তারিখ : ২০ জুন ২০১৯, বৃহস্পতিবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

গফরগাঁওয়ে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে আওয়ামীলীগ কর্মীর মৃত্যু

গফরগাঁওয়ে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে আওয়ামীলীগ কর্মীর মৃত্যু
[ভালুকা ডট কম : ১০ মে]
ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাকাটি গ্রামে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে পালাতে গিয়ে লিটন মিয়া (৩০) নামে এক আওয়ামীলীগ কর্মী আহত হন। আহত লিটন মিয়া মৃত্যুর সাথে ১৭ দিন পাঞ্জা লড়ে বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকার একটি একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।

গফরগাঁও থানা পুলিশের দাবী কামরুজ্জামান ওরফে লিটনের নামে একটি সিআর মামলার গ্রেফতারি পরোয়ানা মূলে তাকে গ্রেফতার করতে তার বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় সে টিনের চালা থেকে পড়ে গুরুতর আহত হয় ।

লিটনের পরিবারের দাবী লিটনের পিতা মইজউদ্দিনের নামের সাথে একটি মামলার আসামী কামরুজ্জামানের পিতা মইজউদ্দিনের নামের মিল থাকায় নিরপরাধ লিটন মিয়াকে পুলিশ গ্রেফতার করতে গভীর রাতে লিটন মিয়ার বাড়িতে আসে। এ সময় পুলিশের নির্যাতনে লিটন মিয়া গুরুতর আহত হয়।

এলাকাবাসী ও লিটন মিয়ার পরিবার সূত্রে জানা গেছে , গত ২৪ এপ্রিল (মঙ্গলবার দিবাগত) রাত আনুমানিক একটার দিকে গফরগাঁও থানার ওসি আব্দুল আহাদ খান ্ইর্মাজেন্সি অফিসার এসআই রুবেল, ওয়ারেন্ট তলবের দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার এএসআই সুখময় দত্ত, এসআই নূর শাহীনের নেতৃত্বে  ৮/১০ জন পুলিশ বাড়ি লিটনের বাড়ির পাশে পাকাটি বাজারে আসে। পাকাটি বাজারের ব্যবসায়ী ও ওইদিনের বাজার পাহারাদার আল আমিন (৩৮) ও বাচ্চু মিয়ার কাছে কামরুজ্জামান পিতা-মইজউদ্দিনকে খোঁজ করে। আল আমিন ও বাচ্চু মিয়া পুলিশকে সঠিক তথ্য দিতে পারে না । রাত দেড়টার দিকে এসআই রুবেল, এএসআই সুখময় দত্ত, এসআই নূর শাহীনের নেতৃত্বে  ৮/১০ জন পুলিশ বাড়ি লিটনের বাড়ি ঘেরাও করে।  পুলিশ লিটনকে বসত  ঘরের দরজা খুলতে বলে এবং বসত ঘরের দরজাতে লাঠি জাতীয় জিনিস দিয়ে আঘাত করে। ভয়ে লিটন ঘরের টিনের চালা কেটে পালাতে গিয়ে ঘরের টিনের চালা থেকে পড়ে গুরুতর আহত হয়। গুরুতর লিটনকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, ২৫ এপ্রিল ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ তে অবস্থার অবনতি হলে ২৫ এপ্রিল থেকে ৬ মে পর্যন্ত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ তে এবং  পরে ঢাকার লালমাটিয়ার ইষ্টার্ন কেয়ার হাসপাতালে আইসিইউ তে রাখা হয় । বৃহস্পতিবার রাতে তার মৃত্যু হয়।

গফরহাঁও থানার এসআই নূর শাহীন বলেন, পালাতে গিয়ে লিটন টিনের চালা থেকে পড়ে আহত হলে তার সুচিকিৎসার জন্য  থানা পুলিশ দ্রুত তাকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। স্থানীয় ইউপি সদন্য হিরু মেম্বারের সাথে কথা বলে লিটনের বাড়িতে অভিযান চালানো হয় বলে জানান এসআই নূর শাহীন।

লিটনের পিতা মইজ উদ্দিন (৭০), মা ওজুফা খাতুন (৬০) কাঁদতে কাঁদতে বলে, তার ছেলে লিটন মিয়ার নামে কোন মামলা নেই। পুলিশ এলাকার কিছু লোকের ইন্ধনে পড়ে আমার ছেলেকে গ্রেফতার করতে আমার বাড়িতে অভিযান চালায়। আমার ছেলে লিটন মিয়া পুলিশের ভয়ে ঘরের চালায় উঠে, চালা থেকে লাফ দিয়ে মাটিতে পড়ে। থানা পুলিশ এ সময় লিটনকে অচেতন লিটনকে টেনে হেঁচড়ে অনেকদুর পর্যন্ত নিয়ে যায়।

বারবাড়িয়া ই্উনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবেক সহসভাপতি আনিছুর রহমান বলেন, লিটন আওয়ামীলীগের সক্রিয় কর্মী ছিল। গফরগাঁও উপজেলা সদরে যুবলীগের দুইগ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় ওই সময়ে মামলা হয়, লিটন হয়ত ভেবেছিল পুলিশ এই মামলায় তাকে গ্রেফতার করতে এসছে, এই ভয়ে হয়ত সে পালাতে চায়।

গফরগাঁও থানার ওসি আব্দুল আহাদ বলেন, লিটনের নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল । পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে গেলে পালাতে গিয়ে সে আহত হয় ।#






সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

জীবন যাত্রা বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ৫৭৬ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই