তারিখ : ১৮ এপ্রিল ২০২৪, বৃহস্পতিবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

৬ মাাসে রাজস্ব ঘাটতি ৩২৮ কোটি ৯২ লাখ

বেনাপোল কাস্টমসে ৬ মাাসে রাজস্ব ঘাটতি ৩২৮ কোটি ৯২ লাখ টাকা
[ভালুকা ডট কম : ১৮ জানুয়ারী]
এবার, বেনাপোল কাস্টম হাউসের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে ৩২৭ কোটি ৯২ লাখ টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের গেল ৬ মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) বেনাপোল কাস্টমসে লক্ষ্যমাত্রার পরিমান ছিল ৩ হাজার ১০৫ কোটি টাকা। আদায় হয়েছে ২ হাজার ৭৭৭ কোটি ৯ লাখ টাকা।

বেনাপোল কাস্টম হাউস সুত্রে জানা যায়, বৈশ্বিক মন্দা’ হরতাল আর অবরোধের বিরুপ প্রভাবে চলতি অর্থবছরের গেল ৬ মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) এখানে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম আদায় হয়েছে ৩২৭ কোটি ৯১ লাখ টাকা। এসময়ে ভারত থেকে পণ্য আমদানি হয়েছে ৮ লাখ ২৪ হাজার ১২৩ মেট্রিক টন বিভিন্ন ধরনের পণ্য।

ব্যবসায়ীরা বলছেন,  এসময়ে বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি কমেছে গত অর্থবছরের একই সময়ের চাইতে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৩৯০ মেট্রিক টন। ডলারের দামের উর্ধ্বগতিতে কোনভাবে নিয়ন্ত্রনে না আসায় আমদানিকারকেরা লোকশানের আশঙ্কায় অনেকে বাধ্য হয়ে আমদানি বাণিজ্য বন্ধ রেখেছে। দ্রুত সংকট না কাটলে বছর শেষে আমদানির পরিমান আরও কমে বড় ধরনের রাজস্ব ঘাটতির কবলে পড়তে পারে এ বন্দর। তবে এক শ্রেনীর ব্যবসায়ীরা মনে করেন দূর্নীতিবাজ কিছু আমদানিকারকেরা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ব্যবসায়ীদের সহযোগীতা নিয়ে বিভিন্ন পরিচয়ে শুল্কফাঁকিতে অব্যাহত থাকায় গত ১২ থেকে ১৩ বছর ধরে বেনাপোল কাস্টমসে রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ঘাটতি হয়ে আসছে।

কাস্টমস সুত্রে জানা যায়, ভারত থেকে যেসব পণ্য আমদানি হয় তার উপর প্রতিমাসে নিদিষ্ট পরিমানে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের গেল ৬ মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) বেনাপোল কাস্টমসে এ লক্ষ্যমাত্রার পরিমান ছিল ৩ হাজার ১০৫ কোটি টাকা। কিন্তু আদায় হয়েছে ২ হাজার ৭৭৭ কোটি ৯ লাখ টাকা। এখানে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম আদায় হয়েছে ৩২৭ কোটি ৯১ লাখ টাকা।

এসময় ভারত থেকে পণ্য আমদানি হয়েছে ৮ লাখ ২৪ হাজার ১২৩ মেট্রিক টন বিভিন্ন ধরনের পণ্য। এর আগে ২০২২-২৩ অর্থ বছরের একই সময়ে (জুলাই-ডিসেম্বর) রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ হাজার ৯৩৯ কোটি টাকা। সে সময় আদায় হয়েছিল ২ হাজার ৬৩২ কোটি ১ লাখ টাকা। এখানে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ঘাটতি ছিল ৩০৬ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। এসময় আমদানির পরিমান ছিল ৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫১৩ মেট্রিক টন পণ্য। ২০২২-২৩ অর্থ বছরের ৬ মাসের তুলনায় ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে এখানে আমদানি কমেছে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৩৯০ মেট্রিন টন পণ্য এবং রাজস্ব ঘাটতি ২১ কোটি ৯১ লাখ টাকা।

বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের আর্ন্তজাতিক বিষয়ক সম্পাদক সুলতান মাহামুদ বিপুল জানান, বিএনপি-জামায়াতের হরতাল, অবরোধ আর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের খেসারত দিতে হচ্ছে বাংলাদেশকেও। খাদ্য দ্রব্যসহ শিল্প, কলকারখানার কাঁচামাল ও মেশিনারিজ দ্রব্য আমদানি করতে ডলারের চাহিদা মেটাতে হয় বাংলাদেশকে। কিন্তু বৈশ্বিক মন্দায় ডলারের দাম ঊর্ধ্বগতি আর সংকটের কারণ দেখিয়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো কয়েক মাস ধরে এলসির সংখ্যা কমিয়েছেন। এতে   আমদানি কমায় দেখা গেছে রাজস্ব ঘাটতি। তবে আমরা আশাবাদি এ অর্থবছর শেষে সকল সংকট মোকাবেলা করে বানিজ্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।

বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট এ্যাসোসিয়েশনের কাস্টমস বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল লতিফ জানান, বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি কমেছে ৩০ শতাংশ। দ্রুত এ সংকট কাটাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে বিপুল পরিমানে বানিজ্য ও রাজস্ব ঘাটতির মুখে পড়তে পারে এ বন্দর।

এদিকে অধিকাংশ সিএন্ডএফ এজেন্ট ব্যবসায়ীরা জানান, শাড়ি, থ্রি-পিছ, কসমেটিক্স, ব্লাঙ্ককেটস, মেশিনারীজপার্টস, সার্জিক্যাল, চকলেটসহ আমদানিযোগ্য অনেক পণ্য দীর্ঘদিন যাবত ব্লাকের মাধ্যমে বেনাপোল আর্ন্তজাতিক চেকপোষ্ট কাস্টম হয়ে কাস্টমসের কতিপয় অসাধু সিন্ডিকেট কর্মকর্তা-কর্মচারিদের সহযোগীতায় শুল্কফাঁকি দিয়ে দেশে প্রবেশ করছে। এতে চেকপোস্ট কাস্টমসের রাজস্ব কর্মকর্তার অবৈধ পণ্য পাঁচারকারি সিন্ডিকেটের সদস্য সহকারি রাজস্ব কর্মকর্তা (এআরও) নাইম, ইমরান, লিঙ্কন, দিদার বক্স, আনিছুর রহমান আনিছ, শরিফ,  ছাবিরা, সিপাই মতিন, নাজমুল, শুল্ক গোয়েন্দা আফজাল হোসেন, রাসেদ, ট্যান্ডেল সাদ্দামসহ কতিপয় কর্মকর্তারা রাতারাতি কোটিপতি বনে গেলেও আমদানিকারকরা সরকারের শুল্ক দিয়ে বৈধপথে আমদানি বাণিজ্যে লোকশান গুনতে গুনতে বন্ধ করছে আমদানি বাণিজ্য। একইসাথে সরকার হারাচ্ছে হাজার হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আয়। যে কারণে গেল ১২ থেকে ১৩ বছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এর বেঁধে দেওয়া রাজস্ব আহরণে ব্যর্থ হচ্ছে বেনাপোল কাস্টম হাউস।

বেনাপোল আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সহ-সভাপতি আমিনুল হক জানান, বৈশ্বিক মন্দায় ডলার সংকটের কারণ দেখিয়ে ব্যাংকগুলো ডলার দাম অযৌক্তিক বাড়ানোয় এলসি খুলতে পারছিনা। সরকারের নির্ধারিত ডলার রেট থাকলেও বর্তামানে ১০০ ডলারের বিপরীতে ব্যাংক ১২৫ থেকে ১২৮ টাকা পর্যন্ত কাটছে। এর বিরূপ প্রভাবে দেশে শিল্পকলকারখানায় উৎপাদন ব্যহত ও আমদানি পণ্যের মূল্য লাগামহীনভাবে বাড়ার আশঙ্কা বাড়ছে।#
 

 



সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

অন্যান্য বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ৮৯০৭ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই