তারিখ : ২৫ এপ্রিল ২০১৯, বৃহস্পতিবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

তামাকবিরোধী সংগঠনসমূহের মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান

তামাকবিরোধী সংগঠনসমূহের মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি
[ভালুকা ডট কম : ১১ ডিসেম্বর]
আইন ভঙ্গ করে সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র ‘দেবী’ প্রদর্শন- ধূমপানে উৎসাহিত হচ্ছে নতুন প্রজন্ম। ‘দেবী’ চলচ্চিত্রটি আইন মেনে প্রদর্শনে বাধ্য করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে সিনেমা, নাটক ও প্রামাণ্যচিত্রে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারের দৃশ্য বর্জনের দাবিতে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন, ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন, এসিডি, ইপসা, ব্যুরো অব ইকনোমিক রিসার্চ, ডব্লিউবিবি ট্রাস্ট, নাটাব, প্রত্যাশা, টিসিআরসি, তাবিনাজ, সুপ্র, বিটা, গ্রাম বাংলা উন্নয়ন কমিটি, বিসিসিপি, এইড ফাউন্ডেশন, ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডস, ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিস, প্রজ্ঞাসহ বিভিন্ন তামাকবিরোধী সংগঠন সম্মিলিতভাবে আজ ১১ ডিসেম্বর ২০১৮, মঙ্গলবার সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাব এর সামনে একটি মানববন্ধন কর্মসূচি আয়োজন করেছে।

মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০০৫ ভঙ্গ করে সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত ‘দেবী’ চলচ্চিত্রে ব্যাপকভাবে ধূমপানের দৃশ্য প্রদর্শনের তীব্র নিন্দা জানান। আইন মেনে চলচ্চিত্রটি প্রদর্শন, ভবিষ্যতে সিনেমা, নাটক ও প্রামাণ্যচিত্র তৈরির ক্ষেত্রে আইন প্রতিপালন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আইন বাস্তবায়নে কঠোর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয় কর্মসূচি থেকে। মানববন্ধন শেষে তামাকবিরোধী সংগঠনসমূহের প্রতিনিধি দল স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং তথ্য মন্ত্রণলায় বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করে।

মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তারা জানান, ব্যাপকভাবে ধূমপানের দৃশ্য ব্যবহারের কারণে সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত বাংলা চলচ্চিত্র দেবী এরই মধ্যে দেশের তামাকবিরোধী এবং জনস্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। আইন অনুযায়ী ধূমপানের দৃশ্য প্রদর্শন নিষিদ্ধ হলেও, সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত এই চলচ্চিত্রে প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে বারবার আনা হয়েছে ধূমপানের দৃশ্য। ব্যবহার করা হয়েছে নিজস্ব মনগড়া সতর্কবাণী। এর আগে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে দেবী সিনেমার যে ফার্স্টলুক পোস্টার প্রকাশিত হয়, তাতেও তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘন করে ধূমপানের বিতর্কিত ছবি ব্যবহার করা হয়। তামাকবিরোধী সংগঠনগুলোর প্রতিবাদের মুখে সেটি পরিবর্তন করা হয়েিেছল। অথচ মূল সিনেমা মুক্তি দেয়ার ক্ষেত্রেও তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের প্রতি ঠিক একই অবহেলা প্রদর্শন করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০০৫-এর ৫(ঙ) ধারায় বাংলাদেশে প্রস্তুতকৃত বা লভ্য ও প্রচারিত সিনেমা, নাটক এবং প্রামাণ্যচিত্রে ধূমপান ও অন্যান্য তামাকজাত পণ্য ব্যবহারকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে কাহিনীর প্রয়োজনে এমন কোন দৃশ্য অন্তর্ভূক্ত করা হলে, সেক্ষেত্রে তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিরুৎসাহিতকরণে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০১৫ দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে সতর্কীকরণ বার্তা জুড়ে দেয়ার সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বিধিমালার ৫(ক) ধারা বলছে, তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারের দৃশ্য প্রদর্শনকালে পর্দার মাঝখানে পর্দার আকারের অন্তত এক-পঞ্চমাংশ স্থান জুড়িয়া কালো জমিনের ওপর সাদা অক্ষরে বাংলা ভাষায় ‘ধূমপান/তামাক সেবন মৃত্যু ঘটায়’ শীর্ষক সতর্কবাণী প্রদর্শন করিতে হইবে এবং উক্তরূপ দৃশ্য যতক্ষণ চলিবে, ততক্ষণ পর্যন্ত সতর্কবাণী প্রদর্শন অব্যাহত রাখিতে হইবে। সিনেমা প্রদর্শনকালেও বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণের নির্দেশনা রয়েছে। বিধিমালার ৫(খ) ধারা অনুযায়ী, টেলিভিশনে প্রচারিত সিনেমার ক্ষেত্রে তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারের দৃশ্য রহিয়াছে এইরূপ অংশ দুইটি বিজ্ঞাপন বিরতির মাঝখানে প্রচারের ক্ষেত্রে প্রথম বিজ্ঞাপন বিরতির পর অর্থাৎ উক্ত অংশ আরম্ভ হইবার পূর্বে এবং দ্বিতীয় বিজ্ঞাপন বিরতির পূর্বে অর্থাৎ উক্ত অংশ শেষ হইবার পর সম্পূর্ণ পর্দা জুড়িয়া কালো জমিনের ওপর সাদা অক্ষরে বাংলা ভাষায় ‘ধূমপান/তামাক সেবন মৃত্যু ঘটায়’ শীর্ষক সতর্কবাণী অন্যূন ১০ (দশ) সেকেন্ড সময় ধরিয়া প্রদর্শন করিতে হইবে। বিধিমালার ৫(গ) ধারা অনুযায়ী, প্রেক্ষাগৃহে সিনেমা প্রদর্শনের ক্ষেত্রে  তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারের দৃশ্য রহিয়াছে এইরূপ সিনেমা আরম্ভ হইবার পূর্বে, বিরতির পূর্বে ও পরে এবং সিনেমা প্রদর্শনের শেষে অন্যূন ২০ (বিশ) সেকেন্ড সময় পর্যন্ত সম্পূর্ণ পর্দা জুড়িয়া ‘ধূমপান/তামাক সেবন মৃত্যু ঘটায়’ শীর্ষক সতর্কবাণী বাংলা ভাষায় প্রদর্শন করিতে হইবে। কোন ব্যাক্তি এই ধারার বিধান লংঘন করলে তিনি অনুর্ধ্ব তিন মাস বিনাশ্রম কারাদন্ড বা অনধিক এক লক্ষ টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডণীয় হবে এবং উক্ত ব্যাক্তি দ্বিতীয়বার বা পুনঃপুনঃ একই ধরনের অপরাধ সংঘটন করলে উক্ত দন্ডের দ্বিগুণ হারে দন্ডণীয় হবেন।

গত ১৯ অক্টোবর ২০১৮ থেকে বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটির প্রদর্শন শুরু হলেও ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন ও এর বিধিমালার এই সুস্পষ্ট নির্দেশনাগুলো মানা হচ্ছেনা। শুধু তাই নয়, সিনেমাটির পরিবেশক জাজ মাল্টিমিডিয়ার অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে গত ১১ অক্টোবর যে ট্রেইলার মুক্তি দেয়া হয়, তাতেও এই বিধিমালা মানা হয়নি।

মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদের সৃষ্ট ‘মিসির আলি’ বাংলাদেশে কিশোর ও তরুণ পাঠকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই এক জনপ্রিয় চরিত্র। তবে, দেবী সিনেমায় মিসির আলির যেমন চিত্রায়ন হয়েছে, তেমনটা চালু থাকলে মিসির আলির চরিত্র অনুসরণ করা অসংখ্য কিশোর ও তরুণভক্তরা ধূমপানকেও উপরিল্লিখিত গুণাবলীর একটি অবিচ্ছেদ্য অনুষঙ্গ হিসেবে ধরে নিতে পারেন, যা সন্দেহাতীতভাবে বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্যকে চরম ঝুঁকিতে ফেলবে। ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত জাতি গড়ার সুস্পষ্ট লক্ষ্য নিয়ে এগোতে থাকা বাংলাদেশের এই বিষয়ে এখনই সচেতন হওয়া দরকার ।

বার্তা প্রেরক
তামাকবিরোধী সংগঠন সমূহের পক্ষে
মেহেদি হাসান
প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান)





সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

জাতীয় বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ৫৭১ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই