তারিখ : ৩১ মে ২০২৪, শুক্রবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

আশ্রয়ণের ঘর নির্মাণে নয়-ছয়

নওগাঁয় নির্মাণ কাজ শেষ না করেই বরাদ্দের টাকা উত্তোলনের অভিযোগ
[ভালুকা ডট কম : ০৩ মার্চ]
নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার সদ্য বদলী হওয়া নির্বাহী অফিসার রুমানা আফরোজের বিরুদ্ধে আদিবাসীদের জন্য বরাদ্দকৃত ঘরের নির্মাণকাজ শেষ না করেই বরাদ্দের টাকা উঠানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গত ডিসেম্বর (২০২৩ইং) বদলির পূর্বে তিনি সেখানে কর্মরত থাকা অবস্থায় ১৭টি ঘরের কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে এসব বরাদ্দকৃত টাকা তুলে নেন। ফলে ঘরগুলোর নির্মাণাধীন কাজ অসম্পূর্ণ ভাবে থেকেই গেছে। এতে করে দুর্ভোগে দিনযাপন করছে বরাদ্দ পাওয়া সুবিধাভোগী আদিবাসী পরিবারগুলো। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। টাকাগুলো উত্তোলন করে বর্তমানে তিনি পাশর্^বর্তী বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন।
    
জানা যায়, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর (আদিবাসী) জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন ধরণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশের ৬৪টি জেলায় যাদের জমি আছে কিন্তু গৃহ নির্মাণের সামর্থ্য নেই এমন দরিদ্রদের জন্য আধাপাঁকা বাড়ি নির্মাণ করার কার্যক্রম শুরু করেন সরকার। তারই ধারাবাহিকতায় ২০২২-২৩ অর্থ বছরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নওগাঁ জেলার পত্নীতলা উপজেলাতে ২৫টি ক্ষুদ্র নৃ- গোষ্ঠীর (আদিবাসী) গৃহহীন পরিবারের জন্য বসতঘর বরাদ্দ আসে। এর আগে আরও বেশ কয়েকটি ঘর বরাদ্দ পান সেখানকার আদিবাসীরা। আর প্রতিটি বসতঘরের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩ লাখ টাকা। থাকবে চৌচালা টিনের ছাউনির দুটি ঘর।

পাঁকা মেঝে, একটি কাঠের দরজা ও দুটি জানালা। ঘরের পাশে রান্নাঘর, বাথরুম, স্টোররুম এবং অপরপাশে একটি পাঁকা বারান্দা। ওই সময়ে ঘরটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পান তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুমানা আফরোজ। এরপর তিনি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গৃহহীন আদিবাসীদের মাঝে যাচাই বাছাই করে বন্টন করে। প্রথমদিকে বরাদ্দ পাওয়া ঘরগুলো নির্মাণ করে আদিবাসীদের হস্তান্তর করেন। পরবর্তীতে বরাদ্দকৃত ২৫টি ঘরের মধ্যে আরও ৮টি ঘর নির্মাণ করেন। এরপর ১৭ টি ঘর নির্মাণ সম্পন্ন না করেই বরাদ্দকৃত টাকা উত্তোলন করেন। অবশ্য এখনও ঘরগুলোর কাজ চলমান আছে বলে একাধিক সুবিধাভোগী জানান। যদিও কাজ সম্পন্ন না করে টাকা উত্তোলনের কোনো নিয়ম নেই বলে জানা গেছে। এদিকে ওই সকল ঘরের নির্মাণ কাজ অসম্পূর্ণ রেখে বদলি হয়ে চলে যান বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলাতে। এ ঘটনার পর আস্তে আস্তে ঘরগুলোর কাজ চলমান রাখেন। যার ফলে ঘরগুলো নির্মাণ হতে সময় অতিবাহিত হচ্ছে। এতেকরে আদিবাসীরা তাদের বরাদ্দকৃত ঘর না পেয়ে দুর্বিষহ জীবন কাটাচ্ছেন এমনটাই বলছেন স্থানীয়রা।

আদিবাসী নেতাসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, ঘরগুলো না পেয়ে গৃহহীন পরিবাররা খুব কষ্টে অন্যদের বাড়িতে, কেউবা ইট দিয়ে চারপাশে ঘিরে দিনযাপন করছে। মিস্ত্রিরা ঠিকমতো কাজ করছেনা। ঘরের কাজগুলো অসম্পূর্ণ রয়েছে। প্রশাসনের নিকট কাজটি দ্রুত সম্পন্ন হওয়ার দাবী করছি।

ঘর বরাদ্দ পাওয়া সুবিধাভোগী আদিবাসী সুজন ভূইয়ার কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে বলেন, সবার আগে আমার ঘর করতে লাগে মিস্ত্রি। কিন্তু এখনও কমপ্লিট হয়নি। মিস্ত্রি কাজই করতে চায়না। আমি সঠিক বলতে পারবো না। শুনছি অনেক ঘর এখনও হয়নি। তবে আশা করি আমার ঘর আগামী সাত দিনের মধ্যে হয়ে যাবে।

তিনি আরও বলেন, ৬ ইঞ্চি পরপর রিং দেওয়ার কথা থাকলেও পৌনে দুই ফিট পর রিং দিচ্ছে। আমার কথাই শুনছে না মিস্ত্রি, ক্ষোভের সহিত জানালেন তিনি। এই কথা কাকে আমরা জানাবো, আমরা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কোথাও দৌড়াদৌড়ি করতে পারবো না। আমাদের নেতাদের কাছেই যেতে হয়। আর নেতাও বলে বলে হাফসে যায়, অসহায়ের সুরে বলেন তিনি। একাধিক সুবিধাভোগী আদিবাসী ও তাদের সন্তানেরা নিশ্চিত করেছেন তাদের নামে বরাদ্দকৃত ঘরের কাজ এখনও শেষ হয়নি। তাই তারা এখনও ঘরে উঠতে পারেনি। তবে প্রতিবেদকের হাতে আসা বরাদ্দকৃত লিস্টে অনেকের মোবাইল নম্বর দেওয়া নেই। আবার যোগাযোগের চেষ্টা করলে কারো মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

জানতে চাইলে পত্নীতলা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ আবু সোয়াইব খান সাঈদ মুঠোফোনে বলেন, আদিবাসীদের ঘর নির্মাণ আমি করিনি। এই বরাদ্দ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে এসেছে। আর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিজেই করেন। এটা আমার বিষয় নয় বলে এড়িয়ে গেলেও পিআইও সাঈদ অপর গণমাধ্যমকর্মীকে মুঠোফোনে জানান, এই কাজটি আগের ইউএনও নিজেই করেছেন। এখনও সকল কাজ সম্পন্ন হয়নি, চলমান আছে।

তিনি আরো বলেন জেলা প্রশাসকের নিটক থেকে চেক আসে। সেক্ষেত্রে চেকের ক্ষমতা ইউএনও’র নিজের। তবে ঘর নির্মাণকাজ সম্পন্ন না করে টাকা উত্তোলন করা যায় না। তিনি হয়তো ঘরের কাজ সম্পন্ন দেখিয়েছেন। হয়তোবা তিনি প্রগ্রেস বাড়িয়ে দিয়ে টাকা তুলে নিয়েছেন। এটি একটি সেনসিটিভ বিষয় জানিয়ে তিনি জানান, কমিশনের অফিস থেকে প্রতিমাসে রিপোর্ট নেয়, সেক্ষেত্রে উনি নিজেই রিপোর্ট দিয়েছেন উনার মতো করে। এখানে ৪৫ টি ঘর আছে। তারমধ্যে ১৭টি ঘরের কাজ বাঁকি আছে বলেও জানান তিনি।

আদিবাসীদের ঘরের বিল উত্তোলন হয়েছে কিনা জানতে চাইলে পত্নীতলা উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা খালিদ হোসেন মুঠোফোনে জানান, এটা কোন দপ্তরের বিল? নির্দিষ্ট করে বললে ভালো হতো। তবে আমার কাছে যতো বিলের ক্লেম করছে সবগুলো বিল দিয়ে দিয়েছি। অফিসে কোনো বিল বকেয়া থাকেনা। প্রক্রীয়া অনুযায়ী আমরা বিল পেমেন্ট করে থাকি।

ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের বরাদ্দকৃত ঘরের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক পত্নীতলা উপজেলা ও বর্তমান আদমদীঘি নির্বাহী অফিসার রুমানা আফরোজ মুঠোফোনে বলেন, অভিযোগ কে করেছে? তবে তিনি কোনো প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে অফিসে গিয়ে সরাসরি কথা বলতে বলেন। যদিও তার সাথে বেশ কিছুক্ষণ কথা বলেও অভিযোগের কোনো হ্যাঁ বা না কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। তবে তিনি একসময় বলেন, ওখানে কখনও কাজ বন্ধ ছিলনা। তিনি বারবার তার অফিসে গিয়ে কাছে থাকা ডকুমেন্ট দেখে নিউজ করার জন্য অনুরোধ জানান।  

জানতে চাইলে মন্ত্রব্য করতে রাজি নয় জানিয়ে পত্নীতলা উপজেলার বর্তমান নির্বাহী অফিসার টুকটুক তালুকদার মুঠোফোনে বলেন, ঘরগুলোর কাজ চলমান রয়েছে।

জেলা প্রশাসক গোলাম মওলা ছুটিতে থাকায় দায়িত্বে আছেন জানিয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মিল্টন চন্দ্র রায় মুঠোফোনে বলেন, এই বিষয়টি শুনেছি। আরও কয়েকজন সাংবাদিক ফোন দিয়েছিলেন। এটার সম্পর্কে আমরা খবর নিচ্ছি।#





সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

অন্যান্য বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ৯৩৯০ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই