তারিখ : ০২ মার্চ ২০২১, মঙ্গলবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

নান্দাইলে কৃষি জমির মাটি যাচ্ছে ইটভাটায়

নান্দাইলে কৃষি জমির মাটি যাচ্ছে ইটভাটায়,নষ্ট হচ্ছে গ্রামীণ রাস্তা ও হুমকীর মুখে আবাদ
[ভালুকা ডট কম : ২৮ ডিসেম্বর]
ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায় কৃষি জমির উপরের অংশ (উর্বর মাটি, টপ সয়েল) কেটে নিয়ে যাচ্ছে ভাটা মালিকরা। উর্বর মাটি ইটভাটায় চলে যাওয়া ফসলি জমির সর্বনাশে ফসল উৎপাদন কমছে। শুধু তাই নয় ভয়াবহ বিপর্যয়ের সম্মুখীন হচ্ছে পরিবেশ। পাশাপাশি মাটি পরিবহন ট্রলি ও ট্রাকগুলো যেনতেনভাবে মাটি ভর্তি করে মহাসড়ক ও ইউপি’র পাকারাস্তাগুলোতে চলাচল করায় মাটি পড়ে রাস্তার ভিটুমিন নষ্ট হচ্ছে। এতে বর্ষা আসলেই পাকা রাস্তার প্লাস্টার উঠে গিয়ে গর্তের সৃষ্টি হয় এবং রাস্তা নষ্ট হওয়ায় দূর্ভোগের শিকার হয় জনগণ।

এ বিষয়ে নান্দাইল আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. আনোয়ারুল আবেদীন খান তুহিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “গ্রামীণ পাকা সড়কে এ ধরনের ভারী যানবাহন চলতে দেওয়া যাবেনা। ভারী যানবাহন চলাচলের কারনে নতুন পাকা সড়ক বছর যেতে না যেতেই নষ্ট হয়ে যাওয়ায় জনগণ যেমন দূর্ভোগের শিকার হয় তেমনি সরকারের অর্থও খরচ হয়।” সরকারী আইন অনুযায়ী কৃষি জমির মাটি ভাটায় ব্যবহার নিষিদ্ধ। এই আইন লঙ্ঘনের জন্য সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদন্ড বা দুই লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ডের বিধান রয়েছে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানাগেছে, ভাটার দালালরা মূলত কৃষকদের বিভিন্নভাবে ফুসলিয়ে বা ভুল বুঝিয়ে জমির মাটি স্বল্প মূল্যে খরিদ করে তা ইট ভাটায় বিক্রী করছে ভাটা মালিকদের কাছে। তাদের বুঝানো হচ্ছে উচুঁ জমিতে ধান আবাদ হবে না, জমি থেকে সেচের পানি নেমে যায় বলে ওপরের মাটিতে ভাইরাস-ময়লা আছে তাই ওপরের মাটি বেচেঁ দিয়ে নতুন মাটিতে আবাদ করলে ভালো ফসল হবে ইত্যাদি। এতে লাভবান হচ্ছে ইটভাটার মালিক সহ একটি দালাল চক্র। তাই অবৈধভাবে ইটভাটার সংখ্যাও বেড়ে যাচ্ছে বছরে প্রতি।উপজেলায় ২১টি ইটভাটা রয়েছে। তার মধ্যে ৪/৫টি ব্যতীত বাকীগুলো অবৈধভাবে স্থাপন করা হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান বলেন,উর্বর মাটি তৈরি হতে অনেক বছর সময় লাগে। একটি উদ্ভিদের ১৬ প্রকার খাদ্যের মধ্যে মাটিতে ১৩ প্রকার খাদ্য উপাদান রয়েছে। ফসলি জমির উপরিভাগ ৪-৬ ইঞ্চি মাটি বেশী উর্বর। তবে এভাবে উর্বর মাটি ভাটায় চলে গেলে ভবিষ্যতে ২০-৩০শতাংশ হারে ফসল উৎপাদন হ্রাস পাবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রায়ই অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন জরিমানা আদায় করার পরেও তা নিয়ন্ত্রন হচ্ছে না। এ বিষয়ে সরজমিন দেখবেন বলে জানান নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. এরশাদ উদ্দিন।#



সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ১৩০৭ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই