তারিখ : ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২১, বৃহস্পতিবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

নওগাঁয় পুলিশের ব্যতিক্রম সব কর্মকান্ড

মহামারি করোনাকালীন সময়ে নওগাঁয় পুলিশের ব্যতিক্রম সব কর্মকান্ড
[ভালুকা ডট কম : ০৯ জানুয়ারী]
সারা বিশ্বে হানা দিয়েছে মরনব্যাধি করোনা ভাইরাস নামক মহামারি। বর্তমানে সারা বিশ্বে ভাসছে এই মহামারির দ্বিতীয় ঢেউয়ে। এই মহামারিতে দিনরাত সরকারের দেওয়া দায়িত্ব ও সামাজিক দায়বদ্ধতায় থেকে কাজ করে আসছে ক্লান্তিহীন নওগাঁ পুলিশ সুপার (এসপি) প্রকৌশলী আবদুল মান্নান মিয়া বিপিএম।  করোনা নামক এই মহামারিতে সামনে থেকে যুদ্ধ করে আসছে বাংলাদেশ পুলিশ। নওগাঁবাসি মনে করছেন কোভিট-১৯ করোনা ভাইরাসকালীন সরকারের দেওয়া দায়িত্ব, সামাজিক দায়বদ্ধতায় নিজের নিরাপত্তা বজার রেখে মানবিক এসপি যে ভাবে ক্লান্তিহীন কাজ করেছেন তা প্রসংশনীয়। তার ব্যক্তিত্ব ও কাজের মাধ্যমে নিজেকে নিয়ে গেছে অনন্যতায়।

উত্তরের খাদ্য ভান্ডার হিসেবে পরিচিত কৃষি প্রধান জেলা নওগাঁ। নওগাঁ ধান ও চাল উৎপাদনে সারাদেশের মধ্যে অন্যতম জেলা হিসেবে পরিচিত। গত ২০২০ সালে ইরি-বোরো মৌসুমে কৃষকরা যখন ধান কাটা মাড়াই শুরু করবে সে সময় করোনা সারাদেশে ছড়িয়ে পরে। শ্রমিক সংকট নিয়ে কৃষকরা দুশ্চিন্তাগ্রস্থ্য ও দিশেহারা হয়ে পরেন। সে সময় কৃষকরা যাতে সুন্দর ভাবে দ্রুত ধান ঘরে তুলতে পারেন সে জন্যে সরকার ও খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার নির্দেশনা প্রদান করেন। এরপর জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি নওগাঁ পুলিশ সুপার প্রকৌশলী আবদুল মান্নান মিয়া বিভিন্ন জেলায় ধান কাটা শ্রমিকদের যোগাযোগ শুরু করেন। এরপর এসপির সহযোগিতায় ১১থানায় পুলিশের মাধ্যমে দিনাজপুর, পাবনা, রংপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, কুষ্টিয়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, গাইবান্দাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে নওগাঁয় আসা ধান কাটার শ্রমিকদের মাস্ক, সাবানসহ স্বাস্থ্য সুরক্ষার প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি দিয়ে সহযোগিতা করেন।

আবার আম মৌসুমে সারাদেশের মধ্যে নওগাঁ আম উৎপাদনে শীর্ষে রয়েছে। আমের রাজধানী হিসেবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পরিচিত হলেও বর্তমানে নওগাঁ সুস্বাদু আম উৎপাদনে দ্বিতীয় রাজধানী হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছে। নওগাঁয় প্রায় ২৫ হাজার হেক্টর জমিতে ৪লাখ ২০হাজার মেট্টিকটন আম উৎপাদন হয়েছে।

করোনা পরিস্থিতির কারণে সারাদেশ থেকে আম ব্যবসায়ীরা নওগাঁয় আসতে না পারায় পোরশা-সাপাহার-নিয়ামতপুরের আম চাষিরা নিরাশ হয়ে পরেন। এমতাবস্তায় পোরশা-সাপাহার-নিয়ামতপুরের আসনের সাংসদ খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার একাধিকবার চাষিদের আম সারাদেশে বিক্রির করতে প্রশাসনকে বিভিন্ন দিক নির্দেশনা প্রদান করেন। পুলিশের উদ্যোগে নওগাঁকে “আমের রাজধানী” হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া জন্যে সাপাহারে আম ব্যবসায়ী, চাষী ও আড়ৎদারদের সাথে মত বিনিময় সভায় অনুষ্ঠিত হয়।

পুলিশ সুপার প্রকৌশলী আবদুল মান্নান মিয়া ব্যবসায়ী ও চাষিদের সুবিধার্থে সাপাহারে আম বাজারে একটি পুলিশ কন্ট্রোলরুম স্থাপন করে নিরাপত্তা প্রদানসহ রাস্তার নিরাপত্তা, আম বহনকারী ট্রাক রাত্রিবেলায় নওগাঁ সীমান্তে নিরাপদে গমনের ব্যবস্থা করে দেওয়া ও রাস্তায় ডাকাতি ছিনতাই রোধকল্পে সাপাহার থানায় অতিরিক্ত দুটি গাড়ি প্রদান করেন। এ ছাড়া আম বাজার থেকে বা ট্রাক থেকে কোন প্রকার চাঁদাবাজি হবে না মর্মে হুশিয়ারি ও আশ্বাস প্রদান করেন।

নওগাঁ জেলা পুলিশের অফিসার ফোর্সগণ প্রতিদিন নিয়ম করে পিটি ও ব্যায়ামে অংশগ্রহণ করেন। পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তার জন্য প্রতিটি থানা ও পুলিশ ইউনিট সমূহে পর্যাপ্ত মাক্স, হ্যান্ড সেনিটাইজার, পিপিই, ফেইস শিল্ড, গ্লোবস, ইনফ্রারেড থার্মোমিটার, অক্সিজেন সিলিন্ডার ইত্যাদি সরবরাহ করা হয়েছে।

পুলিশী করোনা যুদ্ধের অন্যতম সম্মুখযোদ্ধা নওগাঁ জেলা পুলিশের যেসব সদস্যর, শ্বাসকষ্ট, এ্যাজমা, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকিতে রয়েছেন তাদের নিয়ে বিশেষ সাস্থ্য সচেতনতামূলক মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। ডিউটিকালীন সময়ে নওগাঁ জেলা পুলিশের সদস্যরা যেন শারীরিক ও মানসিক ভাবে নিরাপদ বোধ করে এবং নিজেদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারেন সে লক্ষ্যেই এই মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়।

নিহত স্বজন বঞ্চিত মৃতদেহগুলো পাচ্ছে না শেষ সমাদর। অজানা মৃতদেহ সৎকার পুলিশের দাফন কাজ সম্পন্ন করার জন্য কোন বাঁধাই পিছু হটাতে পারেনি অদম্য পুলিশ সদস্যদের। বদলগাছী থানার মেয়ে নাসিমা বেগম। পোশাক কারখানার শ্রমিকের কাজ করেন জ্বর, সর্দি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে নাসিমা বেগমের মৃত্যু হয়। নিহতের মরদেহ গ্রামে নিয়ে আসা হলে গ্রামবাসী বাঁধা দেন। লাশ দাফন নিয়ে শুরু হয় নানা বিপত্তি। নিহতের মামার জায়গা দিতে অস্বীকৃতি জানান। কোন সম্পর্কই যখন এগিয়ে এলো না তখন বদলগাছী থানার এসআই আরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে ইসলামিক ফাউ-েশনের প্রতিনিধিদের সাথে নিয়ে পুলিশ সদস্যরাই কবর খুঁড়ে লাশটি নদীর ধারে দাফন করা হয়।

করোনা মহামারীর এই ক্রান্তিকালে পাহাড়পুর থেকে জামালগঞ্জ যাওয়ার রাস্তার মাঝ খান রাত ৮টার দিকে হঠাৎ করেই পথচলতি মানুষের কানে আসে পাকুড় গাছের দিক হতে মানব শিশুর কান্নার শব্দ। এরপর স্থানীয়রা ব্যাগের ভেতরে রাখা একটি জলজ্যান্ত ৩/৪ বয়সের ফুটফুটে নিষ্পাপ মেয়ে কে বা কাহারা শিশুকে ফেলে রেখে যান। স্থানীয়দের ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছে যায় পাহাড়পুর ফাঁড়ি ইনচার্জ মনিরুল ইসলাম। তৎক্ষণাৎ শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করানোসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা প্রদান করেন।

নওগাঁর এক নিভৃতচারী পরোপকারী পুলিশ কনস্টেবল সারোয়ার। নাম পরিচয়হীন, কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন বৃদ্ধাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান নিজ উদ্যোগে। সুস্থ হবার পরে তাকে তার নিজের বাড়িতে ফিরিয়ে দেবার জন্য তার নাম, ঠিকানা জানার চেষ্টা করলেও বৃদ্ধা সঠিকভাবে তা বলতে পারেন না। থাকার ব্যবস্থা হলেও খাবারের জন্য কি করা যায় ভাবতে থাকেন। পরে সারোয়ারের সহধর্মিনী নিজে দুইবেলা রান্না করে বৃদ্ধার জন্য খাবার পাঠাতে শুরু করেন। এভাবেই গত চার মাস থেকে সকলের অগোচরে বৃদ্ধা মায়ের সেবা-শুশ্রুষাসহ সকল দায়িত্ব পালন করে চলেছেন পুলিশ কনস্টেবল সারোয়ার।

করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় বাংলাদেশ পুলিশ সামনে থেকে লড়াই করে চলেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষা, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, চেকপোস্ট ও টহল ডিউটির পাশাপাশি বাংলাদেশ পুলিশের প্রতিটি সদস্য অসহায় ও দরিদ্র জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে। নিজেদের বেতন ভাতার টাকা থেকে এমনকি রেশনের চাল, ডাল, তেল দিয়ে সাহায্য করে চলেছে নিম্নায়ের মানুষদের। জেলায় প্রায় ১৫শ’ হত দরিদ্র পরিবারের মাঝে বিভিন্ন প্রকার খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে পুলিশ সুপার, সিনিয়র অফিসার অথবা অফিসার ইনচার্জদের কাছে সহায়তা চাইলে গোপনে তাদের বাড়িতে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন এবং তা চলমান আছে।

নওগাঁ জেলা পুলিশের আহবানে নওগাঁ জেলার ৫৮জন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর নিকট আত্মসমর্পণ করে অন্ধকার থেকে আলোর পথের অভিযাত্রী হয়েছিলেন। পুলিশ সুপার প্রকৌশলী আবদুল মান্নান মিয়ার নির্দেশনায় তাদেরকে সর্বদা মনিটরিং এ রাখা হতো এবং তাদের নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া হতো।

নওগাঁ পুলিশ সুপার প্রকৌশলী আবদুল মান্নান মিয়া বিপিএম জানান, আইজিপির দিক নির্দেশনায় নওগাঁ জেলায় ৯৯টি ইউনিয়ন ও ৩টি পৌরসভায় বিট পুলিশের কার্যালয় স্থাপনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আইজিপি মহোদয় আশাবাদ ব্যক্ত করেন এখন থেকে মানুষ থানায় পুলিশী সেবা নিতে আসবে না, পুলিশই মানুষের দোরগোড়ায় সেবা প্রদান করবে। জেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে ১১৫ টি’রও অধিক বিট পুলিশের কার্যালয় স্থাপন করে জনগণের মাঝে পুলিশি সেবা প্রদান করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, আগামিতেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সরকারি দায়িত্বের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতায় তিনি কাজ করে যাবেন। এ জন্যে সকলের সহযোগিতা ও দোয়া চেয়েছেন।#



সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

জীবন যাত্রা বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ১৩০৬ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই