তারিখ : ১৫ নভেম্বর ২০১৮, বৃহস্পতিবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

নান্দাইলে গ্রেফতার আবুল বাশার আবুল হোসেন হয়ে থানা থেকে মুক্ত

নান্দাইলে গ্রেফতার আবুল বাশার আবুল হোসেন হয়ে থানা থেকে মুক্ত
[ভালুকা ডট কম : ১২ আগস্ট]
ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায় আট মাস আগে একটি হত্যাচেষ্টা মামলা রেকর্ডভুক্ত নান্দাইল মডেল থানায়। সেই মামলায় অভিযুক্ত আসামী করা হয় ৭জনকে এর মধ্যে ৬জন আদালত থেকে জামিন নিলেও এক নম্বর আসামি পলাতক ছিল। ময়মনসিংহ বিজ্ঞ আদালত থেকে গ্রেফতারি পরোয়ানা থানায় আসলে পুলিশ তাঁকে আবুল বাশার নামে গ্রেফতার করে থানায় আনেন। পরে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার ব্যাপক তদবিরের পর সেই আবুল বাশার আবুল হোসেন হয়ে ছাড়া পান। এ নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।

বিষয়টি নিয়ে নান্দাইল থানার ওসি কামরুল ইসলাম মিয়া বলেন, গ্রেফতার ব্যক্তি ঘটনায় জড়িত থাকলেও বাদী ও তদন্ত কর্মকর্তার ভুলে চূড়ান্ত অভিযোগ পত্রে তাঁর সঠিক নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি। এ অবস্থায় ভুল নামে আদালতে পাঠালে জবাব দিতে হবে বলে তাঁকে সাময়িক ভাবে ছেড়ে দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে সম্পূরক অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দিতে শিগগিরই আদালতে আবেদন করা হবে। অন্যদিকে দুই পক্ষের লোকজনকে থানায় রেখে আবুল হোসেনের পক্ষে জাতীয় পরিচয়পত্র ছাড়াও অন্যান্য কাগজপত্র দেখালে বাদীপক্ষ সায় দিলে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। কোনো ধরনের তদবিরের ঘটনা এখানে ঘটেনি।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বাদীর দেওয়া তথ্য মতে পুলিশ বৃহস্পতিবার রাতে আসামি আবুল বাশারকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যান। আর শুক্রবার তিনি নিজেকে আবুল হোসেন দাবী করে থানা থেকে ছাড়া পান। মামলার বাদী, সাক্ষী এবং এ ঘটনায় যিনি আহত হয়েছিলেন সম্মিলিতভাবে ধরে আনা ব্যক্তিকে মামলার আসামি বলে শনাক্ত করলেও পুলিশ তা আমলে নেয়নি।

উল্লেখ্য, বোরো জমিতে পানি দেওয়াকে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনায় বেতাগৈর ইউনিয়নের চরশ্রীরামপুর গ্রামের মৃত আবদুর রহিমের ছেলে বাদল মিয়া বাদী হয়ে মামলা করেন। তিনি জানান, নিজের জমিতে সেচপাম্প বসিয়ে নিজেদের বোরো জমিতে সেচের পানি নিতে গেলে আবুল বাশার ওরফে আবুল হোসেন লোকজন নিয়ে বাধা দেন। প্রতিবাদ করলে আবুল বাশার গং তাদের ওপর হামলা চালিয়ে তাঁর দুই ভাইকে গুরুতর আহত করে। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে আবুল বাশারসহ সাতজনকে আসামি করে থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা করেন। প্রধান আসামি আবুল বাশার ছাড়া অন্যরা আদালত থেকে জামিন নিয়েছে। মামলার বাদী আরো জানান, তিনি আসামির অবস্থান জেনে নান্দাইল মডেল থানার পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালিয়ে আবুল বাশারকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যান।

থানার একটি সূত্র জানায়, আবুল বাশারকে হাজতে নেওয়ার পর থেকে তিনি নিজেকে আবুল হোসেন বলে দাবি করতে থাকেন। এরপর থেকে একদল লোক আসামিকে ছাড়িয়ে নিতে তদবির শুরু করে। পরে এই যুক্তির বিপরীতে বেশ কিছু কাগজপত্রও দাখিল করা হয়।

এ বিষয়ে নান্দাইল থানার উপ-পরিদর্শক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (এসআই) মো. লিটন জানান, বাদীর দেওয়া এজাহারে আসামির নাম লেখা ছিল আবুল বাশার। তিনি মামলা তদন্ত শেষ করে আবুল বাশারসহ সব আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র পাঠিয়েছেন। এ অবস্থায় আসামিকে গ্রেফতার করে থানায় আনার পর তিনি নিজেকে আবুল হোসেন দাবি করে তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্র ও যাবতীয় কাগজপত্র দেখে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তাহলে অভিযোগপত্র ভুক্ত আসামি আবুল বাশার কে? প্রশ্ন করা হলে এস.আই লিটন জানান, আবুল বাশার হচ্ছেন আবুল হোসেনের মালয়েশিয়া প্রবাসী ভাই। ভুলে অভিযোগপত্রে তাঁর নাম উঠে গেছে। এখন সম্পূরক অভিযোগপত্র দিয়ে তাঁকে ধরা হবে।

মামলার বাদী বাদল মিয়া বলেন, ‘যে আমাকে ও বড় ভাই সোহরাবকে দা, লাঠি দিয়ে আঘাত করে হাসপাতালে পাঠিয়েছিল, সেই কি না থানা থেকে আমাদের চোখের সামনে দিয়ে বীরদর্পে চলে গেছে। এই দৃশ্য দেখার আগে আমাদের মরণও ভালো ছিল।#





সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

অপরাধ জগত বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ৫৩৮ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই