তারিখ : ১৮ এপ্রিল ২০২৪, বৃহস্পতিবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

নওগাঁ-৬,৩৮বছর পর এমপি পেলো আত্রাই

নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রাণীনগর) আসন ,দীর্ঘ ৩৮বছর পর এমপি পেলো আত্রাই উপজেলাবাসী
[ভালুকা ডট কম : ১২ জানুয়ারী]
দীর্ঘ ৩৮বছর পর নিজ উপজেলায় এমপি পেলো নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রাণীনগর) আসনের আত্রাই উপজেলাবাসী। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আঞ্চলিকতারটানে দলমত নির্বিশেষে সকল শ্রেণির মানুষ ভোট দিয়ে তরুন প্রজন্মের আইকন হিসেবে খ্যাত প্রধানমন্ত্রীর ডেমি (স্বতন্ত্র) প্রার্থী এ্যাড. ওমর ফারুক সুমনকে এমপি হিসেবে নির্বাচিত করেছে। তাই বর্তমানে আনন্দের জোয়ারে ভাসছে আত্রাইবাসী।

গত ৭জানুয়ারী অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ্যাড. ওমর ফারুক সুমন ৬হাজার ৭৪৬ভোট বেশি পেয়ে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আওয়ামীলীগ মনোনীত (নৌকা মার্কা) প্রার্থী আনোয়ার হোসেন হেলালকে হারিয়ে বিজয়ী হন। এছাড়া এই নির্বাচনে আওয়ামীলীগের স্বতন্ত্র, জাতীয় পার্টি, তৃণমূল বিএনপি, ন্যাশনাল পিপল্স পার্টি ও বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থীসহ মোট ৮জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নওগাঁ-৬ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ২৭হাজার ৯৭৩। রাণীনগর উপজেলায় ৫৪টি ভোট কেন্দ্রে ভোট সংগ্রহ হয়েছে শতকরা ৪৪.৪৬ ভাগ ও আত্রাই উপজেলায় ৬০টি কেন্দ্রে ভোট সংগ্রহ হয়েছে শতকরা ৪৮.৯৪ ভাগ।

তথ্য সূত্রে জানা গেছে ১৯৮৬সালে তৃতীয় সাধারণ নির্বাচনে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থীতা নিয়ে আত্রাই উপজেলা থেকে প্রথমবারের মতো এমপি নির্বাচিত হন আত্রাই উপজেলার রসুলপুর গ্রামের সুমনের বাবা বীরমুক্তিযোদ্ধা ওহিদুর রহমান। ১৯৯১সালের সাধারণ নির্বাচনে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করে নিজের ভগ্নীপতি বিএনপির আলমগীর কবিরের কাছে পরাজিত হন। এরপর ১৯৯৬সালের সাধারণ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে আবারো বিএনপির আলমগীর কবিরের কাছে পরাজিত হন ওহিদুর রহমান।

বাবার উত্তরসূরি হিসেবে দুই সন্তানের জনক এ্যাড. ওমর ফারুক সুমন ২০১৪সালের পর থেকে নির্বাচনী এলাকা রাণীনগর ও আত্রাই উপজেলার মাঠে সরব রয়েছেন। বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় বিশেষ করে বন্যাকবলিত আত্রাই উপজেলাবাসীর পাশে সব সময় নিজের সাধ্যমতো সহযোগিতার বার্তা নিয়ে ছুটে গেছেন। সুমন তরুন প্রজন্মকে সঙ্গে নিয়ে উন্নয়নের কর্ণধার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আধুনিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার বার্তা প্রতিটি মানুষের কাছে পৌছে দিতে দীর্ঘদিন থেকে কাজ করে আসছেন। তিনি নিজের আসনের অসহায় ও গরীব মানুষদের বিনামূল্যে আইনী সহায়তা প্রদান করেছেন। যার ফলে নানা রকমের সামাজিক কর্মকান্ডের মাধ্যমে এই আসনের মানুষের মাঝে একজন ক্লিন ইমেজের মানুষ হিসেবে নিজের অবস্থান তৈরি করে নেন। বিগত সময়ে দলের মনোনয়ন না পাওয়ায় তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেননি। বরং শত বাধা আর বিপত্তিকে উপেক্ষা করে সমর্থকদের নিয়ে মাঠে সরব থেকে দলের হয়ে কাজ করেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন স্বভাবতই আত্রাই উপজেলায় ভোটার সংখ্যা বেশি হওয়ায় নওগাঁ-৬ আসন থেকে এমপি হতে হলে অবশ্যই তাকে প্রথমে আত্রাই উপজেলায় বিজয়ী হতে হবে। আত্রাই উপজেলা থেকে ১৯৮৬সালে ওহিদুর রহমান প্রথম অল্প সময়ের জন্য এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরপর যোগ্য দলীয় কোন প্রার্থী আত্রাই থেকে না থাকার কারণে এমপির স্বাদ পায়নি আত্রাইবাসী। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যদি বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতো তাহলে এই সুযোগ হয়তোবা আত্রাইবাসী পেতো না। তাই যেহেতু দীর্ঘদিন পর আত্রাইবাসী সুযোগ পেয়েছে সেহেতু দলমত নির্বিশেষে আত্রাইবাসী ডেমি প্রার্থী সুমনকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করেছে। শুধু আত্রাইবাসী নয় রাণীনগর উপজেলাবাসীর কাছেও বিশেষ করে তরুন ও বর্তমান প্রজন্মের কাছে তুমুল জনপ্রিয় ব্যক্তি সুমন। যার কারণে রাণীনগরবাসীও সুমনকে রেকর্ড পরিমাণ ভোট দিয়েছে। সাবেক এমপি মরহুম ইসরাফিল আলমের পর এই আসনের মানুষ একজন শিক্ষিত, কর্মঠ ও তরুন মানুষকে এমপি হিসেবে পেলো যার মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া এই আসনকে দ্রুতই এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। আর এই ধারা অব্যাহত রাখতে হলে এমপি সুমনকে এই অঞ্চলে বৈষম্যহীন, লুটপাটহীন, হানাহানি মুক্ত, এলাকায় এলাকায় কর্মী-সমর্থক নামক নেতাদের দৌরাত্ম বন্ধ করে একটি ন্যায়নীতি নির্ভর সুস্থ্যধারার রাজনীতির অধ্যায় শুরু করতে হবে এবং ভবিষ্যতে তার ধারাবাহিকতা রক্ষায় সকল লোভ-লালসা থেকে নিজেকে বিরত রেখে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার কোন বিকল্প নেই।   

আত্রাই উপজেলা আ’লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সদস্য চৌধুরী গোলাম মোস্তফা বাদল বলেন এমন সুযোগকে কাজে লাগানোর জন্য এবার নির্বাচনে আত্রাইবাসীর শ্লোগান ছিলো “আত্রাই থেকে এমপি চাই”। আজ সুমনের জয় মানে পুরো আত্রাইবাসীর জয়। কারণ আত্রাই উপজেলার সকল শ্রেণিপেশার মানুষ দলবল নির্বিশেষে সুমনকে ভোট দিয়েছেন। স্বাধীনতার পর থেকে আমরা বিলবেষ্ঠিত আত্রাইবাসী চরম ভাবে অবহেলিত অবস্থায় আছি। তাই এবার নিজের এলাকার এমপির মাধ্যমে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের রূপকার জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের সকল ধারাকে আত্রাইয়ের প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌছে দিতে চাই। তাই শত নির্যাতন ও অত্যাচার সহ্য করে দিন-রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে জেলা আ’লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক এ্যাড. ওমর ফারুক সুমনের পক্ষে কাজ করেছি এবং তাকে বিজয়ী করতে পেরে আমরা আত্রাইবাসী ধন্য। এখন সকল হিংসা, প্রতিহিংসা, দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ও রাগ-বিদ্বেষ ভুলে গিয়ে এই আসনের সকল মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আগামীর স্মার্ট নওগাঁ-৬ আসন বিনির্মাণে এমপি সুমনকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করার জন্য সবার প্রতি বিশেষ ভাবে অনুরোধ করছি।

নবনির্বাচিত এমপি এ্যাড. ওমর ফারুক সুমন বলেন আমি ১৯৯১সালে ছাত্রলীগে যোগদানের মাধ্যমে রাজনীতিতে হাতেখড়ি। আজকের এমপি নির্বাচিত হওয়ার জন্য আমাকে দীর্ঘ বন্ধুরপথ পাড়ি দিতে হয়েছে। শত অত্যাচার ও নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে। আমার পথচলার একমাত্র শক্তি ছিলো এই আসনের মানুষদের অকৃত্রিম ভালোবাসা, সাহস ও অনুপ্রেরণা। আজকের এই জয় আমার নয় এই আসনের সকল মানুষের জয়। এই বিজয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিজয়। ইতিমধ্যই আমি আমার সকল কর্মী, সমর্থক ও নেতাদের বিজয়ের আনন্দের নামে কোন প্রকারের হানাহানি ও মারামারিসহ যেকোন প্রকারের মন্দ কাজ না করার জন্য নিষেধ করেছি। কারণ আমি যখন থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছি তখন থেকেই এই আসনের সকল মানুষের জন্য একজন সেবক ও রক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছি ভক্ষক হিসেবে নই।

তিনি আরো বলেন রাণীনগর ও আত্রাই উপজেলা নিয়ে আমার হৃদয়ে অনেক স্বপ্ন বুনেছি। এছাড়া আমি বদলে দেওয়ার অঙ্গিকার নিয়ে সবার কাছে ভোট প্রার্থনা করেছি। তাই সবার সার্বিক সহযোগিতায় মানবতার মা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে সেই স্বপ্ন ও অঙ্গিকারগুলো বাস্তবায়ন করার মধ্যদিয়ে এই আসনকে মডেল আসনে রূপান্তরিত করতে চাই। দুই উপজেলায় সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে শিক্ষাখাত আজ ধ্বংসের পথে। সেই শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিকায়নের মাধ্যমে সুস্থ্য পাঠদানের মাধ্যমে মেধাবী শিক্ষার্থীদের বের হওয়ার জন্য একটি চর্চা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।

এছাড়া বন্যাকবলিত আত্রাই উপজেলাকে বন্যামুক্ত রাখতে যুগোপযোগী কর্মকান্ড বাস্তবায়ন করতে চাই। দুই উপজেলার হাসপাতালের বেহাল দশা। সেই বেহাল দশা থেকে উত্তোরণ করে গরীব, অসহায় ও দু:স্থ মানুষদের কাছে মানসম্মত উন্নত চিকিৎসা সেবা পৌছে দিতে যাবতীয় পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করবো। দুই উপজেলায় ৩টি রেলওয়ে স্টেশন দীর্ঘদিন যাবত অবহেলিত অবস্থায় পড়ে আছে। সেগুলোকে আধুনিকায়নের মাধ্যমে আন্ত:নগর ট্রেনগুলোর বিরতি নিশ্চিত করবো।

ঐতিহ্যবাহী দুই উপজেলা থেকে অনেক কুঠির ও হস্ত শিল্প পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে বিলীন হতে চলেছে সেই শিল্পগুলোকে পুরনায় পুনরায় উজ্জীবিত করতে কাজ করবো। শহরের সকল সুবিধা গ্রামে পৌছে দিতে হলে প্রথমেই যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করা জরুরী। তাই দুই উপজেলার সকল গ্রামীণ ও মফস্বল রাস্তাগুলো পাঁকাকরণ করবো। বেকারদের জন্য নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করতে চাই। আমি বিকেন্দ্রীকরণ রাজনীতির নীতি থেকে বের হয়ে ত্যাগী ও প্রকৃত আ’লীগ নেতা-কর্মীদের মূল্যায়নের মাধ্যমে এই অঞ্চলকে সহমর্মিতার একটি সুস্থ্যধারার রাজনীতির চর্চা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার চেস্টা করবো।#



সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

নির্বাচন বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ৮৯০৭ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই