা গ্রহণ না করে বরাদ্দকৃত চাউল পাওয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তার বরাবরে একটি আবেদন করেন মসজিদের সভাপতি। পরে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা মরিয়ম বেগম প্রকল্প বাস্তবায়ণ কর্মকর্তা সেলিম মিয়াকে সঠিক কমিটির মাধ্যমে বরাদ্দ প্রদানের জন্য একাধিকবার তাগিদ দিলেও বিষয়টি সুরাহার জন্য পিআইও উপস্থাপন না করায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসক বরাবরে একটি লিখিত প্রেরণ করেন তিনি। পিআইও অফিস কাগজে কলমে ১৫টি প্রতিষ্ঠানের বরাদ্দের চাল বিতরণ দেখালেও খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় বলছে কাগজপত্র সম্পন্ন হওয়ায় ৬টি প্রতিষ্ঠানের চাল বিতরণ করা হয়েছে।

জানতে চাইলে মোল্লাপুকুর জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. ইয়াছিন মোল্লা বলেন, পিআইও আমাদের মসজিদের নামে ৩টন চাল বরাদ্দের কথা জানিয়ে কাগজপত্র দিতে বলে। তাদের নিয়মানুযায়ী সকল কাগজপত্র দেয়ার পরে আমাকে ২৫ হাজার টাকা দিলে আমি তা মসজিদের কেশিয়ারের কাছে জমা দেই। তিনি টাকা কম দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে পিআইও বলেন এটা একটা সমজোতা হবে। সাজীপুকুর জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির কেশিয়ার মো. সালাউদ্দিন বলেন, আমাদের মসজিদে ৩টন চাল বাবদ ১৫হাজার টাকা দেয় পিআইও। আমরা সেই টাকা নেইনি। পরে সমজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি বরাদ্দে চাল চেয়ে উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দেন। তবে তাদের বরাদ্দের চাল শামীম নামের অজ্ঞাত ব্যক্তিকে সিপিসি দেখিয়ে খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে পিআইও অফিসের যোগসাজসে উত্তোলন করেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ণ কর্মকর্তা সেলিম মিয়া নগদ টাকা দেয়ার বিষয় অস্বীকার করে বলেন, মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতির নিকট বরাদ্দের ডিও দেয়া হয়েছে। অভিযোগকারীদের সাথে অভিযোগের বিষয়ে সুরাহা হয়েছে। তবে অভিযোগকারী তার সাথে অভিযোগের বিষয়ে কোন সুরাহা হয়নি বলেও জানান।   

তজুমদ্দিন উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা শুভ দেবনাথ বলেন, আমি এই উপজেলায় নতুন যোগদান করেছি। পুরনো বরাদ্দের বিষয়ে আমি কিছুই বলতে পারবো না। যারা তখন ছিলেন তারাই বিষয়টি ভালো বলতে পারবেন।#



সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ৮৯০৭ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই