তারিখ : ১৮ এপ্রিল ২০২৪, বৃহস্পতিবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

রাণীনগরে চলছে কৃষি জমিতে পুকুর খনন

রাণীনগরে চলছে কৃষি জমিতে পুকুর খনন,ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গ্রামীণ সড়ক,প্রশাসন নিবর
[ভালুকা ডট কম : ২০ ফেব্রুয়ারী]
প্রশাসনের অভিযানের পরও নওগাঁর রাণীনগরে থামছে না মাটি ব্যবসায়ীরা। ভ্রাম্যমান আদালতের দু’একটি জরিমানাকে তারা তুচ্ছ মনে করে দেদারছে কেটে যাচ্ছে মাটি। দিনে ও রাতে অপরিকল্পিত ভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন কৃষি জমিতে পুকুর খননের কাজ। আর শ্রেণি পরিবর্তন না করেই অপরিকল্পিত ভাবে পুকুর খনন করায় আশঙ্কাজনক হারে কমছে কৃষি জমির পরিমাণ।

অপরদিকে নিয়ম না মেনে উপজেলার প্রধান প্রধান সড়কসহ গ্রামীণ পাঁকা সড়কের উপর দিয়ে ট্রাক্টরের মাধ্যমে মাটি পরিবহনের কারণে নষ্ট হচ্ছে সড়ক। এমন দৃশ্য এখন উপজেলার অধিকাংশ স্থানেই। আর পাঁকা সড়কের উপর মাটি পড়ে থাকার কারণে প্রতিনিয়তই ঘটছে দুর্ঘটনা।

প্রশাসনের অনুমতি না নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ফসলি জমিতে দেদারছে মাটি কাটা হচ্ছে। অনুমোদন ছাড়াই টপসয়েল কেটে নিয়ে যাচ্ছেন মাটি ব্যবসায়ীরা। আবার কেউ স্বল্পমূল্যে মাছ চাষের কথা বলে শ্রেণি পরিকর্তন না করেই পুন:খননের অজুহাত দিয়ে বড় বড় পুকুর কাটছে। জমিতে একের পর এক এক্সেভেটর মেশিন দিয়ে মাটি কাটছেন নির্বিঘেœ। অনেককে ম্যানেজ করেই নাকি মাটি কাটছেন তারা। আবার গভীর রাতে মাটি কেটে ট্রাকভর্তি করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এসব মাটি পরিবহনের কাজে নিয়োজিত রয়েছে অন্তত শতাধিক ট্রাক। উপজেলার প্রায় সব ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে প্রতিদিন এমন চিত্র এলাকাবাসীর চোখে পড়লেও প্রশাসনের নজরে আসছে না।

এদিকে খোলা অবস্থায় ট্রাক্টরে করে মাটি পরিবহন করা হচ্ছে। ফলে সড়কে পড়ছে মাটি। এতে নষ্ট হচ্ছে স্থানীয় সড়ক। সড়কে যেন মাটিবাহী ট্রাক্টরের দাপট চরমে। ফলে ধ্বংস হচ্ছে কাঁচা-পাকা সড়ক। আর দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসিদের। নেই কোনো প্রশাসনিক নজরদারি। কৃষি পণ্য উৎপাদনে এ জেলার সুনাম থাকলেও প্রতিবছরই শুষ্ক মৌসুম এলেই ফসলি জমি থেকে মাটি কাটার হিড়িক পড়ে যায়। আশপাশের জমির মাটি কেটে নেয়ায় অনেকেই আবার বাধ্য হয়ে নিজের জমির মাটি বিক্রি করে দিচ্ছেন। এতে কৃষিজমির পরিমাণ দিন দিন কমে যাচ্ছে।

গোপন সূত্রে জানা গেছে, যারা ভূমি অফিসের লোকদের সঙ্গে আতাত করে পুকুর খনন কিংবা মাটি কাটছে কিংবা কৃষি জমি মাটি দিয়ে ভরাট করছে তারা থাকছে আইনের বাহিরে। আর যারা আতাত না করে পুরাতন পুকুর সংস্কারের লক্ষ্যে নতুন করে খনন করছেন সেই জায়গায় গিয়ে জরিমানা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তারা। এছাড়া ভ্রাম্যমাণ অভিযানের সময় জব্দকৃত মাটি খননের উপকরণগুলো উপজেলা ভূমি অফিসে ফেরত নিতে গেলে ওই ব্যক্তিরও অর্থদন্ড করা হচ্ছে। প্রশাসনের এমন কর্মকান্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন স্থানীয় ভূক্তভোগীরা। এছাড়া প্রকাশ্যে পুকুর খননের মহোৎসবে প্রশাসনের নীরব ভূমিকা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে উপজেলার বড়গাছা ইউনিয়নের মালশন গ্রামের মৃত দেওয়ান নওশাদুল হকের ছেলে আব্দুর রউফ ঠান্ডু ফসল না হওয়ার অজুহাত দেখিয়ে শ্রেণি পরিবর্তন না করেই মালশন মোড় সড়ক সংলগ্ন মাটিয়াল খনন করে পুকুর তৈরি করছেন। অথচ ওমরপুর মৌজার খতিয়ানে থাকা প্রায় ১বিঘা ওই জমিটির শ্রেণি কৃষি জমি হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। জমির মাটি নেওয়ার শর্তে  স্থানীয় একজন ঠান্ডুর ওই জমি খনন করে পুকুর তৈরি করে দিচ্ছেন। আর অবৈধ যান ট্রাক্টরের মাধ্যমে গ্রামীণ সড়ক দিয়ে ওই মাটিগুলো পরিবহন করে বিক্রি করছেন বিভিন্ন এলাকায়।

এদিকে ফসলি জমি ধ্বংস করা নিষিদ্ধ থাকলেও তা মানছেন না প্রভাবশালীরা। মূলত কৃষিজমির মালিকদের আর্থিক সুবিধার টোপ দিয়ে বাধ্য করছে মাটি খেকোরা। আর তাৎক্ষণিক নগদ টাকা হাতে পেয়ে আগামীর চিন্তা না করেই জমির টপ সয়েল বিক্রি করছেন কৃষকরা। আবার অনেক কৃষক মাটি খেকোদের পাল্লায় পড়ে অপরিকল্পিত ভাবে এক ফসলী, দুই ফসলী কিংবা তিন ফসলী জমির শ্রেণি পরিবর্তন না করেই পুকুর খননের জন্য দিয়ে দিচ্ছেন। উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বর্তমানে এমন দৃশ্য চোখে পড়ার মতো। কৃষি জমি বাঁচাতে এবং গ্রামীণ সড়কগুলো চলাচলে নিরাপদ রাখতে এই ধরণের অবৈধ কর্মকান্ড দ্রুত রোধ করার জন্য সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন উপজেলাবাসী।

উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ হাফিজুর রহমানের বক্তব্য নেওয়ার জন্য মুঠোফোনে (০১৭৭৬৩৩৬৯৩৬) একাধিকবার ফোন দিলে তা রিসিভ না হওয়ায় বক্তব্য গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি।#



সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

কৃষি/শিল্প বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ৮৯০৭ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই