তারিখ : ৩১ মে ২০২৪, শুক্রবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

ভালুকায় বোরো ধানের সবুজ গোছায় স্বপ্ন

ভালুকায় বোরো ধানের সবুজ গোছায় স্বপ্ন বুনছেন কৃষক আঃ হক
[ভালুকা ডট কম : ২৩ মার্চ]
ভালুকার ধামশুর গ্রামের কৃষক আঃ হক (৮৫) দুপুর রোদে বোরো ক্ষেতে ইউরিয়া সার প্রয়োগ করছিলেন। এর আগে তিনি ধানের গোছায় হাত বুলিয়ে আগাছা পরিষ্কার করেছেন। তিনি জানান ১২ কাঠা জমিতে বোরো আবাদ করেছেন রোগ বালাই না হলে ৪০/৫০ মণ ধান পাবেন। নিজের বাড়ীর সাবমার্সিবল পাম্প হতে পানি সেচ দিয়ে জমি চাষ করেছেন। কোন রোগ বালাই কিংবা পোকার আক্রমন এ পর্যন্ত হয়নি। তিনি ভাল ফলন পাওয়ার আশা করছেন।

একমাত্র সম্বল ১২ কাঠা জমির ধান ঘরে তুলতে পারলে তাদিয়েই চলবে সারা বছরের ভাতের যোগান সহ ধান বেচা টাকায় আনুষাঙ্গিক খরচ। কৃষক আঃ হকের মত হাজারো কৃষকের একটাই স্বপ্ন মাথার ঘাম ঝড়ানো বোরো ফসল ঘরে তোলবেন কিভাবে।একই গ্রামের সবুজ মিয়া (২৫) মাঝরা পোকার আক্রমন হতে ধান গাছ বাঁচাতে ক্ষেতে আগাম (মটর) নামে কীটনাশক স্প্রে করছিলেন। তিনি জানান এ বছর বোরো ধানের ফলন ভাল পাওয়ার আশা করছেন।

ভালুকার বিভিন্ন গ্রামে কৃষকের ঘাম ঝড়ানো বোরো ধানের দিগন্তজুরা মাঠ ভরে উঠেছে সারি সারি সবুজ পাতার আবিরে আর মাঝখানে ভর দুপুরে কৃষকের ক্ষেতে আগাছা পরিষ্কার করছেন কোমড়ে শাড়ীর আঁচল গোঁজা নারী শ্রমিক । সবুজ ধানের গোছায় হাত বুলিয়ে সোনার ফসল ঘরে তোলার স্বপ্ন দেখছেন হাজারো কৃষক। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে গ্রামের মাঠে মাঠে বোর ধান ক্ষেতে থোর আসার সময় হওয়ায় আগাছা পরিষ্কার ও সার কীটনাশক দেওয়ায় ব্যস্ত দিন কাটাচ্ছেন কৃষকরা। যারা মৌসুমের প্রথমেই ক্ষেত তৈরী করে বোরো ধানের চারা রোপন করেছেন তাদের ক্ষেতের ধান গোছা হয়ে থোর বের হচ্ছে। ওইসব ধানক্ষেতে আগাছা বাছাই, সার ও কীটনাশক প্রয়োগের সময় হওয়ায় চারিদিকে শ্রমিকের চাহিদা দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে অধিকাংশ বোরো ক্ষেতে আগাছা বাছাইয়ের কাজ করছেন পুরুষদের পাশাপাশি নারী শ্রমিকরা। কারন হিসেবে কৃষকরা জানান বর্তমানে ভালুকার বিভিন্ন এলাকায় প্রচুর মিল ফ্যাক্টরীতে কাজ পাওয়ায় কৃষি কাজে পুরুষ শ্রমিকের সংখ্যা একেবারেই কমে গেছে ফলে এখন মাঝ বয়সী গরীব নারী শ্রমিকরা ক্ষেতে খামারে কৃষি কাজ করছে তাও সংখ্যায় খুবই কম।

বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার ডাকাতিয়া গ্রামে বোরো ক্ষেতে আগাছা পরিষ্কার করছিলেন কয়েকজন নারী শ্রমিক। এদের মধ্যে একজনের নাম রাহেলা খাতুন। তিনি জানান নিজের খেয়ে ৪০০ টাকা রোজ তারা কাজ করেন। এতে তাদের দিন খুব কষ্টে কাটে। ক্ষেতে খলায় কাজ না করলে বেঁচে থাকার কোন পথ নাই তাই বাধ্য হয়েই তারা গৃহস্থের ক্ষেতে খলায় কাজ করে থাকেন। এদের মধ্যে শরিফা নামে একজন নারী শ্রমিক আপসোস করে বলেন “ বেটাগো দুই বেলা খিলাবার দিয়া ৫শ ট্যাহা রোজ দিয়ন নাগছাল আর বেটি মানুষ হওয়ায় আমাগো একবেলা নাওয়া খাওয়া নাই, ৪০০ টেহা হাতে ধরাই বিদায় করছাল”। অর্থাৎ পুরুষ শ্রমিকদের ২ বেলা খাবার দিয়ে ৫শ টাকা রোজ মজুরী দেয় আর তাদেরকে সারাদিন খাটিয়ে বিনা খাবারে মাত্র ৪০০ টাকা মজুরী দিয়ে বিদায় করেন গৃহস্থরা।

এ বছর ভালুকায় সরকারী প্রনোদনার সার বীজ পাওয়ায় সময়মত বীজতলা তৈরী করে বোরো ধানের চারা রোপন করেছেন অনেক কৃষক। নদী নালা খাল বিল বেষ্টিত উঁচু নীচু উর্বর জমিতে ফসল উৎপাদন করে ভালুকার অধিকাংশ কৃষক তাদের জীবন জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। এ অঞ্চলে সাধারণত আউশ, আমন,গম ও বোরো ধানের প্রচুর আবাদ হয়ে থাকে। নীচু জমি যেমন খাল বিল ঘেষা রয়েছে সেসব জমিতে আগাম চাষ দিয়ে সেচের মাধ্যমে বোরো ধানের আবাদ হয়। এর আগে ওই জমিতে টিএসপি ও পটাশ সার ব্যবহার করলে ভাল ফলন হয়। বর্তমানে রাসায়নিক সারের পাশাপাশি জৈব সারের প্রয়োগ বেড়েছে অনেক বেশী। পৌষ-মাঘ দুই মাস বোরো ধান রোপনের উপযুক্ত সময়। কোন কোন এলাকায় চৈত্রের শেষদিকে আগাম বোরো ধান কাটা শুরু হয়। বৈশাখ মাস জুরে বোরো ধান কাটায় যেমন ব্যস্ত থাকেন কৃষকরা তেমনি আতংকেও থাকতে হয়।এ সময়টায় কাল বোশেখী শুরুর সময় হওয়ায় ঝড় বৃষ্টি ও শিলা বৃষ্টিতে ফসলের ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে। তাই কৃষকরা অনেকটা তাড়াহুড়োর মধ্য দিয়ে বোরো ধান মাড়াই করে ঘরে তোলায় ব্যস্ত সময় কাটান।

উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে চলতি মৌসুমে ভালুকা উপজেলার ১১ টি ইউনিয়নে ১৮ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। হাইব্রীড ২১৬৫ হেক্টর উফসি ১৬৪৭৫ হেক্টর ও স্থানীয় জাত ১০ হেক্টর। অধিক ফসল উৎপাদনে বোরো আবাদে কৃষকদের আরও উৎসাহী ও সহযোহিতার লক্ষে কৃষি বিভাগের মাধ্যমে ৬৬০০ জন কৃষককে ৬৬০০ বিঘা জমিতে চাষ করার জন্য বোরো হাইব্রীড ২ কেজি বীজ। উফসী জাতের জন্য ৫ কেজি বীজ, ১০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি এমওপি সার  সরকারী প্রনোদনা হিসাবে দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর সরকারী প্রনোদনার বোরো বীজ ও সার ৬৬০০ জন কৃষককে দেওয়ায় বাজারে সার ও বীজ নিয়ে কোন কৃত্রিম সংকট তৈরী হয়নি। উৎপাদন লক্ষমাত্রা পুরন হলে আসন্ন বোরো মৌসুমে ৭৬ হাজার ৩৭৩ মেট্রিক টন ধান ফলন হিসেবে কৃষকের গোলায় উঠার  সম্ভাবনা রয়েছে ।



সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

ভালুকা বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ৯৩৯০ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই